শিরোনাম

ইরান যুদ্ধ ঘিরে ট্রাম্পের শিবিরেই মতভেদ

সিটিজেন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধ ঘিরে ট্রাম্পের শিবিরেই মতভেদ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক শিবিরের ভেতরেই এই যুদ্ধ নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধ শুরুর দুই দিনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বলা হয়, ‘এটা ইসরায়েলের যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নয়।’ ভিডিওটি তৈরি করেন ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক টাকার কার্লসন, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ভিডিওটি ইতিমধ্যে ২০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে।

ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক টাকার কার্লসন। ছবি: রয়টার্স
ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক টাকার কার্লসন। ছবি: রয়টার্স

কার্লসন ভিডিওতে বলেন, যুদ্ধের সময় একটি দেশের স্বাধীনতা কমে যায় এবং মানুষের মধ্যে সহিংসতা, ক্রোধ ও ঘৃণা বাড়তে থাকে। তার মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাত থেকে সরে আসা উচিত।

তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এখনই এ সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসুন। প্রথম ধাপ হলো সিদ্ধান্ত নেওয়া যে আমরা এর অংশ থাকছি না।’

রিপাবলিকানদের ভেতরে বিভাজন

যুদ্ধের বিষয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও বিভক্তি দেখা যাচ্ছে। অনেক কট্টর সমর্থক সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজন রিপাবলিকানের মধ্যে একজন এর বিরোধিতা করছেন।

২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে জড়ো হওয়া সমর্থকদের একটি অংশ। ছবি: হোয়াই নিউজ
২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে জড়ো হওয়া সমর্থকদের একটি অংশ। ছবি: হোয়াই নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সমর্থকদের মধ্যেও এই প্রশ্নে মতভেদ রয়েছে। এক জরিপে দেখা গেছে, যারা নিজেদের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ সমর্থক মনে করেন, তাদের মধ্যে প্রতি ১০ জনে ৯ জন যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। তবে এ আন্দোলনের বাইরে থাকা রিপাবলিকানদের মধ্যে সমর্থন তুলনামূলক কম।

জনমত জরিপে আরও দেখা গেছে, ট্রাম্পের সামরিক কৌশলের সঙ্গে ৫৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক একমত নন। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে এই বিরোধিতা আরও বেশি– ৮৯ শতাংশ। অন্যদিকে ৭৭ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থক ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন।

স্থলসেনা পাঠানোর বিরোধিতা

আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়ে রিপাবলিকানদের বড় একটি অংশ আপত্তি জানাচ্ছেন। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ রিপাবলিকান সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করলেও দলের ৫২ শতাংশ সমর্থক ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর বিরোধিতা করেন।

নিউইয়র্কভিত্তিক রিপাবলিকান কর্মী ভিশ বুরা বলেন, তৃণমূল সমর্থকদের একটি বড় অংশ বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে। তার মতে, ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধ থেকে ফিরে আসা অনেক সৈন্য দেখেছেন যে দেশে ফিরে তাদের শহরগুলো অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগছে।

মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন লেখা ক্যাপ পরে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: গেটি ইমেজ
মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন লেখা ক্যাপ পরে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: গেটি ইমেজ

ট্রাম্পবিরোধী কণ্ঠ

ট্রাম্পের সমর্থক শিবিরের ভেতরেই যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের মধ্যে আছেন জনপ্রিয় পডকাস্টার জো রোগান এবং জর্জিয়ার সাবেক কংগ্রেস সদস্য মারজরি টেইলর গ্রিন।

মারজরি গ্রিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা বিদেশে আর কোনো যুদ্ধ চাই না, আর কোনো সরকার পরিবর্তনও চাই না। ট্রাম্প বিদেশে নতুন যুদ্ধ না করার যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা ভঙ্গ করেছেন।‘

রাজনৈতিক ঝুঁকির আশঙ্কা

রিপাবলিকানদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে, যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানির দাম বেড়ে যেতে পারে এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। এতে ভোটারদের উদ্বেগ বাড়ার পাশাপাশি নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলটির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রাজনৈতিক কৌশলবিদ ম্যাট উইলি বলেন, ‘যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় এবং স্থলসেনা মোতায়েন করতে হয়, তাহলে মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানিও বাড়তে পারে।‘

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত কত দিন চলবে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি– বিশেষ করে তেলের দামে কী প্রভাব ফেলবে, তার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে।

সূত্র: বিবিসি

/এসএ/