হঠাৎ স্পেনে ঢুকলো ৬০ হাজার অভিবাসী, জানা গেলো কারণ

হঠাৎ স্পেনে ঢুকলো ৬০ হাজার অভিবাসী, জানা গেলো কারণ
সিজেডএন ডেস্ক

মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ অঞ্চল সেউতায় গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছে। মাত্র ৮৩ হাজার ৬০০ জনসংখ্যার এ ছোট স্বায়ত্তশাসিত শহরে এক দিনে এত মানুষের আগমনে স্থানীয় জীবনযাত্রা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। সমুদ্রপথে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে পারাপারের সময় অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কিন্তু হঠাৎ কেন স্পেন সীমান্তে হাজারো মানুষের ঢল নামলো?
আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপের দুটি স্থলসীমান্তের একটি হলো সেউতা শহর। এর আয়তন মাত্র ১৮ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার। শহরটি উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত হলেও এটি স্পেনের অংশ। তাই সেউতায় প্রবেশের অর্থ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূখণ্ডে প্রবেশ। এই শহর থেকে জিব্রাল্টার প্রণালি পার হলেই ইউরোপ। উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকার দেশগুলো থেকে অনেকেই ইউরোপে যাওয়ার সুযোগের সন্ধানে থাকেন।
হঠাৎ এমন গণ-অনুপ্রবেশের পেছনে স্পেনের সর্বোচ্চ আদালতের একটি সাম্প্রতিক রায়কে দায়ী করা হচ্ছে। রায়ে বলা হয়েছিল, সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টাকালে সমুদ্রে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না। মানবপাচারকারী চক্র এই আইনি সুযোগ ও ছড়ানো গুজবকে কাজে লাগিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) থেকে কোনো বাধা ছাড়াই হাজার হাজার মানুষকে সাঁতরে কিংবা জেটির পাথর ঘুরে সেউতার সৈকতে প্রবেশ করতে দেখা যায়। প্রবেশকারীদের মধ্যে প্রধানত তরুণেরা থাকলেও বড় একটি অংশ শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক, যার সংখ্যা অন্তত ৭ হাজার। পারাপারের সময় মরক্কোর সীমান্তরক্ষীরা কেন নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তবে এই সংখ্যাটা ৬০ হাজারের অনেক বেশি হতে পারতো। তবে অনেকেই সেখানে পৌঁছাতে পারেননি। তেমনই একজন মরক্কোর ফাতিমা জাহরা। তিনি বলেন, ‘স্পেন ও মরক্কোর মধ্যকার সেউতা সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই এমন খবর শুনতে পাই। আমি তাঞ্জানিয়ায়। সেখানে আমার সঙ্গে থাকা লোকজনকে বললাম, চলো সেউতায় যাই। ভাগ্যটা বদলানোর চেষ্টা করে দেখি।’
ইউরোপে যেতে চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে জাহরা বলেন, ‘এখানে ভয়াবহ পরিবেশে কাজ করতে হয়।’
তবে শেষ পর্যন্ত ইউরোপের মাটিতে পৌঁছাতে পারেননি জাহরা। মরক্কো সীমান্তে নিরাপত্তাবাহিনীর বাধায় ফিরে যেতে বাধ্য হন তিনি।
সীমান্ত থেকে ফেরত আসা আরেক অভিবাসনপ্রত্যাশী করিম বলেন, ‘হঠাৎ শুনলাম কয়েকজন সফলভাবে সেউতায় ঢুকেছেন। তখন আমিও সাহস নিয়ে সীমান্তে যাই। আমার মতো আরও অনেকে একই খবর শুনে সীমান্তে জড়ো হয়েছেন।’
গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ইউরোপীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের পর কয়েকজন তরুণ বিজয়সূচক ‘ভি’ চিহ্ন দেখাচ্ছেন। শহরের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে তারা বলছেন, ‘বিদায় মরক্কো, স্বাগত স্পেন।’ এদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে।
সেউতায় স্প্যানিশ পুলিশকে খুব একটা হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সীমান্তে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মরক্কো পুলিশ। জড়ো হওয়া মানুষদের সরিয়ে দিতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করছে তারা।
সীমান্তে যা ঘটছে
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, মরক্কো অংশে বিশাল অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঠেকানোর চেষ্টা করছেন স্পেনের নিরাপত্তাকর্মীরা। রাতভর ফনিদেক শহরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা গেছে। সেখানে হাজারো অভিবাসনপ্রত্যাশী জড়ো হয়েছিলেন। অনেকে দলবদ্ধভাবে সীমান্ত ফটকের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেছেন। বাধা দিলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়। এ সময় অন্তত ৮টি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেউতায় সশস্ত্র বাহিনীর ও সিভিল গার্ডের সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দেয় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

যা বলছে স্পেন
উদ্ভূত এই পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে শুক্রবার সেউতা সফর করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা। চলমান পরিস্থিতি ‘অপ্রত্যাশিত’ উল্লেখ করে সানচেজ। তিনি বলেন, ‘সেউতার নিরাপত্তাকে মাদ্রিদের নিরাপত্তার মতোই গুরুত্ব দিয়ে রক্ষা করা হবে।’
যত দ্রুত সম্ভব মরক্কোয় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফেরত পাঠানো হবে। মরক্কোর সঙ্গে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ আলোচনা করেছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে মরক্কো রাজি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সানচেজ।
তিনি আরও বলেন, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনের স্পেনের বিদ্যমান আইনে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
ইউরোপের নেতারা কী বলছেন
ঘটনাটি ঘিরে সমগ্র ইউরোপজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশ পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে স্পেনকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে ইতালি, ফিনল্যান্ড ও জার্মানির মতো দেশগুলো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে স্পেনের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ঘটনাটিকে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি আখ্যা দিয়ে শেনজেন জোনের মুক্ত চলাচল চুক্তি স্থগিতের ইঙ্গিত দিলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। স্পেন ইতোমধ্যেই মাদ্রিদে নিযুক্ত ইতালীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ে মরক্কোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
অন্যদিকে স্পেনের সঙ্গে সীমান্তে তল্লাশি জোরদার করেছে ফ্রান্স। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের মাধ্যমে স্পেনকে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
সূত্র: বিবিসি, এএফপি

মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ অঞ্চল সেউতায় গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছে। মাত্র ৮৩ হাজার ৬০০ জনসংখ্যার এ ছোট স্বায়ত্তশাসিত শহরে এক দিনে এত মানুষের আগমনে স্থানীয় জীবনযাত্রা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। সমুদ্রপথে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে পারাপারের সময় অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কিন্তু হঠাৎ কেন স্পেন সীমান্তে হাজারো মানুষের ঢল নামলো?
আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপের দুটি স্থলসীমান্তের একটি হলো সেউতা শহর। এর আয়তন মাত্র ১৮ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার। শহরটি উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত হলেও এটি স্পেনের অংশ। তাই সেউতায় প্রবেশের অর্থ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূখণ্ডে প্রবেশ। এই শহর থেকে জিব্রাল্টার প্রণালি পার হলেই ইউরোপ। উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকার দেশগুলো থেকে অনেকেই ইউরোপে যাওয়ার সুযোগের সন্ধানে থাকেন।
হঠাৎ এমন গণ-অনুপ্রবেশের পেছনে স্পেনের সর্বোচ্চ আদালতের একটি সাম্প্রতিক রায়কে দায়ী করা হচ্ছে। রায়ে বলা হয়েছিল, সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টাকালে সমুদ্রে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না। মানবপাচারকারী চক্র এই আইনি সুযোগ ও ছড়ানো গুজবকে কাজে লাগিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) থেকে কোনো বাধা ছাড়াই হাজার হাজার মানুষকে সাঁতরে কিংবা জেটির পাথর ঘুরে সেউতার সৈকতে প্রবেশ করতে দেখা যায়। প্রবেশকারীদের মধ্যে প্রধানত তরুণেরা থাকলেও বড় একটি অংশ শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক, যার সংখ্যা অন্তত ৭ হাজার। পারাপারের সময় মরক্কোর সীমান্তরক্ষীরা কেন নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তবে এই সংখ্যাটা ৬০ হাজারের অনেক বেশি হতে পারতো। তবে অনেকেই সেখানে পৌঁছাতে পারেননি। তেমনই একজন মরক্কোর ফাতিমা জাহরা। তিনি বলেন, ‘স্পেন ও মরক্কোর মধ্যকার সেউতা সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই এমন খবর শুনতে পাই। আমি তাঞ্জানিয়ায়। সেখানে আমার সঙ্গে থাকা লোকজনকে বললাম, চলো সেউতায় যাই। ভাগ্যটা বদলানোর চেষ্টা করে দেখি।’
ইউরোপে যেতে চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে জাহরা বলেন, ‘এখানে ভয়াবহ পরিবেশে কাজ করতে হয়।’
তবে শেষ পর্যন্ত ইউরোপের মাটিতে পৌঁছাতে পারেননি জাহরা। মরক্কো সীমান্তে নিরাপত্তাবাহিনীর বাধায় ফিরে যেতে বাধ্য হন তিনি।
সীমান্ত থেকে ফেরত আসা আরেক অভিবাসনপ্রত্যাশী করিম বলেন, ‘হঠাৎ শুনলাম কয়েকজন সফলভাবে সেউতায় ঢুকেছেন। তখন আমিও সাহস নিয়ে সীমান্তে যাই। আমার মতো আরও অনেকে একই খবর শুনে সীমান্তে জড়ো হয়েছেন।’
গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ইউরোপীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের পর কয়েকজন তরুণ বিজয়সূচক ‘ভি’ চিহ্ন দেখাচ্ছেন। শহরের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে তারা বলছেন, ‘বিদায় মরক্কো, স্বাগত স্পেন।’ এদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে।
সেউতায় স্প্যানিশ পুলিশকে খুব একটা হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সীমান্তে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মরক্কো পুলিশ। জড়ো হওয়া মানুষদের সরিয়ে দিতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করছে তারা।
সীমান্তে যা ঘটছে
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, মরক্কো অংশে বিশাল অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঠেকানোর চেষ্টা করছেন স্পেনের নিরাপত্তাকর্মীরা। রাতভর ফনিদেক শহরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা গেছে। সেখানে হাজারো অভিবাসনপ্রত্যাশী জড়ো হয়েছিলেন। অনেকে দলবদ্ধভাবে সীমান্ত ফটকের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেছেন। বাধা দিলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়। এ সময় অন্তত ৮টি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেউতায় সশস্ত্র বাহিনীর ও সিভিল গার্ডের সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দেয় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

যা বলছে স্পেন
উদ্ভূত এই পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে শুক্রবার সেউতা সফর করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা। চলমান পরিস্থিতি ‘অপ্রত্যাশিত’ উল্লেখ করে সানচেজ। তিনি বলেন, ‘সেউতার নিরাপত্তাকে মাদ্রিদের নিরাপত্তার মতোই গুরুত্ব দিয়ে রক্ষা করা হবে।’
যত দ্রুত সম্ভব মরক্কোয় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফেরত পাঠানো হবে। মরক্কোর সঙ্গে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ আলোচনা করেছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে মরক্কো রাজি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সানচেজ।
তিনি আরও বলেন, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনের স্পেনের বিদ্যমান আইনে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
ইউরোপের নেতারা কী বলছেন
ঘটনাটি ঘিরে সমগ্র ইউরোপজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশ পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে স্পেনকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে ইতালি, ফিনল্যান্ড ও জার্মানির মতো দেশগুলো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে স্পেনের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ঘটনাটিকে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি আখ্যা দিয়ে শেনজেন জোনের মুক্ত চলাচল চুক্তি স্থগিতের ইঙ্গিত দিলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। স্পেন ইতোমধ্যেই মাদ্রিদে নিযুক্ত ইতালীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ে মরক্কোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
অন্যদিকে স্পেনের সঙ্গে সীমান্তে তল্লাশি জোরদার করেছে ফ্রান্স। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের মাধ্যমে স্পেনকে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
সূত্র: বিবিসি, এএফপি

হঠাৎ স্পেনে ঢুকলো ৬০ হাজার অভিবাসী, জানা গেলো কারণ
সিজেডএন ডেস্ক

মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ অঞ্চল সেউতায় গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছে। মাত্র ৮৩ হাজার ৬০০ জনসংখ্যার এ ছোট স্বায়ত্তশাসিত শহরে এক দিনে এত মানুষের আগমনে স্থানীয় জীবনযাত্রা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। সমুদ্রপথে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে পারাপারের সময় অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
কিন্তু হঠাৎ কেন স্পেন সীমান্তে হাজারো মানুষের ঢল নামলো?
আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপের দুটি স্থলসীমান্তের একটি হলো সেউতা শহর। এর আয়তন মাত্র ১৮ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার। শহরটি উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত হলেও এটি স্পেনের অংশ। তাই সেউতায় প্রবেশের অর্থ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূখণ্ডে প্রবেশ। এই শহর থেকে জিব্রাল্টার প্রণালি পার হলেই ইউরোপ। উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকার দেশগুলো থেকে অনেকেই ইউরোপে যাওয়ার সুযোগের সন্ধানে থাকেন।
হঠাৎ এমন গণ-অনুপ্রবেশের পেছনে স্পেনের সর্বোচ্চ আদালতের একটি সাম্প্রতিক রায়কে দায়ী করা হচ্ছে। রায়ে বলা হয়েছিল, সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টাকালে সমুদ্রে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না। মানবপাচারকারী চক্র এই আইনি সুযোগ ও ছড়ানো গুজবকে কাজে লাগিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) থেকে কোনো বাধা ছাড়াই হাজার হাজার মানুষকে সাঁতরে কিংবা জেটির পাথর ঘুরে সেউতার সৈকতে প্রবেশ করতে দেখা যায়। প্রবেশকারীদের মধ্যে প্রধানত তরুণেরা থাকলেও বড় একটি অংশ শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক, যার সংখ্যা অন্তত ৭ হাজার। পারাপারের সময় মরক্কোর সীমান্তরক্ষীরা কেন নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তবে এই সংখ্যাটা ৬০ হাজারের অনেক বেশি হতে পারতো। তবে অনেকেই সেখানে পৌঁছাতে পারেননি। তেমনই একজন মরক্কোর ফাতিমা জাহরা। তিনি বলেন, ‘স্পেন ও মরক্কোর মধ্যকার সেউতা সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই এমন খবর শুনতে পাই। আমি তাঞ্জানিয়ায়। সেখানে আমার সঙ্গে থাকা লোকজনকে বললাম, চলো সেউতায় যাই। ভাগ্যটা বদলানোর চেষ্টা করে দেখি।’
ইউরোপে যেতে চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে জাহরা বলেন, ‘এখানে ভয়াবহ পরিবেশে কাজ করতে হয়।’
তবে শেষ পর্যন্ত ইউরোপের মাটিতে পৌঁছাতে পারেননি জাহরা। মরক্কো সীমান্তে নিরাপত্তাবাহিনীর বাধায় ফিরে যেতে বাধ্য হন তিনি।
সীমান্ত থেকে ফেরত আসা আরেক অভিবাসনপ্রত্যাশী করিম বলেন, ‘হঠাৎ শুনলাম কয়েকজন সফলভাবে সেউতায় ঢুকেছেন। তখন আমিও সাহস নিয়ে সীমান্তে যাই। আমার মতো আরও অনেকে একই খবর শুনে সীমান্তে জড়ো হয়েছেন।’
গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ইউরোপীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের পর কয়েকজন তরুণ বিজয়সূচক ‘ভি’ চিহ্ন দেখাচ্ছেন। শহরের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে তারা বলছেন, ‘বিদায় মরক্কো, স্বাগত স্পেন।’ এদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে।
সেউতায় স্প্যানিশ পুলিশকে খুব একটা হস্তক্ষেপ করতে দেখা যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সীমান্তে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মরক্কো পুলিশ। জড়ো হওয়া মানুষদের সরিয়ে দিতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করছে তারা।
সীমান্তে যা ঘটছে
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, মরক্কো অংশে বিশাল অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঠেকানোর চেষ্টা করছেন স্পেনের নিরাপত্তাকর্মীরা। রাতভর ফনিদেক শহরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা গেছে। সেখানে হাজারো অভিবাসনপ্রত্যাশী জড়ো হয়েছিলেন। অনেকে দলবদ্ধভাবে সীমান্ত ফটকের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেছেন। বাধা দিলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষও হয়। এ সময় অন্তত ৮টি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেউতায় সশস্ত্র বাহিনীর ও সিভিল গার্ডের সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দেয় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

যা বলছে স্পেন
উদ্ভূত এই পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে শুক্রবার সেউতা সফর করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা। চলমান পরিস্থিতি ‘অপ্রত্যাশিত’ উল্লেখ করে সানচেজ। তিনি বলেন, ‘সেউতার নিরাপত্তাকে মাদ্রিদের নিরাপত্তার মতোই গুরুত্ব দিয়ে রক্ষা করা হবে।’
যত দ্রুত সম্ভব মরক্কোয় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফেরত পাঠানো হবে। মরক্কোর সঙ্গে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ আলোচনা করেছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে মরক্কো রাজি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সানচেজ।
তিনি আরও বলেন, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনের স্পেনের বিদ্যমান আইনে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
ইউরোপের নেতারা কী বলছেন
ঘটনাটি ঘিরে সমগ্র ইউরোপজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশ পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে স্পেনকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে ইতালি, ফিনল্যান্ড ও জার্মানির মতো দেশগুলো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে স্পেনের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ঘটনাটিকে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি আখ্যা দিয়ে শেনজেন জোনের মুক্ত চলাচল চুক্তি স্থগিতের ইঙ্গিত দিলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। স্পেন ইতোমধ্যেই মাদ্রিদে নিযুক্ত ইতালীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ে মরক্কোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
অন্যদিকে স্পেনের সঙ্গে সীমান্তে তল্লাশি জোরদার করেছে ফ্রান্স। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের মাধ্যমে স্পেনকে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
সূত্র: বিবিসি, এএফপি

স্পেনকে ‘শেনজেন’ থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান মেলোনির
মরক্কো থেকে স্পেনে ঢুকলো ৬০ হাজার অভিবাসী, ৩৪ জনের মৃত্যু
ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ফ্রান্স ও স্পেন







