শিরোনাম

প্রাচীন স্থাপত্যের অনুপম নিদর্শন গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রাচীন স্থাপত্যের অনুপম নিদর্শন গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি
গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি। ছবি: সংবাদদাতা

সবুজ শ্যামল মেঠোপথ ধরে এগোলেই চোখে পড়বে বিশাল এক জলাশয়। নাম তার ‘সাগরদিঘী’। সেই দিঘীর শান্ত জলরাশির ওপারে বিশাল অট্টালিকা ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী। ইটের পলেস্তারা খসে পড়লেও যার পরতে পরতে এখনো লেগে আছে আভিজাত্যের ছাপ। বলছিলাম কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ির কথা। স্থানীয়দের কাছে যা ‘মানব বাবুর বাড়ি’ নামে পরিচিত।

সরেজমিন দেখা যায়, জমিদার বাড়ির ভেতরে রয়েছে নহবতখানা, দরবার গৃহ ও শিব মন্দিরসহ আরও স্থাপনা।

সাগরদিঘী।
সাগরদিঘী।

জানা গেছে, খ্রিষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দীর দিকে গাঙ্গাটিয়া জমিদার বংশের পূর্বপুরুষেরা ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে এ দেশে এসে বসতি স্থাপন করেন। ইংরেজ আমলে এই জমিদার পরিবারের হাত ধরেই এ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির আলো। বিশেষ করে অতুল বাবু এবং পরবর্তীতে হাইকোর্টের জজ ধারনাথ চক্রবর্তীর নাম আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এলাকাবাসী।

গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি কেবল আভিজাত্যের প্রতীক নয়, এটি মহান মুক্তিযুদ্ধের এক বিষাদময় অধ্যায়। বাড়ির সামনের বিশাল সাগরদিঘীর পাড়েই একাত্তরে গড়ে উঠেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন ট্রেনিং সেন্টার। এখানে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ‘অপরাধে’ ঘাতক পাকিস্তানি সেনা ও স্থানীয় রাজাকাররা জমিদার ভূপতিনাথ চক্রবর্তীকে (বর্তমান বংশধর মানব বাবুর পিতা) নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেদিন তারা লুটপাট করে জমিদার বাড়ির স্বর্ণালংকারসহ দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

জমিদারবাড়ি। ছবি: সংবাদদাতা
জমিদারবাড়ি। ছবি: সংবাদদাতা

স্থাপনাটি দেখতে প্রতিনিয়ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, বিদেশি পর্যটকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ভিড় করেন। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সালমান মিয়া বলেন, এই জমিদার বাড়িটি অনেক পুরোনো। এখানে জমিদারদের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তাই দেখতে এসেছি। সরকারের উচিত জমিদার বাড়িটি সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দন করা। এতে প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক-বাহক এই জমিদার বাড়িতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা আরো বৃদ্ধি পাবে। দেশের মানুষ ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।

মানবেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী।
মানবেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী।

গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ির একমাত্র উত্তরাধিকার মানবেন্দ্র নাথ চক্রবর্তীর (মানব বাবু) সঙ্গে কথা হয় এই সংবাদদাতার। মানব বাবু বলেন, আজকাল জমিদার বাড়ি নেই বললেই চলে। যেগুলো আছে, সেগুলো ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে দর্শনার্থীদের মনের খোরাক ছাড়া আর কিছুই না। ১৯৮৪ সালে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলাম। এখন অনেক বয়স হয়েছে। মানুষের কল্যাণে কাজ করে শেষ নিঃশ্বাসটা এই জমিদার বাড়িতেই ত্যাগ করতে চাই।

/এসআর/