শিরোনাম

চীনের অর্থনীতি বদলানোর কারিগর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি আর নেই

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
চীনের অর্থনীতি বদলানোর কারিগর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি আর নেই
চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি

চীনের আধুনিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল কারিগর ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি আর নেই। বেইজিংয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ৯৭ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এ দূরদর্শী নেতা। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া তার মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছে। সাড়ে চার দশকের বেশি সময় ধরে চীনের কঠোর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতিকে বাজারমুখী করা এবং বিশ্বমঞ্চে দেশটির দাপুটে অভিযাত্রার পথ প্রস্তুতকারী এ ‘ইকোনমিক জার’-এর প্রয়াণে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক ইতিহাসের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ঝু রংজি বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে চীনকে যুক্ত করার প্রধান নীতিনির্ধারক ছিলেন। দীর্ঘ ১৫ বছরের জটিল আলোচনা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক কাটিয়ে ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) চীনের অন্তর্ভুক্তিতে তিনি নেতৃত্ব দেন। অনেক সমালোচক সে সময় এ পদক্ষেপকে অতিরিক্ত ছাড় হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু পরবর্তী দুই দশকে এটি চীনের বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিদেশি বিনিয়োগ লাভ এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে প্রমাণিত হয়।

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে চীন প্রায় ২৭ শতাংশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিশাল ঋণ এবং লোকসানে চলা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সমস্যায় জর্জরিত ছিল। তখন প্রথমে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঝু অত্যন্ত কঠোর হাতে অর্থনীতি সামাল দেন। অদক্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা বেসরকারিকরণ করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। যদিও এ সংস্কারের ফলে কয়েক কোটি শ্রমিককে চাকরি হারাতে হয়। কিন্তু ব্যাংকিং ব্যবস্থা সুসংহত করা ও বেকার শ্রমিকদের পুনর্বাসনের ওপর জোর দিয়ে তিনি অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করান। ১৯৯৭ সালের এশীয় আর্থিক সংকটের তোড় সামলে চীনের প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার কৃতিত্বও তার।

১৯২৮ সালে হুনান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করা ঝু রংজি সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রশাসনিক কাজে যুক্ত হন। মাও জেদংয়ের আমলে সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করায় তিনি রাজনৈতিক কোণঠাসার শিকার হন। পরবর্তীতে ডেন শিয়াওপিংয়ের হাত ধরে পুনর্বাসিত হয়ে তিনি সাংহাইয়ের মেয়র হন। পরে নিজের যোগ্যতায় দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে উঠে আসেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন ও স্পষ্টভাষী এ নেতা বলেছিলেন, সামনে মাইনফিল্ড কিংবা গভীর খাদ থাকলেও তিনি নিজের দায়িত্ব পালনে পিছপা হবেন না। হেনরি কিসিঞ্জারের মতো বিশ্বনেতারাও যার তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করেছিলেন, সেই ঝু রংজির রেখে যাওয়া সংস্কারই আজকের পরাশক্তি চীনের মূল ভিত্তি।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

/এমএকে/