১০ বছর পর তনু হত্যা মামলায় অগ্রগতি, তবুও বিচার নিয়ে শঙ্কা

১০ বছর পর তনু হত্যা মামলায় অগ্রগতি, তবুও বিচার নিয়ে শঙ্কা
কুমিল্লা সংবাদদাতা

বিচারহীনতার এক দশক পর দীর্ঘশ্বাসের বরফ গলতে শুরু করেছে কুমিল্লার গোমতী তীরের এই জনপদে। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল, এই ১০টি বছর বিচারের অপেক্ষায় সোহাগী জাহান তনুর বাবা ইয়ার হোসেন। তিনি এক বুক পাথর চেপে রেখে নিঃসঙ্গভাবে লড়ে যাচ্ছেন বিচারের আশায়।
কুমিল্লা সেনানিবাসের অন্ধকার ঝোপঝাড়ে যে মেধার অপমৃত্যু হয়েছিল, সেই বিচার না পাওয়ার গ্লানি গত ১০ বছর ধরে তিল তিল করে পিষে মারছে তনুর বাবাকে। গত এক দশকে থানা পুলিশ থেকে ডিবি, সিআইডি হয়ে সবশেষে পিবিআই–তদন্তের টেবিল বদল হয়েছে বারবার, ৬ জন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছেন, কিন্তু বদলায়নি তনুর পরিবারের ভাগ্য। চার তদন্ত সংস্থা আর ৭ জন কর্মকর্তার হাতবদল হওয়া এই চাঞ্চল্যকর মামলায় ৮০ বার তারিখ পড়েছে। অবশেষে ২০২৬-এর এপ্রিলে এসে মামলার দৃশ্য নাটকীয়ভাবে পাল্টে যেতে শুরু করে।
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই (৬ এপ্রিল) কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে যখন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বার্ধক্যের ভারে নুয়ে পড়া শরীরে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন, তখন চারপাশের বাতাসও যেন এক বাবার হাহাকারে ভারী হয়ে উঠেছিল। ১০ বছর আগে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেছিলেন, সেই রক্তমাখা স্মৃতি আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সেদিন তিনি অশ্রুভেজা কণ্ঠে ডুকরে কেঁদে বলছিলেন, ‘মেয়ের বিচার চাইতে চাইতে আমি আজ নিঃস্ব’।
তিনি আরও বলেন, সেনানিবাস এলাকা, থানা, সিআইডি আর ঢাকার পিবিআই অফিসে দৌড়াতে দৌড়াতে আমি ক্লান্ত। কত দপ্তরে যে অসংখ্যবার সাক্ষ্য দিয়েছি তার হিসাব নেই। শরীরে আর কুলায় না বাবা, এখন নতুন সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি, মরার আগে যেন আমার মেয়ে তনু হত্যার বিচারটা দেখে যেতে পারি।
জানা গেছে, মামলার সপ্তম তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম তনুর পোশাকে পাওয়া তিন অজ্ঞাত পুরুষের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে সন্দেহভাজন সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ প্রোফাইল মেলানোর আবেদন করে এক নতুন আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে।
দীর্ঘ ৩৬৭০ দিনের দীর্ঘশ্বাস আর প্রতীক্ষা শেষে সেই আশার আলো বাস্তবে রূপ নেয় গত ২২ এপ্রিল বিকালে। ১০ বছরের কলঙ্কিত বিচারহীনতার ইতিহাসে এই প্রথম কাউকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পিবিআই ঢাকার তদন্তকারী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম সন্দেহভাজন হিসেবে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন। আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে তনুর পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পুনরায় বিচারের আশা প্রতিফলিত হয়।
তবে রিমান্ডের মেয়াদ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, আদালত ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল কিন্তু আদালত তিন দিনের মঞ্জুর করেছে, এতে আমি সন্তুষ্ট নই। তবুও একজন আটক হয়েছে, আমি চাই ডিএনএ রিপোর্টে যাদের নাম এসেছে সেই বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
২২ এপ্রিল বিকালে আদালত প্রাঙ্গণে যখন তনুর মা এবং ছোট ভাই রুবেল হোসেন উপস্থিত হন, তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তারা পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের আদরের তনু হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তনু হত্যার বিচার দাবিতে সক্রিয় থাকা ‘চলচ্চিত্র মঞ্চ’ এর পরিচালক খায়রুল আনাম রায়হান এবং তনুর ভাই রুবেল বলেন, সিআইডির তদন্তকালে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলেও তার ফলাফল কখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তারা আশা করেন, এবারের প্রক্রিয়াটিও যেন লোক দেখানো না হয়।
কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক মামলার অগ্রগতির ওপর নজর রাখছেন। কোর্ট পরিদর্শক মামুনুর রশিদ বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে এবং ডিএনএ পরীক্ষার অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এবারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেনানিবাসের সেই নিভৃত কোণ থেকে শুরু করে সারা দেশের মানুষের আজ একটাই প্রার্থনা, স্বচ্ছ ন্যায়বিচারের মাধ্যমে ১০ বছরের এই মানবিক ট্র্যাজেডির অবসান হোক, যেন একজন বাবা তার জীবনের শেষবেলায় অন্তত প্রশান্তি নিয়ে চোখ বুজতে পারেন।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন সোহাগী জাহান তনু। এছাড়া ক্যাম্পাসে নাট্যকর্মী হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন।

বিচারহীনতার এক দশক পর দীর্ঘশ্বাসের বরফ গলতে শুরু করেছে কুমিল্লার গোমতী তীরের এই জনপদে। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল, এই ১০টি বছর বিচারের অপেক্ষায় সোহাগী জাহান তনুর বাবা ইয়ার হোসেন। তিনি এক বুক পাথর চেপে রেখে নিঃসঙ্গভাবে লড়ে যাচ্ছেন বিচারের আশায়।
কুমিল্লা সেনানিবাসের অন্ধকার ঝোপঝাড়ে যে মেধার অপমৃত্যু হয়েছিল, সেই বিচার না পাওয়ার গ্লানি গত ১০ বছর ধরে তিল তিল করে পিষে মারছে তনুর বাবাকে। গত এক দশকে থানা পুলিশ থেকে ডিবি, সিআইডি হয়ে সবশেষে পিবিআই–তদন্তের টেবিল বদল হয়েছে বারবার, ৬ জন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছেন, কিন্তু বদলায়নি তনুর পরিবারের ভাগ্য। চার তদন্ত সংস্থা আর ৭ জন কর্মকর্তার হাতবদল হওয়া এই চাঞ্চল্যকর মামলায় ৮০ বার তারিখ পড়েছে। অবশেষে ২০২৬-এর এপ্রিলে এসে মামলার দৃশ্য নাটকীয়ভাবে পাল্টে যেতে শুরু করে।
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই (৬ এপ্রিল) কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে যখন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বার্ধক্যের ভারে নুয়ে পড়া শরীরে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন, তখন চারপাশের বাতাসও যেন এক বাবার হাহাকারে ভারী হয়ে উঠেছিল। ১০ বছর আগে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেছিলেন, সেই রক্তমাখা স্মৃতি আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সেদিন তিনি অশ্রুভেজা কণ্ঠে ডুকরে কেঁদে বলছিলেন, ‘মেয়ের বিচার চাইতে চাইতে আমি আজ নিঃস্ব’।
তিনি আরও বলেন, সেনানিবাস এলাকা, থানা, সিআইডি আর ঢাকার পিবিআই অফিসে দৌড়াতে দৌড়াতে আমি ক্লান্ত। কত দপ্তরে যে অসংখ্যবার সাক্ষ্য দিয়েছি তার হিসাব নেই। শরীরে আর কুলায় না বাবা, এখন নতুন সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি, মরার আগে যেন আমার মেয়ে তনু হত্যার বিচারটা দেখে যেতে পারি।
জানা গেছে, মামলার সপ্তম তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম তনুর পোশাকে পাওয়া তিন অজ্ঞাত পুরুষের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে সন্দেহভাজন সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ প্রোফাইল মেলানোর আবেদন করে এক নতুন আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে।
দীর্ঘ ৩৬৭০ দিনের দীর্ঘশ্বাস আর প্রতীক্ষা শেষে সেই আশার আলো বাস্তবে রূপ নেয় গত ২২ এপ্রিল বিকালে। ১০ বছরের কলঙ্কিত বিচারহীনতার ইতিহাসে এই প্রথম কাউকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পিবিআই ঢাকার তদন্তকারী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম সন্দেহভাজন হিসেবে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন। আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে তনুর পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পুনরায় বিচারের আশা প্রতিফলিত হয়।
তবে রিমান্ডের মেয়াদ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, আদালত ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল কিন্তু আদালত তিন দিনের মঞ্জুর করেছে, এতে আমি সন্তুষ্ট নই। তবুও একজন আটক হয়েছে, আমি চাই ডিএনএ রিপোর্টে যাদের নাম এসেছে সেই বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
২২ এপ্রিল বিকালে আদালত প্রাঙ্গণে যখন তনুর মা এবং ছোট ভাই রুবেল হোসেন উপস্থিত হন, তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তারা পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের আদরের তনু হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তনু হত্যার বিচার দাবিতে সক্রিয় থাকা ‘চলচ্চিত্র মঞ্চ’ এর পরিচালক খায়রুল আনাম রায়হান এবং তনুর ভাই রুবেল বলেন, সিআইডির তদন্তকালে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলেও তার ফলাফল কখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তারা আশা করেন, এবারের প্রক্রিয়াটিও যেন লোক দেখানো না হয়।
কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক মামলার অগ্রগতির ওপর নজর রাখছেন। কোর্ট পরিদর্শক মামুনুর রশিদ বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে এবং ডিএনএ পরীক্ষার অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এবারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেনানিবাসের সেই নিভৃত কোণ থেকে শুরু করে সারা দেশের মানুষের আজ একটাই প্রার্থনা, স্বচ্ছ ন্যায়বিচারের মাধ্যমে ১০ বছরের এই মানবিক ট্র্যাজেডির অবসান হোক, যেন একজন বাবা তার জীবনের শেষবেলায় অন্তত প্রশান্তি নিয়ে চোখ বুজতে পারেন।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন সোহাগী জাহান তনু। এছাড়া ক্যাম্পাসে নাট্যকর্মী হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন।

১০ বছর পর তনু হত্যা মামলায় অগ্রগতি, তবুও বিচার নিয়ে শঙ্কা
কুমিল্লা সংবাদদাতা

বিচারহীনতার এক দশক পর দীর্ঘশ্বাসের বরফ গলতে শুরু করেছে কুমিল্লার গোমতী তীরের এই জনপদে। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল, এই ১০টি বছর বিচারের অপেক্ষায় সোহাগী জাহান তনুর বাবা ইয়ার হোসেন। তিনি এক বুক পাথর চেপে রেখে নিঃসঙ্গভাবে লড়ে যাচ্ছেন বিচারের আশায়।
কুমিল্লা সেনানিবাসের অন্ধকার ঝোপঝাড়ে যে মেধার অপমৃত্যু হয়েছিল, সেই বিচার না পাওয়ার গ্লানি গত ১০ বছর ধরে তিল তিল করে পিষে মারছে তনুর বাবাকে। গত এক দশকে থানা পুলিশ থেকে ডিবি, সিআইডি হয়ে সবশেষে পিবিআই–তদন্তের টেবিল বদল হয়েছে বারবার, ৬ জন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছেন, কিন্তু বদলায়নি তনুর পরিবারের ভাগ্য। চার তদন্ত সংস্থা আর ৭ জন কর্মকর্তার হাতবদল হওয়া এই চাঞ্চল্যকর মামলায় ৮০ বার তারিখ পড়েছে। অবশেষে ২০২৬-এর এপ্রিলে এসে মামলার দৃশ্য নাটকীয়ভাবে পাল্টে যেতে শুরু করে।
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই (৬ এপ্রিল) কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে যখন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বার্ধক্যের ভারে নুয়ে পড়া শরীরে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন, তখন চারপাশের বাতাসও যেন এক বাবার হাহাকারে ভারী হয়ে উঠেছিল। ১০ বছর আগে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেছিলেন, সেই রক্তমাখা স্মৃতি আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সেদিন তিনি অশ্রুভেজা কণ্ঠে ডুকরে কেঁদে বলছিলেন, ‘মেয়ের বিচার চাইতে চাইতে আমি আজ নিঃস্ব’।
তিনি আরও বলেন, সেনানিবাস এলাকা, থানা, সিআইডি আর ঢাকার পিবিআই অফিসে দৌড়াতে দৌড়াতে আমি ক্লান্ত। কত দপ্তরে যে অসংখ্যবার সাক্ষ্য দিয়েছি তার হিসাব নেই। শরীরে আর কুলায় না বাবা, এখন নতুন সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি, মরার আগে যেন আমার মেয়ে তনু হত্যার বিচারটা দেখে যেতে পারি।
জানা গেছে, মামলার সপ্তম তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম তনুর পোশাকে পাওয়া তিন অজ্ঞাত পুরুষের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে সন্দেহভাজন সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ প্রোফাইল মেলানোর আবেদন করে এক নতুন আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে।
দীর্ঘ ৩৬৭০ দিনের দীর্ঘশ্বাস আর প্রতীক্ষা শেষে সেই আশার আলো বাস্তবে রূপ নেয় গত ২২ এপ্রিল বিকালে। ১০ বছরের কলঙ্কিত বিচারহীনতার ইতিহাসে এই প্রথম কাউকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পিবিআই ঢাকার তদন্তকারী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম সন্দেহভাজন হিসেবে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন। আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে তনুর পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পুনরায় বিচারের আশা প্রতিফলিত হয়।
তবে রিমান্ডের মেয়াদ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, আদালত ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল কিন্তু আদালত তিন দিনের মঞ্জুর করেছে, এতে আমি সন্তুষ্ট নই। তবুও একজন আটক হয়েছে, আমি চাই ডিএনএ রিপোর্টে যাদের নাম এসেছে সেই বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
২২ এপ্রিল বিকালে আদালত প্রাঙ্গণে যখন তনুর মা এবং ছোট ভাই রুবেল হোসেন উপস্থিত হন, তখন সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তারা পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের আদরের তনু হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তনু হত্যার বিচার দাবিতে সক্রিয় থাকা ‘চলচ্চিত্র মঞ্চ’ এর পরিচালক খায়রুল আনাম রায়হান এবং তনুর ভাই রুবেল বলেন, সিআইডির তদন্তকালে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলেও তার ফলাফল কখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তারা আশা করেন, এবারের প্রক্রিয়াটিও যেন লোক দেখানো না হয়।
কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক মামলার অগ্রগতির ওপর নজর রাখছেন। কোর্ট পরিদর্শক মামুনুর রশিদ বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে এবং ডিএনএ পরীক্ষার অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এবারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেনানিবাসের সেই নিভৃত কোণ থেকে শুরু করে সারা দেশের মানুষের আজ একটাই প্রার্থনা, স্বচ্ছ ন্যায়বিচারের মাধ্যমে ১০ বছরের এই মানবিক ট্র্যাজেডির অবসান হোক, যেন একজন বাবা তার জীবনের শেষবেলায় অন্তত প্রশান্তি নিয়ে চোখ বুজতে পারেন।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন সোহাগী জাহান তনু। এছাড়া ক্যাম্পাসে নাট্যকর্মী হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন।




