শিরোনাম

ডেঙ্গুর ধরনে পরিবর্তন, বাড়ছে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ডেঙ্গুর ধরনে পরিবর্তন, বাড়ছে শঙ্কা

চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে উপসর্গের ধরন ও রোগের গতিপ্রকৃতিতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে অনেক রোগীর শুরুতে জ্বর তুলনামূলকভাবে মৃদু থাকছে। ফলে সাধারণ ভাইরাল জ্বর, ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারছেন না অনেকে।

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিকের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ৪০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি তিনদিন জ্বরে ভোগার পর চিকিৎসকের কাছে যান। পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার সময় তার প্লাটিলেট ছিল প্রায় দেড় লাখ। কিন্তু মাত্র একদিনের ব্যবধানে তা নেমে যায় ১৫ হাজারে। দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে লিভার ও পরে কিডনি আক্রান্ত হয়। শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা দিয়ে রোগীর ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায় না। রক্তচাপ, প্রস্রাবের পরিমাণ, রক্তের ঘনত্ব এবং লিভার-কিডনির কার্যকারিতাসহ রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পর রোগীর অবস্থার হঠাৎ পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

রাজধানীর বারিধারার মাদানী হাসপাতাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ইব্রাহিম মাসুম বিল্লাহ বলেন, প্রতি বছর ডেঙ্গুর উপসর্গ ও রোগের ধরনে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। চলতি বছর অনেক রোগীর জ্বর তীব্রভাবে প্রকাশ পাচ্ছে না। ফলে অনেকে তিন-চার দিন বাড়িতে অপেক্ষা করছেন এবং পরীক্ষা করাচ্ছেন না। এ কারণে কেউ কেউ সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আসছেন।

জুরাইনের ১১ বছরের শিশু তাবিয়া তাবাসুসমও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১০ দিন লড়াইয়ের পর মারা যায়।

তাবাসুসমের বাবা আব্দুল কাদির বলেন, শুরুতে জ্বর তীব্র না হওয়ায় বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলছিলো। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন প্লাটিলেট ও রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিলো। পরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাবাসুসমের মৃত্যু হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গুতে জ্বর কমে যাওয়ার পরই অনেক সময় সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায় শুরু হয়। এ সময় প্লাটিলেট কমার পাশাপাশি রক্তনালি থেকে প্লাজমা বেরিয়ে যাওয়ায় রক্ত ঘন হয়ে যেতে পারে। এতে রক্তচাপ কমে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম দেখা দিতে পারে। তীব্র পেটে ব্যথা, বারবার বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্ট এ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৮৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৩ জনে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪১ হাজার।

আইইডিসিআরের চিকিৎসা ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ রয়েছে। আগে এক সেরোটাইপে আক্রান্ত ব্যক্তির পরবর্তীতে অন্য সেরোটাইপে সংক্রমণ হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই জ্বর মৃদু হলেও অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

/এসবি/