সদরঘাটে ‘ঘাট ফি’র নামে বাড়তি টাকা আদায়, ক্ষুব্ধ যাত্রী ও মাঝিরা

সদরঘাটে ‘ঘাট ফি’র নামে বাড়তি টাকা আদায়, ক্ষুব্ধ যাত্রী ও মাঝিরা
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কেরানীগঞ্জ-সদরঘাট নৌপথে নৌকা পারাপারে যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, অল্প পরিমাণ মালামাল থাকলে ঘাটের ইজারাদারকেও দিতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নৌপথটি ব্যবহারকারী যাত্রী।
এদিকে, মাঝিদের অভিযোগ, পূর্বে যাত্রীদের কাছ থেকে ‘ঘাট ফি’ নেওয়ার প্রচলন থাকলে বর্তমানে মাঝিদের কাছ থেকে ঘাট ফির নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করছে ইজারাদার। তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন তারা।
এসব অভিযোগের দায় নিতে নারাজ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। নৈরাজ্য বন্ধে সংশ্লিষ্ট ইজারাদর ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে জানায় সংস্থাটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জ থেকে সদরঘাটে আসতে আগে প্রতি যাত্রীর নিকট থেকে ২ টাকা করে ঘাট ফি তোলা হতো। কিন্তু এখন যাত্রীদের নিকট থেকে না নিয়ে বরং নৌকা প্রতি আসা-যাওয়া ৪০ টাকা করে ঘাটের ইজারাদার। পাশাপাশি নিয়ম না থাকলেও ঘাট ব্যবহারকারী যাত্রীদের কাছে মালামালের জন্যও চাঁদা নিচ্ছেন ইজারাদারের লোকজন।
নবী হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘আমি কালীগঞ্জ থেকে মাত্র ১২ টি টিশার্ট কিনে বাসায় ফিরতে নৌকা করে আসলাম। কিন্তু এই টিশার্টে জন্য আমাকে অতিরিক্ত ১০ টাকা ঘাট ফি দিতে হয়েছে। নৌকা চলাচলে নেই কোনো সেফটি, কিংবা ঘাটে করে না কোনো সংস্কার। বসে বসে শুধু ঘাট ফি তুলছে। এগুলো কাউকে বলার নেই।’
একই অভিযোগ করেন লিটন নামের আরেক যাত্রী। তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জ থেকে দেড়- দুই কেজি পরিমাণ মালামাল হাতে নিয়ে নদী পার হয়ে সদরঘাট আসি। নৌকা থেকে নামার সাথে সাথে কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরে। মালামালের জন্য ভাড়ার পাশাপাশি ৪০ টাকা দাবি করে বসে। শেষমেশ আমার কাছ থেকে জোর করে ২০ টাকা আদায় করে নেয় তারা।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে আরও বলেন, ‘এগুলো দেখার কেউ নেই। এসব সত্য ঘটনাগুলো তুলে ধরুন। ইদানীং নৌকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। নৌকা ভাড়া অতিরিক্ত দিলাম। নামার পরে আবার মালামালের জন্য অতিরিক্ত টাকাও দিতে হলো।’

রাসেল নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘নৌকা পারাপারে আগে ভাড়া ৫ ছিল টাকা এখন নিচ্ছে ১০ টাকা। আগে ঘাটে আমাদের কাছ থেকে সরাসরি চাঁদা নিতো, এখন মাঝিদের মাধ্যমে নিচ্ছে আবার সাথে ১ কেজি মালামাল থাকলেও অতিরিক্ত ২০ থেকে ৪০ টাকা চাঁদা দিতে হয়।’
ঘাটের অতিরিক্ত ফির কারণে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে হচ্ছে বলে অভিযোগ মাঝিদের। ফলে প্রায়শই যাত্রীদের সাথে তাদের বাগ্বিতণ্ডায় পড়তে হয় বলে জানিয়েছেন হৃদয় মিয়া নামের এক মাঝি।
তিনি বলেন, ‘কেরানিগঞ্জের ইস্পাহানি ঘাটে প্রত্যেক মাঝিকে দৈনিক ঘাট ফি বাবদ সরদারকে (ছদ্মনাম) ১৭০ টাকা দিতে হয়। আবার প্রতি ট্রিপে নদীর দুই ঘাটে ২০ টাকা করে মোট ৪০ টাকা করে ঘাট ফি দিতে হচ্ছে। এসব বাড়তি চাঁদার কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই আমাদের যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হচ্ছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক মাঝি বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে বেরিয়ে পড়ি। প্রতি ট্রিপে আমরা ৮০ টাকা করে ভাড়া পাই। তার মধ্যে ২০ টাকা দিয়ে দিতে হয় ইজারাদার লোকদের। সারাদিন ২০ বার ট্রিপ দিলে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা শুধু ঘাটেই দিয়ে দিতে হয়। আবার ঘাটের লোকজন যাত্রী ঘাটে নামার আগেই টাকা আদায় করে নিয়ে যায়। এগুলো নিয়ে মুখ খুলতেও ভয় হয়। যাত্রীরাও নিরুপায়।’
এসব বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা জানতে চাইলে নৌ পুলিশের একজন সদস্য এএসআই মামুন বলেন, ‘আমার জানা মতে ভাড়া ৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭ টাকা হয়েছে। আর যাত্রীদের নিকট যে ১০ টাকা নেওয়া হয়, সেটা ঘাট ভাড়াসহ। এর থেকে বেশি নেওয়া কথা নয়। তবে অভিযোগ আসলে ঊর্ধ্বতন স্যারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের যুগ্ম পরিচালক মোতাহার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘সদরঘাট এলাকার ঘাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিকদলের আহ্বায়ক সুমন ভূইয়াকে। ঘাটে অতিরিক্ত টাকা তোলার ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে পারি না। ইজারার দায়িত্বে যারা আছে, তাদের কাছে তথ্য পেয়ে থাকবেন।’
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইজারাদার সুমন ভূইয়ার (ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক) পক্ষে ঘাটে দায়িত্বরত ব্যক্তি জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘ঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না। বর্তমানে যাত্রীদের সুবিধার্থে মাঝিদের নিকট থেকে ঘাট ফি নেওয়া হচ্ছে। একটি নৌকায় আটজন যাত্রী থাকে, সে হিসেবে নৌকা প্রতি ১৬ টাকা নেওয়া হয়। এর থেকে কেউ বেশি নিলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’
তিনি আরও দাবি করেন, যাত্রীদের সাথে যে পরিমাণ মালামাল থাকুক না কেন, তার জন্য অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের সুযোগ নেই। মালামালের জন্য কেউ টাকা চাইলে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যাত্রীদের আহ্বান জানান তিনি।

রাজধানীর কেরানীগঞ্জ-সদরঘাট নৌপথে নৌকা পারাপারে যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, অল্প পরিমাণ মালামাল থাকলে ঘাটের ইজারাদারকেও দিতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নৌপথটি ব্যবহারকারী যাত্রী।
এদিকে, মাঝিদের অভিযোগ, পূর্বে যাত্রীদের কাছ থেকে ‘ঘাট ফি’ নেওয়ার প্রচলন থাকলে বর্তমানে মাঝিদের কাছ থেকে ঘাট ফির নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করছে ইজারাদার। তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন তারা।
এসব অভিযোগের দায় নিতে নারাজ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। নৈরাজ্য বন্ধে সংশ্লিষ্ট ইজারাদর ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে জানায় সংস্থাটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জ থেকে সদরঘাটে আসতে আগে প্রতি যাত্রীর নিকট থেকে ২ টাকা করে ঘাট ফি তোলা হতো। কিন্তু এখন যাত্রীদের নিকট থেকে না নিয়ে বরং নৌকা প্রতি আসা-যাওয়া ৪০ টাকা করে ঘাটের ইজারাদার। পাশাপাশি নিয়ম না থাকলেও ঘাট ব্যবহারকারী যাত্রীদের কাছে মালামালের জন্যও চাঁদা নিচ্ছেন ইজারাদারের লোকজন।
নবী হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘আমি কালীগঞ্জ থেকে মাত্র ১২ টি টিশার্ট কিনে বাসায় ফিরতে নৌকা করে আসলাম। কিন্তু এই টিশার্টে জন্য আমাকে অতিরিক্ত ১০ টাকা ঘাট ফি দিতে হয়েছে। নৌকা চলাচলে নেই কোনো সেফটি, কিংবা ঘাটে করে না কোনো সংস্কার। বসে বসে শুধু ঘাট ফি তুলছে। এগুলো কাউকে বলার নেই।’
একই অভিযোগ করেন লিটন নামের আরেক যাত্রী। তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জ থেকে দেড়- দুই কেজি পরিমাণ মালামাল হাতে নিয়ে নদী পার হয়ে সদরঘাট আসি। নৌকা থেকে নামার সাথে সাথে কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরে। মালামালের জন্য ভাড়ার পাশাপাশি ৪০ টাকা দাবি করে বসে। শেষমেশ আমার কাছ থেকে জোর করে ২০ টাকা আদায় করে নেয় তারা।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে আরও বলেন, ‘এগুলো দেখার কেউ নেই। এসব সত্য ঘটনাগুলো তুলে ধরুন। ইদানীং নৌকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। নৌকা ভাড়া অতিরিক্ত দিলাম। নামার পরে আবার মালামালের জন্য অতিরিক্ত টাকাও দিতে হলো।’

রাসেল নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘নৌকা পারাপারে আগে ভাড়া ৫ ছিল টাকা এখন নিচ্ছে ১০ টাকা। আগে ঘাটে আমাদের কাছ থেকে সরাসরি চাঁদা নিতো, এখন মাঝিদের মাধ্যমে নিচ্ছে আবার সাথে ১ কেজি মালামাল থাকলেও অতিরিক্ত ২০ থেকে ৪০ টাকা চাঁদা দিতে হয়।’
ঘাটের অতিরিক্ত ফির কারণে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে হচ্ছে বলে অভিযোগ মাঝিদের। ফলে প্রায়শই যাত্রীদের সাথে তাদের বাগ্বিতণ্ডায় পড়তে হয় বলে জানিয়েছেন হৃদয় মিয়া নামের এক মাঝি।
তিনি বলেন, ‘কেরানিগঞ্জের ইস্পাহানি ঘাটে প্রত্যেক মাঝিকে দৈনিক ঘাট ফি বাবদ সরদারকে (ছদ্মনাম) ১৭০ টাকা দিতে হয়। আবার প্রতি ট্রিপে নদীর দুই ঘাটে ২০ টাকা করে মোট ৪০ টাকা করে ঘাট ফি দিতে হচ্ছে। এসব বাড়তি চাঁদার কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই আমাদের যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হচ্ছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক মাঝি বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে বেরিয়ে পড়ি। প্রতি ট্রিপে আমরা ৮০ টাকা করে ভাড়া পাই। তার মধ্যে ২০ টাকা দিয়ে দিতে হয় ইজারাদার লোকদের। সারাদিন ২০ বার ট্রিপ দিলে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা শুধু ঘাটেই দিয়ে দিতে হয়। আবার ঘাটের লোকজন যাত্রী ঘাটে নামার আগেই টাকা আদায় করে নিয়ে যায়। এগুলো নিয়ে মুখ খুলতেও ভয় হয়। যাত্রীরাও নিরুপায়।’
এসব বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা জানতে চাইলে নৌ পুলিশের একজন সদস্য এএসআই মামুন বলেন, ‘আমার জানা মতে ভাড়া ৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭ টাকা হয়েছে। আর যাত্রীদের নিকট যে ১০ টাকা নেওয়া হয়, সেটা ঘাট ভাড়াসহ। এর থেকে বেশি নেওয়া কথা নয়। তবে অভিযোগ আসলে ঊর্ধ্বতন স্যারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের যুগ্ম পরিচালক মোতাহার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘সদরঘাট এলাকার ঘাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিকদলের আহ্বায়ক সুমন ভূইয়াকে। ঘাটে অতিরিক্ত টাকা তোলার ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে পারি না। ইজারার দায়িত্বে যারা আছে, তাদের কাছে তথ্য পেয়ে থাকবেন।’
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইজারাদার সুমন ভূইয়ার (ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক) পক্ষে ঘাটে দায়িত্বরত ব্যক্তি জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘ঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না। বর্তমানে যাত্রীদের সুবিধার্থে মাঝিদের নিকট থেকে ঘাট ফি নেওয়া হচ্ছে। একটি নৌকায় আটজন যাত্রী থাকে, সে হিসেবে নৌকা প্রতি ১৬ টাকা নেওয়া হয়। এর থেকে কেউ বেশি নিলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’
তিনি আরও দাবি করেন, যাত্রীদের সাথে যে পরিমাণ মালামাল থাকুক না কেন, তার জন্য অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের সুযোগ নেই। মালামালের জন্য কেউ টাকা চাইলে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যাত্রীদের আহ্বান জানান তিনি।

সদরঘাটে ‘ঘাট ফি’র নামে বাড়তি টাকা আদায়, ক্ষুব্ধ যাত্রী ও মাঝিরা
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কেরানীগঞ্জ-সদরঘাট নৌপথে নৌকা পারাপারে যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, অল্প পরিমাণ মালামাল থাকলে ঘাটের ইজারাদারকেও দিতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নৌপথটি ব্যবহারকারী যাত্রী।
এদিকে, মাঝিদের অভিযোগ, পূর্বে যাত্রীদের কাছ থেকে ‘ঘাট ফি’ নেওয়ার প্রচলন থাকলে বর্তমানে মাঝিদের কাছ থেকে ঘাট ফির নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করছে ইজারাদার। তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন তারা।
এসব অভিযোগের দায় নিতে নারাজ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। নৈরাজ্য বন্ধে সংশ্লিষ্ট ইজারাদর ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে জানায় সংস্থাটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জ থেকে সদরঘাটে আসতে আগে প্রতি যাত্রীর নিকট থেকে ২ টাকা করে ঘাট ফি তোলা হতো। কিন্তু এখন যাত্রীদের নিকট থেকে না নিয়ে বরং নৌকা প্রতি আসা-যাওয়া ৪০ টাকা করে ঘাটের ইজারাদার। পাশাপাশি নিয়ম না থাকলেও ঘাট ব্যবহারকারী যাত্রীদের কাছে মালামালের জন্যও চাঁদা নিচ্ছেন ইজারাদারের লোকজন।
নবী হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘আমি কালীগঞ্জ থেকে মাত্র ১২ টি টিশার্ট কিনে বাসায় ফিরতে নৌকা করে আসলাম। কিন্তু এই টিশার্টে জন্য আমাকে অতিরিক্ত ১০ টাকা ঘাট ফি দিতে হয়েছে। নৌকা চলাচলে নেই কোনো সেফটি, কিংবা ঘাটে করে না কোনো সংস্কার। বসে বসে শুধু ঘাট ফি তুলছে। এগুলো কাউকে বলার নেই।’
একই অভিযোগ করেন লিটন নামের আরেক যাত্রী। তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জ থেকে দেড়- দুই কেজি পরিমাণ মালামাল হাতে নিয়ে নদী পার হয়ে সদরঘাট আসি। নৌকা থেকে নামার সাথে সাথে কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরে। মালামালের জন্য ভাড়ার পাশাপাশি ৪০ টাকা দাবি করে বসে। শেষমেশ আমার কাছ থেকে জোর করে ২০ টাকা আদায় করে নেয় তারা।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে আরও বলেন, ‘এগুলো দেখার কেউ নেই। এসব সত্য ঘটনাগুলো তুলে ধরুন। ইদানীং নৌকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। নৌকা ভাড়া অতিরিক্ত দিলাম। নামার পরে আবার মালামালের জন্য অতিরিক্ত টাকাও দিতে হলো।’

রাসেল নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘নৌকা পারাপারে আগে ভাড়া ৫ ছিল টাকা এখন নিচ্ছে ১০ টাকা। আগে ঘাটে আমাদের কাছ থেকে সরাসরি চাঁদা নিতো, এখন মাঝিদের মাধ্যমে নিচ্ছে আবার সাথে ১ কেজি মালামাল থাকলেও অতিরিক্ত ২০ থেকে ৪০ টাকা চাঁদা দিতে হয়।’
ঘাটের অতিরিক্ত ফির কারণে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে হচ্ছে বলে অভিযোগ মাঝিদের। ফলে প্রায়শই যাত্রীদের সাথে তাদের বাগ্বিতণ্ডায় পড়তে হয় বলে জানিয়েছেন হৃদয় মিয়া নামের এক মাঝি।
তিনি বলেন, ‘কেরানিগঞ্জের ইস্পাহানি ঘাটে প্রত্যেক মাঝিকে দৈনিক ঘাট ফি বাবদ সরদারকে (ছদ্মনাম) ১৭০ টাকা দিতে হয়। আবার প্রতি ট্রিপে নদীর দুই ঘাটে ২০ টাকা করে মোট ৪০ টাকা করে ঘাট ফি দিতে হচ্ছে। এসব বাড়তি চাঁদার কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই আমাদের যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হচ্ছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক মাঝি বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে বেরিয়ে পড়ি। প্রতি ট্রিপে আমরা ৮০ টাকা করে ভাড়া পাই। তার মধ্যে ২০ টাকা দিয়ে দিতে হয় ইজারাদার লোকদের। সারাদিন ২০ বার ট্রিপ দিলে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা শুধু ঘাটেই দিয়ে দিতে হয়। আবার ঘাটের লোকজন যাত্রী ঘাটে নামার আগেই টাকা আদায় করে নিয়ে যায়। এগুলো নিয়ে মুখ খুলতেও ভয় হয়। যাত্রীরাও নিরুপায়।’
এসব বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা জানতে চাইলে নৌ পুলিশের একজন সদস্য এএসআই মামুন বলেন, ‘আমার জানা মতে ভাড়া ৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭ টাকা হয়েছে। আর যাত্রীদের নিকট যে ১০ টাকা নেওয়া হয়, সেটা ঘাট ভাড়াসহ। এর থেকে বেশি নেওয়া কথা নয়। তবে অভিযোগ আসলে ঊর্ধ্বতন স্যারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের যুগ্ম পরিচালক মোতাহার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘সদরঘাট এলাকার ঘাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিকদলের আহ্বায়ক সুমন ভূইয়াকে। ঘাটে অতিরিক্ত টাকা তোলার ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে পারি না। ইজারার দায়িত্বে যারা আছে, তাদের কাছে তথ্য পেয়ে থাকবেন।’
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইজারাদার সুমন ভূইয়ার (ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক) পক্ষে ঘাটে দায়িত্বরত ব্যক্তি জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘ঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না। বর্তমানে যাত্রীদের সুবিধার্থে মাঝিদের নিকট থেকে ঘাট ফি নেওয়া হচ্ছে। একটি নৌকায় আটজন যাত্রী থাকে, সে হিসেবে নৌকা প্রতি ১৬ টাকা নেওয়া হয়। এর থেকে কেউ বেশি নিলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’
তিনি আরও দাবি করেন, যাত্রীদের সাথে যে পরিমাণ মালামাল থাকুক না কেন, তার জন্য অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের সুযোগ নেই। মালামালের জন্য কেউ টাকা চাইলে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যাত্রীদের আহ্বান জানান তিনি।

সদরঘাটই যাদের জীবিকার উৎস






