শিরোনাম

যুক্তরাজ্যে অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় পানি সাশ্রয়ের পরামর্শ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
যুক্তরাজ্যে অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় পানি সাশ্রয়ের পরামর্শ

যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের অজু করার সময় এবং এশীয় সম্প্রদায়কে চাল ধোয়ার ক্ষেত্রে পানি অপচয় কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কেমব্রিজে পরিচালিত একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে স্থানীয় মুসলিমদের অজুর সময় প্রবাহমান পানির বদলে এক লিটারের বোতল ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়। গবেষণায় বলা হয়, অনেকে দিনে পাঁচবার অজুতে ১২ লিটার পর্যন্ত পানি খরচ করেন, অথচ বোতল ব্যবহার করলে মাথাপিছু দিনে ৫৫ লিটার পর্যন্ত পানি সাশ্রয় সম্ভব।

ধর্মীয় ইতিহাস অনুযায়ী, নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-ও অজুতে এক লিটারের বেশি পানি ব্যবহার করতেন না। একই কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড ব্যয়ে মাস্টারশেফ বিজয়ী শেফ পিং কুম্বসকে দিয়ে কম পানিতে ভাত রান্নার কৌশল শেখানো হয়। ইউটিউবের একটি ভিডিওতে কুম্বস বলেন, ‘পানি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত চাল পাঁচ থেকে সাতবার ধোয়া একটি প্রচলিত অভ্যাস। এটি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে, চাল এতবার ধোয়ার কি সত্যিই কোনো প্রয়োজন আছে? আমি আসলে আমার চাল মাত্র দুইবার ধুই।’

তবে এই উদ্যোগটি ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, সাধারণ মানুষকে উপদেশ না দিয়ে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত নিজস্ব জরাজীর্ণ পাইপলাইন মেরামত করা। গ্রিনপিস ইউকের গবেষণা অনুযায়ী, পাইপ ফুটো হয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রতিদিন প্রায় ২৮৭ কোটি লিটার পানি নষ্ট হয়, যা দিয়ে ১,১৫০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুল পূর্ণ করা সম্ভব।

এ বিষয়ে ক্যাবিনেট অফিসের ছায়া মন্ত্রী মাইক উড বলেন, ‘পানির অপচয় কমানো একটি মহৎ উদ্দেশ্য, কিন্তু এখানে বড় বিষয়টি হলো করদাতাদের অর্থের অপচয়।’ তিনি যোগ করেন, যেখানে পানির বিল হু হু করে বাড়ছে, সেখানে মানুষের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভ্যাস বদলানোর পেছনে সরকারি অর্থ ঢালা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

/এমএকে/