ইতালিতে স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ইতালিতে স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি

ইতালির শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাস হওয়া এ নতুন নিয়মের আওতায় দেশটির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব পরা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় দুর্বল এমন বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী মেলোনি। তিনি লিখেছেন, ‘নতুন নিয়মে শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় দুর্বল শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশে সীমিত রাখা এবং ইতালীয় ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি স্কুলে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

নতুন অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, কোনো শিশু যদি স্কুলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়, তবে সে বিষয়টি সামাজিক সেবা সংস্থাকে জানানো হবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের জন্য বিনামূল্যে আয়োজিত ইতালীয় ভাষার ক্লাসে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর এ নির্দেশ অমান্য করলে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ এক হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা গুণতে হতে পারে।

ইতালির শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা এ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, ভাষাগত দক্ষতার ঘাটতি শিক্ষার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে। তার মতে, বর্তমানে দেশটির প্রায় ৩৪ হাজার শ্রেণিকক্ষে ৩০ শতাংশের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে নতুন এ কড়াকড়ি কেবল নতুন আসা শিক্ষার্থীদের জন্যই প্রযোজ্য হবে। ইতালিতে জন্ম নেওয়া কিংবা দেশটির কিন্ডারগার্টেনে পড়াশোনা করা শিশুদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।

এদিকে বোরকা নিষিদ্ধের বিষয়টিকে সম্পূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী মেলোনি। তার মতে, ‘কোনো নারী বা অল্পবয়সী মেয়েকে মুখ ঢাকতে বাধ্য করা হলে তার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।’

তবে সরকারের এমন কঠোর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। সংস্থাটির মতে, ‘জাতীয়তা বা ইতালীয় ভাষায় দুর্বলতার কারণে শিশুদের আলাদা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হলে শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য তৈরি হতে পারে।’

সূত্র: ফ্রান্স ২৪

/এমএকে/