শিরোনাম

নেপালে ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের কারণ কি শুধুই হিমবাহধস

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
নেপালে ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের কারণ কি শুধুই হিমবাহধস
চীন-নেপাল সীমান্তে একটি উপত্যকার স্যাটেলাইট চিত্র। ছবি: রয়টার্স

নেপালে হঠাৎ বন্যার কারণ অনুসন্ধান চলছে। তারই অংশ হিসেবে স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্ল্যানেট ল্যাবস’-এর পাঠানো ছবি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য একটি কারণের কথা বলছেন। আর সেটি হলো হিমবাহ ধস। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হিমবাহের নিচের একটি বড় অংশ ভেঙে শত শত মিটার নিচে উপত্যকায় আছড়ে পড়ার কারণেই এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে।

তবে গঠাৎ করে ঠিক কী কারণে হিমবাহটি এভাবে ধসে পড়েছে, তার নিশ্চিত কোনো কারণ খুঁজে পাননি বিশেষজ্ঞরা। তবে নেপালি কর্মকর্তাদের ধারণা, ভূমিকম্প এর একটি কারণ হতে পারে। এই দুর্যোগের কিছুক্ষণ আগে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।

প্ল্যানেট ল্যাবসের পাঠানো স্যাটেলাইট ছবিগুলো খতিয়ে দেখেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও। ছবিতে দেখা গেছে, অঞ্চলটির সবুজ পাহাড়গুলো এখন বাদামি রঙের ধ্বংসস্তূপ ও পলিমাটির নিচে চাপা পড়ে আছে।

ভারতের সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ভূতত্ত্বের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ বিক্রম গুপ্ত বলেছেন, ‘এটি নিশ্চিত যে হিমবাহের সামনের দিকের একটি বড় অংশ ধসে পড়া দিয়েই ঘটনার সূত্রপাত। এর সঙ্গে সম্ভবত বিপুল পরিমাণ পাথর ও পলিমাটিও নিচে নেমে এসেছে।’

স্যাটেলাইট ছবি দেখে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারির সহযোগী অধ্যাপক ও ভূবিজ্ঞানী ড্যান শুগারের মনে হয়েছে, দুর্যোগের আগের ২৪ ঘণ্টায় ওই এলাকায় প্রচুর বরফ গলেছিল, ‘এ উপত্যকার কিছু হিমবাহ গতকালও (গত মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট) বরফে ঢাকা ছিল। অথচ এখন সেগুলোর ওপর শুধু উন্মুক্ত বরফস্তর দেখা যাচ্ছে। এর সহজ অর্থ হলো, সেখানকার আবহাওয়া সম্ভবত উষ্ণ ছিল।’

বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে তিন দশকে নেপালের বরফাবৃত পর্বতগুলো প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ হারিয়েছে বলে ২০২৩ সালে জানিয়েছিল জাতিসংঘ। সংস্থাটি সে বছর আরও জানায়, বিশ্বের দুই বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশ ভারত ও চীনের মধ্যে অবস্থিত নেপালের হিমবাহগুলো আগের তুলনায় গত এক দশকে ৬৫ শতাংশ দ্রুতগতিতে গলেছে।

ড্যান শুগার বলেন, ‘প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখেছি, প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের নিচের অংশ ভেঙে তারও প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে উপত্যকায় আছড়ে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এখানে কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, তা আমরা নিশ্চিতভাবেই অদূর ভবিষ্যতে খতিয়ে দেখব।’

নেপালের রসুয়া নামের পাহাড়ি জেলাটির জনসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এ এলাকায় বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপাল-চীন সীমান্ত ক্রসিং থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) উত্তর-পূর্বে একটি ভূমিধসের কারণে লেন্দে নদীতে এ ‘হিমবাহ-মিশ্রিত বন্যা’ দেখা দেয়।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে ভূকম্পনের কারণে তুষারধস এবং এর জেরে এ বন্যা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। তবে ভূতত্ত্ববিদ প্রকাশ পোখরেল জানান, ভূমিকম্পই এ ট্র্যাজেডির মূল কারণ কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

প্ল্যানেট ল্যাবসের ছবিগুলো পর্যালোচনা করে প্রকাশ পোখরেল বলেন, ‘নেপাল অংশে একটি বরফ ও পাথরের ধসের কারণেই এ আকস্মিক বন্যা হয়েছে।’

/আরএ/