আলোচনার আভাসের মাঝেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা

আলোচনার আভাসের মাঝেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা
সিটিজেন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে আলোচনা চলছে বলে দাবি করলেও বাস্তবে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
সোমবার রাতভর ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তাবরিজ, ইস্পাহান এবং কারাজ শহরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইরানে দেড় হাজারেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে পরিকল্পিত হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত দুটি গ্যাস স্থাপনা ও একটি পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, ইস্পাহানের কাভেহ স্ট্রিটে অবস্থিত গ্যাস প্রশাসন ভবন ও একটি গ্যাস প্রেসার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়, যাতে স্থাপনাগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই সময়ে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খোররামশাহর এলাকায় একটি গ্যাস পাইপলাইনের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানানো হয়, পাইপলাইন প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের বাইরের অংশে এই হামলা হয়েছে।
এদিকে রাজধানী তেহরানেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজধানীর উত্তরাঞ্চলে নিজ বাসভবনে হামলায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক সাঈদ শামাগদারি তার দুই সন্তানসহ নিহত হন। তিনি ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। এর আগেও ইসরায়েল একাধিক ইরানি বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদের ওপর হামলা চালিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সামরিক কর্মসূচিতে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ইরানের জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান জাফর মিয়াদফার জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০৮ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৮ জন নিহত হয় মিনাভ শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে সম্ভাব্য ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলেও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে আসা ১৯টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কুয়েত সেনাবাহিনীও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করেছে বলে জানিয়েছে। কুয়েত শহরে রাতভর একাধিকবার সাইরেন বাজতে শোনা গেছে।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও পুরোপুরি থেমে নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মিশর, পাকিস্তান ও ওমানসহ কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনার বিষয়টি নাকচ করেছে।
ইরানের সংসদীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য ইসমাইল কাওসারি মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে ইরানকে অত্যন্ত সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
আল জাজিরার তেহরানভিত্তিক প্রতিবেদকের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধান আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইরানের পক্ষ থেকে মূলত দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বেগ জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, এই সংঘাতের সমাধান অবশ্যই আলোচনার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংকটাপন্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার মধ্যেই বাস্তবতা হলো—মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থেমে নেই এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে আলোচনা চলছে বলে দাবি করলেও বাস্তবে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
সোমবার রাতভর ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তাবরিজ, ইস্পাহান এবং কারাজ শহরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইরানে দেড় হাজারেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে পরিকল্পিত হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত দুটি গ্যাস স্থাপনা ও একটি পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, ইস্পাহানের কাভেহ স্ট্রিটে অবস্থিত গ্যাস প্রশাসন ভবন ও একটি গ্যাস প্রেসার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়, যাতে স্থাপনাগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই সময়ে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খোররামশাহর এলাকায় একটি গ্যাস পাইপলাইনের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানানো হয়, পাইপলাইন প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের বাইরের অংশে এই হামলা হয়েছে।
এদিকে রাজধানী তেহরানেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজধানীর উত্তরাঞ্চলে নিজ বাসভবনে হামলায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক সাঈদ শামাগদারি তার দুই সন্তানসহ নিহত হন। তিনি ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। এর আগেও ইসরায়েল একাধিক ইরানি বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদের ওপর হামলা চালিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সামরিক কর্মসূচিতে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ইরানের জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান জাফর মিয়াদফার জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০৮ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৮ জন নিহত হয় মিনাভ শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে সম্ভাব্য ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলেও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে আসা ১৯টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কুয়েত সেনাবাহিনীও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করেছে বলে জানিয়েছে। কুয়েত শহরে রাতভর একাধিকবার সাইরেন বাজতে শোনা গেছে।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও পুরোপুরি থেমে নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মিশর, পাকিস্তান ও ওমানসহ কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনার বিষয়টি নাকচ করেছে।
ইরানের সংসদীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য ইসমাইল কাওসারি মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে ইরানকে অত্যন্ত সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
আল জাজিরার তেহরানভিত্তিক প্রতিবেদকের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধান আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইরানের পক্ষ থেকে মূলত দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বেগ জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, এই সংঘাতের সমাধান অবশ্যই আলোচনার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংকটাপন্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার মধ্যেই বাস্তবতা হলো—মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থেমে নেই এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

আলোচনার আভাসের মাঝেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা
সিটিজেন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে আলোচনা চলছে বলে দাবি করলেও বাস্তবে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
সোমবার রাতভর ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তাবরিজ, ইস্পাহান এবং কারাজ শহরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ইরানে দেড় হাজারেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে পরিকল্পিত হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত দুটি গ্যাস স্থাপনা ও একটি পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, ইস্পাহানের কাভেহ স্ট্রিটে অবস্থিত গ্যাস প্রশাসন ভবন ও একটি গ্যাস প্রেসার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়, যাতে স্থাপনাগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই সময়ে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খোররামশাহর এলাকায় একটি গ্যাস পাইপলাইনের কাছেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানানো হয়, পাইপলাইন প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের বাইরের অংশে এই হামলা হয়েছে।
এদিকে রাজধানী তেহরানেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজধানীর উত্তরাঞ্চলে নিজ বাসভবনে হামলায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক সাঈদ শামাগদারি তার দুই সন্তানসহ নিহত হন। তিনি ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। এর আগেও ইসরায়েল একাধিক ইরানি বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদের ওপর হামলা চালিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সামরিক কর্মসূচিতে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ইরানের জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান জাফর মিয়াদফার জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০৮ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৮ জন নিহত হয় মিনাভ শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে সম্ভাব্য ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলেও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে আসা ১৯টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কুয়েত সেনাবাহিনীও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করেছে বলে জানিয়েছে। কুয়েত শহরে রাতভর একাধিকবার সাইরেন বাজতে শোনা গেছে।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও পুরোপুরি থেমে নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মিশর, পাকিস্তান ও ওমানসহ কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনার বিষয়টি নাকচ করেছে।
ইরানের সংসদীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য ইসমাইল কাওসারি মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে ইরানকে অত্যন্ত সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
আল জাজিরার তেহরানভিত্তিক প্রতিবেদকের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধান আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইরানের পক্ষ থেকে মূলত দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বেগ জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, এই সংঘাতের সমাধান অবশ্যই আলোচনার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংকটাপন্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার মধ্যেই বাস্তবতা হলো—মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থেমে নেই এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।




