শিরোনাম

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, নারী-শিশুসহ নিহত ৩২

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা, নারী-শিশুসহ নিহত ৩২
গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন। ছবি: রয়টার্স

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলের একাধিক বিমান হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস পরিচালিত গাজার সিভিল ডিফেন্স বিভাগ।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করা হয়ে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, শুক্রবার হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে– এমন অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় একাধিক হামলা চালানো হয়েছে।

গত অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্ততায় গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায় কার্যকর হয়। আর এর দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় চলতি বছরের শুরুর দিকে।

যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর পর থেকে ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করে আসছে। শনিবারের এসব হামলাকে ‘সবচেয়ে জোরালো’ বলে মনে করেছেন ফিলিস্তিনিরা।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) দাবি করে, পূর্ব রাফা এলাকায় ‘ভূগর্ভস্থ সন্ত্রাসী অবকাঠামো থেকে বেরিয়ে আসা ৮ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে।’ অঞ্চলটি অক্টোবর চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আইডিএফ জানায়, ইসরায়েল সিকিউরিটি এজেন্সির (আইএসএ) সঙ্গে যৌথভাবে তারা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে।

হামাস এসব হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, চুক্তির এই লঙ্ঘন প্রমাণ করে যে, ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় তাদের নির্মম গণহত্যামূলক যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে।

হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৭ জন ছিলেন খান ইউনিসের একটি বাস্তুচ্যুত পরিবারের সদস্য। সিভিল ডিফেন্সের এক মুখপাত্র জানান, হামলায় আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট, তাঁবু, আশ্রয়কেন্দ্র ও একটি পুলিশ স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গাজা সিটির শিফা হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, শহরে চালানো একটি বিমান হামলায় একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এতে ৩ শিশু ও ২ নারী নিহত হন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গাজা সিটিতে একটি পুলিশ স্টেশনেও হামলা হয়েছে, এতে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।

হামলাগুলো এমন সময়ে হয়েছে, যখন চলতি সপ্তাহের শুরুতে সর্বশেষ জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করার পর গাজার মিসর সীমান্তবর্তী রাফা ক্রসিং রবিবার পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে ইসরায়েলের।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত ৭১ হাজার ৬৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ৫০৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ৪ জন ইসরায়েলি সেনারও প্রাণ গেছে।

/এফসি/