তদন্তকারীদের বর্ণনায় যুক্তরাষ্ট্রে ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ড

তদন্তকারীদের বর্ণনায় যুক্তরাষ্ট্রে ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ড
সিটিজেন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় উচ্চশিক্ষারত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ সামনে এনেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও বৃষ্টির মরদেহ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তকারীদের ধারণা তাকেও হত্যা করা হয়েছে। এ নৃশংস ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তাকে শুনানির জন্য আদালতে হাজির করার কথা ছিল। মামলার গুরুত্ব ও অপরাধের ধরন বিবেচনায় প্রসিকিউটররা গত সপ্তাহেই আবুঘরবেহকে জামিনহীন কারাবন্দী রাখার আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনে তদন্তকারীরা একটি বিস্তারিত সময়রেখা তুলে ধরেছেন, যেখানে হত্যাকাণ্ডটি কীভাবে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে এবং সেই সময়জুড়ে অভিযুক্তের সন্দেহজনক গতিবিধি ও কর্মকাণ্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটে উঠেছে।
৭ ও ১১ এপ্রিল: অ্যামাজন থেকে সরঞ্জাম ক্রয়
মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নথি অনুযায়ী, সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘরবেহ অ্যামাজন থেকে ডাক্ট টেপ, ময়লার ব্যাগ, লাইটারের জ্বালানি ও আগুন জ্বালানোর সরঞ্জাম কেনেন।
১৩ এপ্রিল: চ্যাটজিপিটিতে সন্দেহজনক অনুসন্ধান
আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করেন, কোনো মানুষকে কালো ময়লার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হবে? চ্যাটবট এটি বিপজ্জনক জানালে আবুঘরবেহ ফিরতি বার্তায় লেখেন, তারা কীভাবে জানতে পারবে?
১৬ এপ্রিল: নিখোঁজ হওয়ার রাত
এই দিন লিমন ও বৃষ্টির সাথে তাদের বন্ধুদের শেষ যোগাযোগ হয়। সিসিটিভি ফুটেজে বৃষ্টিকে দুপুরে ক্যাম্পাসে দেখা গেলেও সন্ধ্যায় তিনি আর বন্ধুদের সাথে দেখা করেননি। ফোন লোকেশন অনুযায়ী, রাত ৭:৪৩ মিনিটে লিমন ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় ছিলেন। এর ১০ মিনিটের মধ্যে সন্দেহভাজন আবুঘরবেহর গাড়িটিও একই এলাকায় শনাক্ত হয়। রাত সাড়ে দশটায় আবুঘরবেহ ডোরড্যাশের মাধ্যমে ময়লার ব্যাগ ও ক্লিনিং সাপ্লাই অর্ডার করেন এবং পরবর্তীতে তাকে অ্যাপার্টমেন্টের ডাস্টবিনে কিছু বাক্স ফেলতে দেখা যায়।
১৭ এপ্রিল: দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজের খবর
আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটিতে সার্চ করেন হিলসবরো রিভার স্টেট পার্কে গাড়ি চেক করা হয় কি না। ফোন ও ট্রাফিক ডেটা অনুযায়ী, রাত ১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে তিনি দুইবার টাম্পা উপসাগরের হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে যান। এদিন লিমন ও বৃষ্টিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয় এবং বৃষ্টির ক্যাম্পাসের কর্মস্থল থেকে তার ল্যাপটপসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়।
২২ এপ্রিল: আবুঘরবেহর মায়ের জবানবন্দি
তদন্তকারীরা সাথে কথা বলেন। তিনি নিশ্চিত করেন, তার ছেলের রাগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা রয়েছে এবং অতীতে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহিংস আচরণের রেকর্ডও রয়েছে তার।
২৩ এপ্রিল: তল্লাশি অভিযান
হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের অফিস নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর অবস্থাকে বিপন্ন হিসেবে উল্লেখ করে। তদন্তকারীরা একটি ময়লা ফেলার স্থানে তল্লাশি চালান। সেখানে তারা রক্তমাখা একটি কালো রঙের ফ্লোর ম্যাট, বৃষ্টির মুঠোফোনের কভার এবং লিমনের মানিব্যাগ, চশমা ও রক্তমাখা পোশাক খুঁজে পান। হলফনামায় বলা হয়েছে, লিমন ও বৃষ্টিকে শেষ কবে দেখেছিলেন, সে বিষয়ে অসংলগ্ন তথ্য দেন আবুঘরবেহ। প্রথমে তিনি গোয়েন্দাদের বলেন, ওই দুজন কখনোই তার গাড়িতে ওঠেননি। তিনি নিজেও ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় যাননি। কিন্তু যখন আবুঘরবেহর গাড়ি ক্লিয়ারওয়াটারে থাকার প্রমাণ দেখানো হয়, তখন তিনি দাবি করেন, তিনি সেখানে মাছ ধরার জায়গা খুঁজতে গিয়েছিলেন। আইনজীবীরা বলেছেন, ২৩ এপ্রিল আবুঘরবেহ আবারও চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চান, নিখোঁজ বিপন্ন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বলতে কী বোঝায়?
২৪ এপ্রিল: লিমনের মরদেহ উদ্ধার ও সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে একটি কালো ময়লার ব্যাগে জামিল লিমনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। একটি ছুরিকাঘাত নিহত লিমনের যকৃৎ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এদিনই পারিবারিক সহিংসতার একটি খবর পেয়ে পুলিশ আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করে।
২৫ এপ্রিল: আদালতে হাজির
আবুঘরবেহকে আদালতে তোলা হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যা, মৃতদেহ সরানো, প্রমাণ নষ্ট এবং অবৈধভাবে আটকে রাখাসহ একাধিক অভিযোগ গঠন করা হয়।
২৬ এপ্রিল: জলাশয় থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার
পুলিশ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিকটবর্তী জলাশয় থেকে মানবদেহের অবশেষ উদ্ধার করে, যা বৃষ্টির দেহাবশেষ বলে ধারণা করে শনাক্তকরণের কাজ শুরু হয়।
২৭ এপ্রিল: ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে তদন্ত
ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল ঘোষণা করেন, এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চ্যাটজিপিটির মূল প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
২৮ এপ্রিল: জামিন নামঞ্জুর
আদালত এক শুনানিতে হিশাম আবুঘরবেহ জামিনবিহীন কারাগারে আটকে রাখার নির্দেশ দেন। মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
সূত্র: সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় উচ্চশিক্ষারত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ সামনে এনেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও বৃষ্টির মরদেহ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তকারীদের ধারণা তাকেও হত্যা করা হয়েছে। এ নৃশংস ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তাকে শুনানির জন্য আদালতে হাজির করার কথা ছিল। মামলার গুরুত্ব ও অপরাধের ধরন বিবেচনায় প্রসিকিউটররা গত সপ্তাহেই আবুঘরবেহকে জামিনহীন কারাবন্দী রাখার আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনে তদন্তকারীরা একটি বিস্তারিত সময়রেখা তুলে ধরেছেন, যেখানে হত্যাকাণ্ডটি কীভাবে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে এবং সেই সময়জুড়ে অভিযুক্তের সন্দেহজনক গতিবিধি ও কর্মকাণ্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটে উঠেছে।
৭ ও ১১ এপ্রিল: অ্যামাজন থেকে সরঞ্জাম ক্রয়
মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নথি অনুযায়ী, সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘরবেহ অ্যামাজন থেকে ডাক্ট টেপ, ময়লার ব্যাগ, লাইটারের জ্বালানি ও আগুন জ্বালানোর সরঞ্জাম কেনেন।
১৩ এপ্রিল: চ্যাটজিপিটিতে সন্দেহজনক অনুসন্ধান
আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করেন, কোনো মানুষকে কালো ময়লার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হবে? চ্যাটবট এটি বিপজ্জনক জানালে আবুঘরবেহ ফিরতি বার্তায় লেখেন, তারা কীভাবে জানতে পারবে?
১৬ এপ্রিল: নিখোঁজ হওয়ার রাত
এই দিন লিমন ও বৃষ্টির সাথে তাদের বন্ধুদের শেষ যোগাযোগ হয়। সিসিটিভি ফুটেজে বৃষ্টিকে দুপুরে ক্যাম্পাসে দেখা গেলেও সন্ধ্যায় তিনি আর বন্ধুদের সাথে দেখা করেননি। ফোন লোকেশন অনুযায়ী, রাত ৭:৪৩ মিনিটে লিমন ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় ছিলেন। এর ১০ মিনিটের মধ্যে সন্দেহভাজন আবুঘরবেহর গাড়িটিও একই এলাকায় শনাক্ত হয়। রাত সাড়ে দশটায় আবুঘরবেহ ডোরড্যাশের মাধ্যমে ময়লার ব্যাগ ও ক্লিনিং সাপ্লাই অর্ডার করেন এবং পরবর্তীতে তাকে অ্যাপার্টমেন্টের ডাস্টবিনে কিছু বাক্স ফেলতে দেখা যায়।
১৭ এপ্রিল: দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজের খবর
আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটিতে সার্চ করেন হিলসবরো রিভার স্টেট পার্কে গাড়ি চেক করা হয় কি না। ফোন ও ট্রাফিক ডেটা অনুযায়ী, রাত ১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে তিনি দুইবার টাম্পা উপসাগরের হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে যান। এদিন লিমন ও বৃষ্টিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয় এবং বৃষ্টির ক্যাম্পাসের কর্মস্থল থেকে তার ল্যাপটপসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়।
২২ এপ্রিল: আবুঘরবেহর মায়ের জবানবন্দি
তদন্তকারীরা সাথে কথা বলেন। তিনি নিশ্চিত করেন, তার ছেলের রাগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা রয়েছে এবং অতীতে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহিংস আচরণের রেকর্ডও রয়েছে তার।
২৩ এপ্রিল: তল্লাশি অভিযান
হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের অফিস নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর অবস্থাকে বিপন্ন হিসেবে উল্লেখ করে। তদন্তকারীরা একটি ময়লা ফেলার স্থানে তল্লাশি চালান। সেখানে তারা রক্তমাখা একটি কালো রঙের ফ্লোর ম্যাট, বৃষ্টির মুঠোফোনের কভার এবং লিমনের মানিব্যাগ, চশমা ও রক্তমাখা পোশাক খুঁজে পান। হলফনামায় বলা হয়েছে, লিমন ও বৃষ্টিকে শেষ কবে দেখেছিলেন, সে বিষয়ে অসংলগ্ন তথ্য দেন আবুঘরবেহ। প্রথমে তিনি গোয়েন্দাদের বলেন, ওই দুজন কখনোই তার গাড়িতে ওঠেননি। তিনি নিজেও ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় যাননি। কিন্তু যখন আবুঘরবেহর গাড়ি ক্লিয়ারওয়াটারে থাকার প্রমাণ দেখানো হয়, তখন তিনি দাবি করেন, তিনি সেখানে মাছ ধরার জায়গা খুঁজতে গিয়েছিলেন। আইনজীবীরা বলেছেন, ২৩ এপ্রিল আবুঘরবেহ আবারও চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চান, নিখোঁজ বিপন্ন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বলতে কী বোঝায়?
২৪ এপ্রিল: লিমনের মরদেহ উদ্ধার ও সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে একটি কালো ময়লার ব্যাগে জামিল লিমনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। একটি ছুরিকাঘাত নিহত লিমনের যকৃৎ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এদিনই পারিবারিক সহিংসতার একটি খবর পেয়ে পুলিশ আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করে।
২৫ এপ্রিল: আদালতে হাজির
আবুঘরবেহকে আদালতে তোলা হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যা, মৃতদেহ সরানো, প্রমাণ নষ্ট এবং অবৈধভাবে আটকে রাখাসহ একাধিক অভিযোগ গঠন করা হয়।
২৬ এপ্রিল: জলাশয় থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার
পুলিশ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিকটবর্তী জলাশয় থেকে মানবদেহের অবশেষ উদ্ধার করে, যা বৃষ্টির দেহাবশেষ বলে ধারণা করে শনাক্তকরণের কাজ শুরু হয়।
২৭ এপ্রিল: ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে তদন্ত
ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল ঘোষণা করেন, এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চ্যাটজিপিটির মূল প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
২৮ এপ্রিল: জামিন নামঞ্জুর
আদালত এক শুনানিতে হিশাম আবুঘরবেহ জামিনবিহীন কারাগারে আটকে রাখার নির্দেশ দেন। মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
সূত্র: সিএনএন

তদন্তকারীদের বর্ণনায় যুক্তরাষ্ট্রে ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ড
সিটিজেন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় উচ্চশিক্ষারত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ সামনে এনেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও বৃষ্টির মরদেহ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তকারীদের ধারণা তাকেও হত্যা করা হয়েছে। এ নৃশংস ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তাকে শুনানির জন্য আদালতে হাজির করার কথা ছিল। মামলার গুরুত্ব ও অপরাধের ধরন বিবেচনায় প্রসিকিউটররা গত সপ্তাহেই আবুঘরবেহকে জামিনহীন কারাবন্দী রাখার আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনে তদন্তকারীরা একটি বিস্তারিত সময়রেখা তুলে ধরেছেন, যেখানে হত্যাকাণ্ডটি কীভাবে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে এবং সেই সময়জুড়ে অভিযুক্তের সন্দেহজনক গতিবিধি ও কর্মকাণ্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটে উঠেছে।
৭ ও ১১ এপ্রিল: অ্যামাজন থেকে সরঞ্জাম ক্রয়
মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নথি অনুযায়ী, সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘরবেহ অ্যামাজন থেকে ডাক্ট টেপ, ময়লার ব্যাগ, লাইটারের জ্বালানি ও আগুন জ্বালানোর সরঞ্জাম কেনেন।
১৩ এপ্রিল: চ্যাটজিপিটিতে সন্দেহজনক অনুসন্ধান
আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করেন, কোনো মানুষকে কালো ময়লার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হবে? চ্যাটবট এটি বিপজ্জনক জানালে আবুঘরবেহ ফিরতি বার্তায় লেখেন, তারা কীভাবে জানতে পারবে?
১৬ এপ্রিল: নিখোঁজ হওয়ার রাত
এই দিন লিমন ও বৃষ্টির সাথে তাদের বন্ধুদের শেষ যোগাযোগ হয়। সিসিটিভি ফুটেজে বৃষ্টিকে দুপুরে ক্যাম্পাসে দেখা গেলেও সন্ধ্যায় তিনি আর বন্ধুদের সাথে দেখা করেননি। ফোন লোকেশন অনুযায়ী, রাত ৭:৪৩ মিনিটে লিমন ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় ছিলেন। এর ১০ মিনিটের মধ্যে সন্দেহভাজন আবুঘরবেহর গাড়িটিও একই এলাকায় শনাক্ত হয়। রাত সাড়ে দশটায় আবুঘরবেহ ডোরড্যাশের মাধ্যমে ময়লার ব্যাগ ও ক্লিনিং সাপ্লাই অর্ডার করেন এবং পরবর্তীতে তাকে অ্যাপার্টমেন্টের ডাস্টবিনে কিছু বাক্স ফেলতে দেখা যায়।
১৭ এপ্রিল: দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজের খবর
আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটিতে সার্চ করেন হিলসবরো রিভার স্টেট পার্কে গাড়ি চেক করা হয় কি না। ফোন ও ট্রাফিক ডেটা অনুযায়ী, রাত ১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে তিনি দুইবার টাম্পা উপসাগরের হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে যান। এদিন লিমন ও বৃষ্টিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয় এবং বৃষ্টির ক্যাম্পাসের কর্মস্থল থেকে তার ল্যাপটপসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়।
২২ এপ্রিল: আবুঘরবেহর মায়ের জবানবন্দি
তদন্তকারীরা সাথে কথা বলেন। তিনি নিশ্চিত করেন, তার ছেলের রাগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা রয়েছে এবং অতীতে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহিংস আচরণের রেকর্ডও রয়েছে তার।
২৩ এপ্রিল: তল্লাশি অভিযান
হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের অফিস নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর অবস্থাকে বিপন্ন হিসেবে উল্লেখ করে। তদন্তকারীরা একটি ময়লা ফেলার স্থানে তল্লাশি চালান। সেখানে তারা রক্তমাখা একটি কালো রঙের ফ্লোর ম্যাট, বৃষ্টির মুঠোফোনের কভার এবং লিমনের মানিব্যাগ, চশমা ও রক্তমাখা পোশাক খুঁজে পান। হলফনামায় বলা হয়েছে, লিমন ও বৃষ্টিকে শেষ কবে দেখেছিলেন, সে বিষয়ে অসংলগ্ন তথ্য দেন আবুঘরবেহ। প্রথমে তিনি গোয়েন্দাদের বলেন, ওই দুজন কখনোই তার গাড়িতে ওঠেননি। তিনি নিজেও ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় যাননি। কিন্তু যখন আবুঘরবেহর গাড়ি ক্লিয়ারওয়াটারে থাকার প্রমাণ দেখানো হয়, তখন তিনি দাবি করেন, তিনি সেখানে মাছ ধরার জায়গা খুঁজতে গিয়েছিলেন। আইনজীবীরা বলেছেন, ২৩ এপ্রিল আবুঘরবেহ আবারও চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চান, নিখোঁজ বিপন্ন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বলতে কী বোঝায়?
২৪ এপ্রিল: লিমনের মরদেহ উদ্ধার ও সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে একটি কালো ময়লার ব্যাগে জামিল লিমনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। একটি ছুরিকাঘাত নিহত লিমনের যকৃৎ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এদিনই পারিবারিক সহিংসতার একটি খবর পেয়ে পুলিশ আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করে।
২৫ এপ্রিল: আদালতে হাজির
আবুঘরবেহকে আদালতে তোলা হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যা, মৃতদেহ সরানো, প্রমাণ নষ্ট এবং অবৈধভাবে আটকে রাখাসহ একাধিক অভিযোগ গঠন করা হয়।
২৬ এপ্রিল: জলাশয় থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার
পুলিশ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিকটবর্তী জলাশয় থেকে মানবদেহের অবশেষ উদ্ধার করে, যা বৃষ্টির দেহাবশেষ বলে ধারণা করে শনাক্তকরণের কাজ শুরু হয়।
২৭ এপ্রিল: ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে তদন্ত
ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল ঘোষণা করেন, এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চ্যাটজিপিটির মূল প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
২৮ এপ্রিল: জামিন নামঞ্জুর
আদালত এক শুনানিতে হিশাম আবুঘরবেহ জামিনবিহীন কারাগারে আটকে রাখার নির্দেশ দেন। মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
সূত্র: সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: কে এই হিশাম আবুঘরবেহ
বাংলাদেশি ২ শিক্ষার্থীর হত্যা নিয়ে যা জানালো এফবিআই এজেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টিও মারা গেছেন


