শিরোনাম

বোনাসের টাকা যেভাবে কাজে লাগাতে পারেন

সিটিজেন ডেস্ক
বোনাসের টাকা যেভাবে কাজে লাগাতে পারেন

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ উৎসবকে ঘিরে সরকারি-বেসরকরি প্রায় সকল চাকরিজীবীদের মধ্যে বোনাস নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। এককালীন এ আয়ের অর্থ সঠিক ব্যবহারে ঈদের আনন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যেতে পারে। এজন্য বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে।

বোনাস হাতে পেয়েই হুট করে বড় কেনাকাটায় ঝাঁপ না দেওয়াই ভালো। বিশেষ করে আসবাবপত্র বা দামী জিনিস কেনার আগে বিভিন্ন দোকানের দাম ও অফার যাচাই করে নেওয়া উচিত। আবেগের বশে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিলে পরে আফসোস হতে পারে।

খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুরুতেই পরিকল্পনা করে নেওয়া জরুরি। বোনাসের মোট টাকার হিসাব লিখে রাখুন এবং আগে থেকেই ঠিক করুন কতটা খরচ করবেন আর কতটা সঞ্চয়ে রাখবেন। এতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমে যায়।

বোনাস খরচের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের কেনাকাটা বা উপহার দেওয়ার আগে বকেয়া বিল, চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা জরুরি প্রয়োজন মেটানোর দিকে নজর দিন। এতে মানসিক চাপও অনেকটা কমবে।

ঈদ উপলক্ষে ঘোরাঘুরি ও আপ্যায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট বাজেট ঠিক করে রাখা ভালো। নির্ধারিত সীমার বাইরে খরচ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

বোনাস যেহেতু অতিরিক্ত এককালীন আয়, তাই পুরোটা খরচ না করে এর একটি অংশ ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে রাখা উচিত। সাধারণভাবে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ টাকা ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র বা নিরাপদ বিনিয়োগে রাখলে ভবিষ্যতে আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে ওঠে।

পরিবারের অন্য সদস্যদের মতামত নিয়ে বোনাসের টাকা পরিকল্পনা করলে খরচ আরও বাস্তবসম্মত হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমে এবং পরিবারের সবার চাহিদাও গুরুত্ব পায়। তাই বোনাসের টাকা কীভাবে ব্যয় করবেন, সে সিদ্ধান্ত একা না নেওয়াই ভালো।

যাদের ঋণ রয়েছে, তারা বোনাসের কিছু অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে ক্রেডিট কার্ড বা ব্যক্তিগত ঋণের উচ্চ সুদ কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।

শুধু খরচ নয়, ভবিষ্যতের আয় বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া উচিত। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন কিংবা ছোট ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য বোনাসের কিছু অংশ কাজে লাগানো যেতে পারে।

কোথায় কত টাকা ব্যয় হলো, তার হিসাব লিখে রাখার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। এতে পরবর্তী সময়ে আরও সচেতনভাবে অর্থ ব্যবস্থাপনা করা সহজ হয় এবং বেহিসাবি খরচ কমে।

এ ছাড়া জরুরি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আলাদা একটি তহবিল গড়ে তোলা যেতে পারে। হঠাৎ চিকিৎসা খরচ বা চাকরিজনিত অনিশ্চয়তায় এই সঞ্চয় বড় সহায়তা দিতে পারে।

/এসবি/