শিরোনাম

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বহাল জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব, ট্রাম্পের আদেশ বাতিল

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বহাল জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব, ট্রাম্পের আদেশ বাতিল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক বিধান সীমিত করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, তা বাতিল করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার (১ জুলাই) দেওয়া এ রায়ে আদালত ৬-৩ ভোটে ট্রাম্পের ওই আদেশকে কার্যকর না রাখার সিদ্ধান্ত দেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দেড়শ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা মনে করেন, সংবিধানে সুরক্ষিত এ অধিকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাতিল করা যায় না।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করা অভিবাসী কিংবা সাময়িকভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের সন্তানরা শুধু দেশটির মাটিতে জন্ম নেওয়ার কারণে নাগরিকত্ব পেয়ে যাচ্ছে। এই সুযোগ বন্ধ করতেই তিনি ওই নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। কিন্তু আদালতের রায়ে সেই উদ্যোগ কার্যত ভেস্তে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক অধিকার বহাল থাকছে। তবে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতে অন্য কোনো আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। কারণ, অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত করা গেলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের প্রশ্নও অনেকাংশে কমে আসবে বলে ট্রাম্পপন্থীদের ধারণা।

ঐতিহাসিক এই রায়ের মূল মতামত লিখেছেন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। তিনি রায়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্বের বিষয়টি দেশটির সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী দ্বারা সুরক্ষিত। ফলে বাবা-মা অবৈধ অভিবাসী কিংবা অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া সন্তান সংবিধান অনুযায়ী মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে প্রণয়ন করা হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর মুক্তিপ্রাপ্ত আফ্রিকান-আমেরিকান এবং যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সাবেক দাসদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা। সময়ের সঙ্গে এই সংশোধনীই দেশটিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

/এমআর/