শিরোনাম

তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র
প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা টানাপোড়েনের মধ্যেই লাতিন আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার দিকে হাত বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কারাকাসের অপরিশোধিত তেল সম্পদের ওপর দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে এক গোপন সমঝোতার পথ খুঁজছে ওয়াশিংটন। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে খুব শিগগিরই ভেনেজুয়েলার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্রের পরিচালন ক্ষমতা চলে যাবে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুই দেশের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে জোর আলোচনা চলছে। মূলত ইজারা ব্যবস্থার একটি আইনি কাঠামোর অধীনে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে দরপত্রের মাধ্যমে এসব তেলক্ষেত্র বণ্টনের কথা ভাবা হচ্ছে। আলোচনাধীন ১৭টি সম্ভাব্য তেলক্ষেত্রের তালিকায় ‘ওরিনোকো বেল্ট’-এর নতুন ক্ষেত্রের পাশাপাশি রয়েছে ‘লেক মারাকাইবো’-র সচল তেলক্ষেত্রগুলোও। সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আমলে চীনের একটি ছোট কোম্পানি যেসব ক্ষেত্র লিজ পেয়েছিল, সেগুলোও এই তালিকায় রয়েছে।

তবে চুক্তিটি নিয়ে এখনো মার্কিন প্রশাসন বা কারাকাস আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে নারাজ। হোয়াইট হাউস থেকে জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হলেও, ভেনেজুয়েলার তেল মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রীয় কোম্পানি পিডিভিএসএ কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পলা হেনাও-কোনো পক্ষই তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে সম্মত হয়নি।

তবে বিষয়টি বাস্তবে রূপ দেওয়া এত সহজ নয়। বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী তেল সম্পদের পূর্ণ মালিকানা কেবল রাষ্ট্রের। সরাসরি বিদেশি সংস্থাকে ইজারা দেওয়ার সুযোগ সেখানে নেই। সম্প্রতি আইনে কিছুটা নমনীয়তা এনে যৌথ উদ্যোগের পথ খোলা হয়েছে। তবে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হলে তা বড় ধরনের আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে এবং সেখান থেকে নিরবচ্ছিন্ন তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে মরিয়া। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম সামাল দিতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ চাপে রয়েছে। তার ওপর ইউক্রেন সংকট ও ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ অনেকটাই খালি হয়ে গেছে। তাই ভেনেজুয়েলার তেল হাতে পেলে অভ্যন্তরীণ বাজারের দাম কমানোর পাশাপাশি নিজেদের সংরক্ষিত ভাণ্ডারও দ্রুত পূর্ণ করতে পারবে ওয়াশিংটন।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/