ইরানে যুদ্ধের গুঞ্জন, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

ইরানে যুদ্ধের গুঞ্জন, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

৩০ জানুয়ারি রাত নামার সঙ্গে সঙ্গেই ইরানজুড়ে এবং প্রবাসে থাকা ইরানিদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে-মুখে ছড়িয়ে পড়ে গুঞ্জন– যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে। সেই আশঙ্কায় অনেকেই রাতভর ঘুমাতে পারেননি।
তেহরানে বসবাসরত ৪৩ বছর বয়সী এক প্রকৌশলী মিলাদ (ছদ্মনাম) বলেন, ‘আমি হামলার অপেক্ষায় ছিলাম। ভোর না হওয়া পর্যন্ত ঘুমাতে পারিনি। বারবার জেগে উঠেছি, কখন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়– সেটাই শুনছিলাম।’
৩১ জানুয়ারি সকালে তেহরানের একটি পার্কে নিয়মিত ব্যায়াম শেষে ফিরছিলেন ৬৮ বছর বয়সী সোহরেহ। তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধুরা সবাই বলছিলেন, রাতেই হামলা হবে।’ বিদেশি হামলার বিরোধিতা করে সোহরেহ বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দমন-পীড়নে ক্ষুব্ধ মানুষ এখন এতটাই মরিয়া যে তারা ভাবছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু তারা বুঝতে পারছে না, এতে তাদেরই আরও ক্ষতি হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি এবং ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির চুক্তি ইরানিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ভয় বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের ভেতরের অস্থিরতা। গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকটের জেরে তেহরানের একটি বাজার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমন করে।
সরকারি হিসাবে, ওই দমন-পীড়নে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হন। তবে পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, নিহতের সংখ্যা সাড়ে ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক বলে দাবি করা হলেও আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা এখনো এসব সংখ্যার স্বাধীন যাচাই করতে পারেনি। ওই ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি, সাধারণ মানুষ রয়ে গেছে আতঙ্কিত।
৩২ বছর বয়সী সরকারি চাকরিজীবী আরজু বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরোধী। তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে একধরনের চাপা উদ্বেগ কাজ করছে। গত গ্রীষ্মে ইসরায়েলের সঙ্গে ভয়াবহ যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে অনেকে যুদ্ধের কথা এড়িয়ে চলছেন। কিন্তু সবাই যেন প্রথম বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে।’ তিনি জানান, তার এক প্রতিবেশী জানালার কাচ সিল করে দিয়েছেন– বোমা পড়লে যেন ক্ষতি কম হয়।
বিক্ষোভ দমনের সময় ইরানে কয়েক সপ্তাহের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি ইন্টারনেট চালু হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে যুদ্ধ থেকে বাঁচার নানা পরামর্শ– ১০ দিনের খাবার ও পানি মজুত রাখা, জরুরি কাগজপত্রসহ একটি ব্যাগ প্রস্তুত রাখা, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম কাছে রাখা, বিস্ফোরণের শব্দ শুনলে খোলা জায়গায় চলে যাওয়া কিংবা দেয়ালের পাশে শুয়ে পড়ার নির্দেশনা। ফার্সি ভাষার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের পরামর্শের ছড়াছড়ি।
এসব তথ্যের উৎস স্পষ্ট নয়। তবে এর প্রভাব পড়ছে মানুষের আচরণে। আরজু জানান, সতর্কতার অংশ হিসেবে তিনি ১০ বোতল পানি ও কিছু কৌটার খাবার কিনে রেখেছেন। কিডনি রোগে আক্রান্ত ৭৫ বছর বয়সী আমিন তিন মাসের ওষুধ সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এগুলো হয়তো গুজব, তবু সাবধান থাকা ভালো। কাল কী হবে, কেউ জানে না।’
আমিন আট বছরের ইরান-ইরাক যুদ্ধ এবং গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ দেখেছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই তিনি ধর্মতান্ত্রিক শাসনের বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি বলেন, ‘এই শাসকেরা আমাদের সহযোদ্ধাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, এখন আমাদের সন্তানদের হত্যা করছে। তবু আমি যুদ্ধকে ঘৃণা করি। আরেকটি যুদ্ধ হলে যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সব ধ্বংস হয়ে যাবে।’
এই আতঙ্ক শুধু ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বাইরে থাকা প্রায় ৪০ লাখ প্রবাসী ইরানিও একই দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। তাদের ভয়– আবার ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেলে দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
ফিনল্যান্ডে বসবাসরত ফাতেমা তার বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। ১২ দিনের যুদ্ধের সময় তারা তেহরান ছাড়তে পারেননি। ফাতেমা বলেন, ‘আমি তাদের শহর ছেড়ে যেতে বলেছি। কিন্তু তারা বলেছে, যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা নেই। তাই এক বন্ধুকে অনুরোধ করেছেন, যেন মা-বাবার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও ওষুধ কিনে দেন।’
এদিকে ইরানের শহরগুলো আপাতত স্বাভাবিকই আছে। দোকানপাট খোলা, গ্যাস স্টেশনে ভিড় নেই, স্কুলবাসের জন্য শিশুরা অপেক্ষা করছে। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার আড়ালে চাপা রয়েছে গভীর শঙ্কা।
২৭ বছর বয়সী ছাত্র সরোশ জানান, ১২ দিনের যুদ্ধের সময় তিনি পরিবার নিয়ে দেশের উত্তরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এখন আগের মতো গণ-আতঙ্ক নেই। মানুষ যেন মানসিকভাবে প্রস্তুত। আমরা এখন জানি, যুদ্ধ কেমন হতে পারে।’
৪১ বছর বয়সী সাবা তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি সরকারের দমন-পীড়ন, প্রবাসী বিরোধী নেতাদের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সূত্র:মিডল ইস্ট আই

৩০ জানুয়ারি রাত নামার সঙ্গে সঙ্গেই ইরানজুড়ে এবং প্রবাসে থাকা ইরানিদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে-মুখে ছড়িয়ে পড়ে গুঞ্জন– যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে। সেই আশঙ্কায় অনেকেই রাতভর ঘুমাতে পারেননি।
তেহরানে বসবাসরত ৪৩ বছর বয়সী এক প্রকৌশলী মিলাদ (ছদ্মনাম) বলেন, ‘আমি হামলার অপেক্ষায় ছিলাম। ভোর না হওয়া পর্যন্ত ঘুমাতে পারিনি। বারবার জেগে উঠেছি, কখন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়– সেটাই শুনছিলাম।’
৩১ জানুয়ারি সকালে তেহরানের একটি পার্কে নিয়মিত ব্যায়াম শেষে ফিরছিলেন ৬৮ বছর বয়সী সোহরেহ। তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধুরা সবাই বলছিলেন, রাতেই হামলা হবে।’ বিদেশি হামলার বিরোধিতা করে সোহরেহ বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দমন-পীড়নে ক্ষুব্ধ মানুষ এখন এতটাই মরিয়া যে তারা ভাবছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু তারা বুঝতে পারছে না, এতে তাদেরই আরও ক্ষতি হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি এবং ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির চুক্তি ইরানিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ভয় বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের ভেতরের অস্থিরতা। গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকটের জেরে তেহরানের একটি বাজার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমন করে।
সরকারি হিসাবে, ওই দমন-পীড়নে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হন। তবে পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, নিহতের সংখ্যা সাড়ে ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক বলে দাবি করা হলেও আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা এখনো এসব সংখ্যার স্বাধীন যাচাই করতে পারেনি। ওই ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি, সাধারণ মানুষ রয়ে গেছে আতঙ্কিত।
৩২ বছর বয়সী সরকারি চাকরিজীবী আরজু বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরোধী। তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে একধরনের চাপা উদ্বেগ কাজ করছে। গত গ্রীষ্মে ইসরায়েলের সঙ্গে ভয়াবহ যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে অনেকে যুদ্ধের কথা এড়িয়ে চলছেন। কিন্তু সবাই যেন প্রথম বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে।’ তিনি জানান, তার এক প্রতিবেশী জানালার কাচ সিল করে দিয়েছেন– বোমা পড়লে যেন ক্ষতি কম হয়।
বিক্ষোভ দমনের সময় ইরানে কয়েক সপ্তাহের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি ইন্টারনেট চালু হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে যুদ্ধ থেকে বাঁচার নানা পরামর্শ– ১০ দিনের খাবার ও পানি মজুত রাখা, জরুরি কাগজপত্রসহ একটি ব্যাগ প্রস্তুত রাখা, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম কাছে রাখা, বিস্ফোরণের শব্দ শুনলে খোলা জায়গায় চলে যাওয়া কিংবা দেয়ালের পাশে শুয়ে পড়ার নির্দেশনা। ফার্সি ভাষার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের পরামর্শের ছড়াছড়ি।
এসব তথ্যের উৎস স্পষ্ট নয়। তবে এর প্রভাব পড়ছে মানুষের আচরণে। আরজু জানান, সতর্কতার অংশ হিসেবে তিনি ১০ বোতল পানি ও কিছু কৌটার খাবার কিনে রেখেছেন। কিডনি রোগে আক্রান্ত ৭৫ বছর বয়সী আমিন তিন মাসের ওষুধ সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এগুলো হয়তো গুজব, তবু সাবধান থাকা ভালো। কাল কী হবে, কেউ জানে না।’
আমিন আট বছরের ইরান-ইরাক যুদ্ধ এবং গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ দেখেছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই তিনি ধর্মতান্ত্রিক শাসনের বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি বলেন, ‘এই শাসকেরা আমাদের সহযোদ্ধাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, এখন আমাদের সন্তানদের হত্যা করছে। তবু আমি যুদ্ধকে ঘৃণা করি। আরেকটি যুদ্ধ হলে যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সব ধ্বংস হয়ে যাবে।’
এই আতঙ্ক শুধু ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বাইরে থাকা প্রায় ৪০ লাখ প্রবাসী ইরানিও একই দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। তাদের ভয়– আবার ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেলে দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
ফিনল্যান্ডে বসবাসরত ফাতেমা তার বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। ১২ দিনের যুদ্ধের সময় তারা তেহরান ছাড়তে পারেননি। ফাতেমা বলেন, ‘আমি তাদের শহর ছেড়ে যেতে বলেছি। কিন্তু তারা বলেছে, যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা নেই। তাই এক বন্ধুকে অনুরোধ করেছেন, যেন মা-বাবার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও ওষুধ কিনে দেন।’
এদিকে ইরানের শহরগুলো আপাতত স্বাভাবিকই আছে। দোকানপাট খোলা, গ্যাস স্টেশনে ভিড় নেই, স্কুলবাসের জন্য শিশুরা অপেক্ষা করছে। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার আড়ালে চাপা রয়েছে গভীর শঙ্কা।
২৭ বছর বয়সী ছাত্র সরোশ জানান, ১২ দিনের যুদ্ধের সময় তিনি পরিবার নিয়ে দেশের উত্তরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এখন আগের মতো গণ-আতঙ্ক নেই। মানুষ যেন মানসিকভাবে প্রস্তুত। আমরা এখন জানি, যুদ্ধ কেমন হতে পারে।’
৪১ বছর বয়সী সাবা তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি সরকারের দমন-পীড়ন, প্রবাসী বিরোধী নেতাদের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সূত্র:মিডল ইস্ট আই

ইরানে যুদ্ধের গুঞ্জন, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

৩০ জানুয়ারি রাত নামার সঙ্গে সঙ্গেই ইরানজুড়ে এবং প্রবাসে থাকা ইরানিদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে-মুখে ছড়িয়ে পড়ে গুঞ্জন– যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে। সেই আশঙ্কায় অনেকেই রাতভর ঘুমাতে পারেননি।
তেহরানে বসবাসরত ৪৩ বছর বয়সী এক প্রকৌশলী মিলাদ (ছদ্মনাম) বলেন, ‘আমি হামলার অপেক্ষায় ছিলাম। ভোর না হওয়া পর্যন্ত ঘুমাতে পারিনি। বারবার জেগে উঠেছি, কখন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়– সেটাই শুনছিলাম।’
৩১ জানুয়ারি সকালে তেহরানের একটি পার্কে নিয়মিত ব্যায়াম শেষে ফিরছিলেন ৬৮ বছর বয়সী সোহরেহ। তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধুরা সবাই বলছিলেন, রাতেই হামলা হবে।’ বিদেশি হামলার বিরোধিতা করে সোহরেহ বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দমন-পীড়নে ক্ষুব্ধ মানুষ এখন এতটাই মরিয়া যে তারা ভাবছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু তারা বুঝতে পারছে না, এতে তাদেরই আরও ক্ষতি হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি এবং ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির চুক্তি ইরানিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ভয় বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের ভেতরের অস্থিরতা। গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকটের জেরে তেহরানের একটি বাজার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমন করে।
সরকারি হিসাবে, ওই দমন-পীড়নে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হন। তবে পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, নিহতের সংখ্যা সাড়ে ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক বলে দাবি করা হলেও আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থা এখনো এসব সংখ্যার স্বাধীন যাচাই করতে পারেনি। ওই ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি, সাধারণ মানুষ রয়ে গেছে আতঙ্কিত।
৩২ বছর বয়সী সরকারি চাকরিজীবী আরজু বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরোধী। তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে একধরনের চাপা উদ্বেগ কাজ করছে। গত গ্রীষ্মে ইসরায়েলের সঙ্গে ভয়াবহ যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে অনেকে যুদ্ধের কথা এড়িয়ে চলছেন। কিন্তু সবাই যেন প্রথম বিস্ফোরণের অপেক্ষায় আছে।’ তিনি জানান, তার এক প্রতিবেশী জানালার কাচ সিল করে দিয়েছেন– বোমা পড়লে যেন ক্ষতি কম হয়।
বিক্ষোভ দমনের সময় ইরানে কয়েক সপ্তাহের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি ইন্টারনেট চালু হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে যুদ্ধ থেকে বাঁচার নানা পরামর্শ– ১০ দিনের খাবার ও পানি মজুত রাখা, জরুরি কাগজপত্রসহ একটি ব্যাগ প্রস্তুত রাখা, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম কাছে রাখা, বিস্ফোরণের শব্দ শুনলে খোলা জায়গায় চলে যাওয়া কিংবা দেয়ালের পাশে শুয়ে পড়ার নির্দেশনা। ফার্সি ভাষার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের পরামর্শের ছড়াছড়ি।
এসব তথ্যের উৎস স্পষ্ট নয়। তবে এর প্রভাব পড়ছে মানুষের আচরণে। আরজু জানান, সতর্কতার অংশ হিসেবে তিনি ১০ বোতল পানি ও কিছু কৌটার খাবার কিনে রেখেছেন। কিডনি রোগে আক্রান্ত ৭৫ বছর বয়সী আমিন তিন মাসের ওষুধ সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এগুলো হয়তো গুজব, তবু সাবধান থাকা ভালো। কাল কী হবে, কেউ জানে না।’
আমিন আট বছরের ইরান-ইরাক যুদ্ধ এবং গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ দেখেছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই তিনি ধর্মতান্ত্রিক শাসনের বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি বলেন, ‘এই শাসকেরা আমাদের সহযোদ্ধাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, এখন আমাদের সন্তানদের হত্যা করছে। তবু আমি যুদ্ধকে ঘৃণা করি। আরেকটি যুদ্ধ হলে যা কিছু অবশিষ্ট আছে, সব ধ্বংস হয়ে যাবে।’
এই আতঙ্ক শুধু ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বাইরে থাকা প্রায় ৪০ লাখ প্রবাসী ইরানিও একই দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। তাদের ভয়– আবার ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেলে দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
ফিনল্যান্ডে বসবাসরত ফাতেমা তার বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। ১২ দিনের যুদ্ধের সময় তারা তেহরান ছাড়তে পারেননি। ফাতেমা বলেন, ‘আমি তাদের শহর ছেড়ে যেতে বলেছি। কিন্তু তারা বলেছে, যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা নেই। তাই এক বন্ধুকে অনুরোধ করেছেন, যেন মা-বাবার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও ওষুধ কিনে দেন।’
এদিকে ইরানের শহরগুলো আপাতত স্বাভাবিকই আছে। দোকানপাট খোলা, গ্যাস স্টেশনে ভিড় নেই, স্কুলবাসের জন্য শিশুরা অপেক্ষা করছে। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার আড়ালে চাপা রয়েছে গভীর শঙ্কা।
২৭ বছর বয়সী ছাত্র সরোশ জানান, ১২ দিনের যুদ্ধের সময় তিনি পরিবার নিয়ে দেশের উত্তরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এখন আগের মতো গণ-আতঙ্ক নেই। মানুষ যেন মানসিকভাবে প্রস্তুত। আমরা এখন জানি, যুদ্ধ কেমন হতে পারে।’
৪১ বছর বয়সী সাবা তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি সরকারের দমন-পীড়ন, প্রবাসী বিরোধী নেতাদের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সূত্র:মিডল ইস্ট আই




