১০০১ টাকায় ৩ বিঘার পুলিশ প্লাজা, বাণিজ্যিক দরে বিক্রি করলো কনকর্ড

১০০১ টাকায় ৩ বিঘার পুলিশ প্লাজা, বাণিজ্যিক দরে বিক্রি করলো কনকর্ড
জুবায়ের আহমেদ

মাত্র ১ হাজার ১ টাকা অর্থাৎ প্রতীকী মূল্যে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টকে তিন বিঘা জমি বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার। গুলশান আবাসিক এলাকার ১৪৪ নম্বর সড়কের এই জমিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল নির্দিষ্ট কিছু শর্তে। এর অন্যতম শর্ত ছিল জমিটি পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের কাজ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু সেই জমিতেই কনকর্ড রিয়েল এস্টেটের সঙ্গে চুক্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স ‘পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিং মল’। যা দোকান ও অফিস স্পেস হিসেবে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। তবে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট বলছে, সরকার থেকে জমি বরাদ্দ পাওয়ার পর ট্রাস্টের কাছে যথেষ্ট অর্থ না থাকায় কনকর্ডের সহয়তা নেওয়া হয়েছে।
যেভাবেই হোক, কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। এটি এখন পুরোপুরি বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমোদন পেয়েছে। যেহেতু জমিটা পুলিশের কল্যাণে দেওয়া হয়েছে, তাই ট্রাস্ট যেভাবে লাভবান হয়েছে তাই করেছে শেখ মতিয়ার রহমান সদস্য, রাজউক
রাজউকের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, জমিটি প্রথমে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে কনকর্ড যুক্ত হলে প্লটটির ভূমি ব্যবহারের ধরন এবং বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে একাধিক ধাপে সিদ্ধান্ত, অনুমোদন ও নথি চলাচালি হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে এটি বাণিজ্যিক কাম আবাসিক ভবন হিসেবে রাজউকের অনুমোদন নেয়, কিন্তু তার ৫ বছর আগের থেকেই ভবনটিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলে আসছিলো।
যেভাবে ১,০০১ টাকায় বরাদ্দ
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০০৬ সালে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের ভবন নির্মাণের জন্য গুলশান শুটিং ক্লাবের দক্ষিণে ১৪৪ নম্বর সড়কের ২ দশমিক ৯৭ বিঘা জমিটি বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই বছর ৫ জুলাই সভায় বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তের পর রাজউকও জমিটি প্রতীকী মূল্যে বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করে। পরে ১ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের পত্রে জানানো হয়, পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ও উপযোগী জমি না থাকায় বিকল্প হিসেবে প্রায় তিন বিঘা জমি প্রতীকী মূল্যে বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে সরকার। এবং ১ হাজার ১ টাকা প্রতীকী মূল্যে জমিটি পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর ২ আগস্ট জমির দখল হস্তান্তর এবং ৭ আগস্ট লিজ দলিল রেজিস্ট্রেশন করা হয়।
বরাদ্দে যে শর্ত ছিল
রাজউকের বরাদ্দপত্রে জমিটির ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট শর্ত দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে বরাদ্দ করা জমি ট্রাস্টের কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মূল বরাদ্দপত্রেও একই শর্ত ছিল। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া জমিটি অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না বলেও শর্ত দেওয়া হয়েছিল। ছিল বরাদ্দকৃত জমিতে স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি-বিধান মানার বাধ্যবাধকতাও। শর্ত ভঙ্গ হলে বরাদ্দ বাতিল করার ক্ষমতাও রাজউক সংরক্ষণ করেছিল।
দামি জমিতে কনকর্ডের ‘পোয়াবারো’
জমি বরাদ্দের কয়েক মাসের মধ্যেই প্লটটির বিষয়ে কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ার্সকে আম-মোক্তার নিয়োগের অনুমতি দিতে রাজউকের কাছে আবেদন করে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট। ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর এ বিষয়ে আবেদন করা হয়। যা ২২ নভেম্বর কনকর্ডকে আম-মোক্তার নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপরই প্লটটির ব্যবহার ও ভবন নির্মাণের ধরন নিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
রাজউকের নথি অনুযায়ী, পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ২০ তলা আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবনের নকশা দাখিল করা হয়। এ বিষয়ে রাজউকের এস্টেট শাখার মতামতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে ট্রাস্ট ভবনটি ব্যবহার করবে। তবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার না করলে পর্যাপ্ত অর্থ পাওয়া যাবে না- এই বিবেচনায় বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।
সিদ্ধান্ত হলেও পত্র জারি হয়নি
রাজউকের ২০০৬ সালের ষষ্ঠ বোর্ড সভায় বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের নামে বরাদ্দকৃত প্লটটি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভূতাপেক্ষ ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে রাজউকের নথি অনুযায়ী, ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কোনো পত্র জারি করা হয়নি। এরপর ২০০৭ সালে বিষয়টি পুনঃরায় রাজউকের বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হয়। সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, অনুমোদিত লে-আউট নকশায় প্লটটির প্রকৃতি স্পষ্ট না থাকায় সেটিকে ‘আবাসিক কাম বাণিজ্যিক’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
একই সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত উচ্চতার সীমার মধ্যে ১৬ তলা আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবনের নকশা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০০৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ১৬ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে স্থাপনাটি কোন শ্রেণিতে ব্যবহার হবে সেই বিষয়ে কোনোকিছু স্পষ্ট করা হয়নি।
অনুমোদনের আগেই বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স উদ্বোধন
ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়ার পর ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর ভবনটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। তৎকালীন পুলিশের আইজিপি নূর মোহাম্মদ এবং কনকর্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান এস এম কামালউদ্দিন নির্মাণকাজের সূচনা করেন। সেখানে শর্ত থাকে, কনকর্ড ভবন নির্মাণের বিনিময়ে এই ভবনটির অর্ধেক মালিকানা পাবে। প্রায় সাড়ে ছয় বছর নির্মাণকাজ চলার পর ২০১৫ সালের ১১ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শপিং মল ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটির উদ্বোধন করেন। অর্থাৎ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য প্রতীকী মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া জমিতে শেষ পর্যন্ত ‘পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিং মল’ নামে একটি বড় বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স গড়ে ওঠে। অথচ তখনও রাজউক থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি মেলেনি।
বাণিজ্যিক অনুমোদনের আগেই বিক্রি শুরু
২০১৫ সালে বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স হিসেবে উদ্বোধনের পরও বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়টি রাজউকের নথিতে প্রক্রিয়াধীন ছিল। কিন্তু উদ্বোধনের পরপরই ভবনটিতে বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি শুরু করে কনকর্ড, একইসঙ্গে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টও স্পেস ভাড়া দেওয়া শুরু করে।
পরে ২০১৭ সালে কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পক্ষ থেকে ভবনের তৃতীয় তলার দোকান স্পেস নম্বর ৩৭৩ ও ৩৭৫ হস্তান্তরের আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজউকের পক্ষ থেকে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। সেখানেও ভবনটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের চিত্র উঠে আসে। নকশাতে গ্রাউন্ড ফ্লোর, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় শাড়ি-কাপড়ের দোকান ও শোরুম এবং চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় ফাস্টফুডের দোকানের কথা উল্লেখ করা হলেও পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা নথিতে উল্লেখ করেন, বাস্তবে গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরেই দোকানের স্পেস রয়েছে। অথচ তখনও অনুমোদিত আংশিক লে-আউট প্ল্যানে প্লটের জমির পরিমাণ, বাহুর মাপ, রাস্তার এলাইনমেন্ট ও প্রশস্ততা উল্লেখ থাকলেও প্লটটি আবাসিক নাকি কাম-বাণিজ্যিক তা উল্লেখ করা ছিলো না।
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমেও ভবনটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন চাওয়া হয়। বিষয়টি পর্যালোচনা করে রাজউকের নগর পরিকল্পনা শাখা মত দেয়, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী বাণিজ্যিক ফি আদায় সাপেক্ষে আবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। চেয়ারম্যানও ওই মতামতে সম্মতি দেন। এরপর বাণিজ্যিক রূপান্তর ফি আদায় সাপেক্ষে প্লটটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে রাজউকের নথি বলছে, সেসময় এ বিষয়ে প্রস্তুত করা কার্যপত্রটি স্বাক্ষরিত হয়নি। পরে ২০১৯ সালে ইমারতটি বাণিজ্যিক কাম আবাসিক হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়। যদিও বর্তমানে পুরো স্থাপনাটি বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
সম্প্রতি পুলিশ প্লাজা সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, নামমাত্র মূল্যে পাওয়া প্লটটির ওপর তিনটি বেজমেন্টসহ ১৬ তলা ভবন রয়েছে। ভবনের মোট আয়তন ৬ লাখ ২ হাজার ১৯৭ বর্গফুট। এরমধ্যে গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরেই দোকান স্পেস করা হয়েছে। এবং ষষ্ঠ থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত কমার্শিয়াল স্পেস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্লাজা কনকর্ড এ সর্বমোট ৩৭১টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে রেডিমেড গার্মেন্টস, জুতা, ঘড়ি, শাড়ি, থ্রি-পিস, মোবাইল ইত্যাদি পণ্যের দোকান নির্দিষ্ট জোনে অবস্থিত। মার্কেটের ৫ম তলার অর্ধেক ফুডকোর্ট হিসাবে ব্যবহৃত। ৬ষ্ঠ তলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত দুটি পৃথক ভবন, যা টাওয়ার-১ এবং টাওয়ার-২ নামে পরিচিত। টাওয়ার-১ এ ৮টি এবং টাওয়ার ২ এ ৪টি করে ইউনিট রয়েছে। দুটি টাওয়ারের ইউনিটগুলো বাণিজ্যিক অফিস পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হয়।
কনকর্ডের সেলস ও মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের এসিস্টেন্ট ম্যানেজার আবদুল্লাহ হাসনাত সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, অফিস ফ্লোর প্রতি স্কয়ার ফিট ২২ হাজার টাকা করে বিক্রি করেছে কনকর্ড, এবং শপিং মলের স্পেস আরও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যেই সব বিক্রি হয়েছে। এখন আর তাদের অংশে বিক্রি করার মতো কোনো স্পেস নেই বলেও জানান তিনি।
এদিকে, পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভবনটির ম্যানেজারের দ্বায়িত্বে থাকা আল-আমিন বলেন, পজিশন অনুযায়ী প্রতি স্কয়ারফিট ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দেওয়া হয়। বর্তমানে সব স্পেসই ভাড়ায় চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান বলেন, ‘যেভাবেই হোক, কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। এটি এখন পুরোপুরি বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমোদন পেয়েছে। যেহেতু জমিটা পুলিশের কল্যাণে দেওয়া হয়েছে, তাই ট্রাস্ট যেভাবে লাভবান হয়েছে তাই করেছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক আহম্মদ মুঈদ সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘ওই সময় আসলে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের ফান্ডে বিল্ডিং করার মত টাকা ছিলো না। এমন পরিস্থিতিতে কনকর্ড এগিয়ে আসে। স্বাভাবিক ভাবেই কনকর্ড যেহেতু এখানে বিনিয়োগ করেছে, তারা তাদের বিজনেস পলিসি অনুযায়ী ভবনের অর্ধেক নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তবে এখন আমরা আবার চেষ্টা করছি কিছু স্পেস কনকর্ড থেকে কেনার। সম্প্রতি আমাদের কমিউনিটি ব্যাংকের জন্য প্রায় ১৬ হাজার স্কয়ার ফিট স্পেস নিয়েছি। ভবিষ্যতেও এরকম পরিকল্পনা আছে।’

মাত্র ১ হাজার ১ টাকা অর্থাৎ প্রতীকী মূল্যে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টকে তিন বিঘা জমি বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার। গুলশান আবাসিক এলাকার ১৪৪ নম্বর সড়কের এই জমিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল নির্দিষ্ট কিছু শর্তে। এর অন্যতম শর্ত ছিল জমিটি পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের কাজ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু সেই জমিতেই কনকর্ড রিয়েল এস্টেটের সঙ্গে চুক্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স ‘পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিং মল’। যা দোকান ও অফিস স্পেস হিসেবে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। তবে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট বলছে, সরকার থেকে জমি বরাদ্দ পাওয়ার পর ট্রাস্টের কাছে যথেষ্ট অর্থ না থাকায় কনকর্ডের সহয়তা নেওয়া হয়েছে।
যেভাবেই হোক, কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। এটি এখন পুরোপুরি বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমোদন পেয়েছে। যেহেতু জমিটা পুলিশের কল্যাণে দেওয়া হয়েছে, তাই ট্রাস্ট যেভাবে লাভবান হয়েছে তাই করেছে শেখ মতিয়ার রহমান সদস্য, রাজউক
রাজউকের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, জমিটি প্রথমে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে কনকর্ড যুক্ত হলে প্লটটির ভূমি ব্যবহারের ধরন এবং বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে একাধিক ধাপে সিদ্ধান্ত, অনুমোদন ও নথি চলাচালি হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে এটি বাণিজ্যিক কাম আবাসিক ভবন হিসেবে রাজউকের অনুমোদন নেয়, কিন্তু তার ৫ বছর আগের থেকেই ভবনটিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলে আসছিলো।
যেভাবে ১,০০১ টাকায় বরাদ্দ
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০০৬ সালে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের ভবন নির্মাণের জন্য গুলশান শুটিং ক্লাবের দক্ষিণে ১৪৪ নম্বর সড়কের ২ দশমিক ৯৭ বিঘা জমিটি বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই বছর ৫ জুলাই সভায় বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তের পর রাজউকও জমিটি প্রতীকী মূল্যে বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করে। পরে ১ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের পত্রে জানানো হয়, পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ও উপযোগী জমি না থাকায় বিকল্প হিসেবে প্রায় তিন বিঘা জমি প্রতীকী মূল্যে বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে সরকার। এবং ১ হাজার ১ টাকা প্রতীকী মূল্যে জমিটি পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর ২ আগস্ট জমির দখল হস্তান্তর এবং ৭ আগস্ট লিজ দলিল রেজিস্ট্রেশন করা হয়।
বরাদ্দে যে শর্ত ছিল
রাজউকের বরাদ্দপত্রে জমিটির ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট শর্ত দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে বরাদ্দ করা জমি ট্রাস্টের কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মূল বরাদ্দপত্রেও একই শর্ত ছিল। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া জমিটি অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না বলেও শর্ত দেওয়া হয়েছিল। ছিল বরাদ্দকৃত জমিতে স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি-বিধান মানার বাধ্যবাধকতাও। শর্ত ভঙ্গ হলে বরাদ্দ বাতিল করার ক্ষমতাও রাজউক সংরক্ষণ করেছিল।
দামি জমিতে কনকর্ডের ‘পোয়াবারো’
জমি বরাদ্দের কয়েক মাসের মধ্যেই প্লটটির বিষয়ে কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ার্সকে আম-মোক্তার নিয়োগের অনুমতি দিতে রাজউকের কাছে আবেদন করে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট। ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর এ বিষয়ে আবেদন করা হয়। যা ২২ নভেম্বর কনকর্ডকে আম-মোক্তার নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপরই প্লটটির ব্যবহার ও ভবন নির্মাণের ধরন নিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
রাজউকের নথি অনুযায়ী, পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ২০ তলা আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবনের নকশা দাখিল করা হয়। এ বিষয়ে রাজউকের এস্টেট শাখার মতামতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে ট্রাস্ট ভবনটি ব্যবহার করবে। তবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার না করলে পর্যাপ্ত অর্থ পাওয়া যাবে না- এই বিবেচনায় বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।
সিদ্ধান্ত হলেও পত্র জারি হয়নি
রাজউকের ২০০৬ সালের ষষ্ঠ বোর্ড সভায় বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের নামে বরাদ্দকৃত প্লটটি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভূতাপেক্ষ ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে রাজউকের নথি অনুযায়ী, ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কোনো পত্র জারি করা হয়নি। এরপর ২০০৭ সালে বিষয়টি পুনঃরায় রাজউকের বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হয়। সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, অনুমোদিত লে-আউট নকশায় প্লটটির প্রকৃতি স্পষ্ট না থাকায় সেটিকে ‘আবাসিক কাম বাণিজ্যিক’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
একই সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত উচ্চতার সীমার মধ্যে ১৬ তলা আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবনের নকশা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০০৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ১৬ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে স্থাপনাটি কোন শ্রেণিতে ব্যবহার হবে সেই বিষয়ে কোনোকিছু স্পষ্ট করা হয়নি।
অনুমোদনের আগেই বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স উদ্বোধন
ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়ার পর ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর ভবনটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। তৎকালীন পুলিশের আইজিপি নূর মোহাম্মদ এবং কনকর্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান এস এম কামালউদ্দিন নির্মাণকাজের সূচনা করেন। সেখানে শর্ত থাকে, কনকর্ড ভবন নির্মাণের বিনিময়ে এই ভবনটির অর্ধেক মালিকানা পাবে। প্রায় সাড়ে ছয় বছর নির্মাণকাজ চলার পর ২০১৫ সালের ১১ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শপিং মল ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটির উদ্বোধন করেন। অর্থাৎ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য প্রতীকী মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া জমিতে শেষ পর্যন্ত ‘পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিং মল’ নামে একটি বড় বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স গড়ে ওঠে। অথচ তখনও রাজউক থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি মেলেনি।
বাণিজ্যিক অনুমোদনের আগেই বিক্রি শুরু
২০১৫ সালে বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স হিসেবে উদ্বোধনের পরও বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়টি রাজউকের নথিতে প্রক্রিয়াধীন ছিল। কিন্তু উদ্বোধনের পরপরই ভবনটিতে বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি শুরু করে কনকর্ড, একইসঙ্গে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টও স্পেস ভাড়া দেওয়া শুরু করে।
পরে ২০১৭ সালে কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পক্ষ থেকে ভবনের তৃতীয় তলার দোকান স্পেস নম্বর ৩৭৩ ও ৩৭৫ হস্তান্তরের আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজউকের পক্ষ থেকে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। সেখানেও ভবনটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের চিত্র উঠে আসে। নকশাতে গ্রাউন্ড ফ্লোর, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় শাড়ি-কাপড়ের দোকান ও শোরুম এবং চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় ফাস্টফুডের দোকানের কথা উল্লেখ করা হলেও পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা নথিতে উল্লেখ করেন, বাস্তবে গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরেই দোকানের স্পেস রয়েছে। অথচ তখনও অনুমোদিত আংশিক লে-আউট প্ল্যানে প্লটের জমির পরিমাণ, বাহুর মাপ, রাস্তার এলাইনমেন্ট ও প্রশস্ততা উল্লেখ থাকলেও প্লটটি আবাসিক নাকি কাম-বাণিজ্যিক তা উল্লেখ করা ছিলো না।
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমেও ভবনটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন চাওয়া হয়। বিষয়টি পর্যালোচনা করে রাজউকের নগর পরিকল্পনা শাখা মত দেয়, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী বাণিজ্যিক ফি আদায় সাপেক্ষে আবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। চেয়ারম্যানও ওই মতামতে সম্মতি দেন। এরপর বাণিজ্যিক রূপান্তর ফি আদায় সাপেক্ষে প্লটটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে রাজউকের নথি বলছে, সেসময় এ বিষয়ে প্রস্তুত করা কার্যপত্রটি স্বাক্ষরিত হয়নি। পরে ২০১৯ সালে ইমারতটি বাণিজ্যিক কাম আবাসিক হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়। যদিও বর্তমানে পুরো স্থাপনাটি বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
সম্প্রতি পুলিশ প্লাজা সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, নামমাত্র মূল্যে পাওয়া প্লটটির ওপর তিনটি বেজমেন্টসহ ১৬ তলা ভবন রয়েছে। ভবনের মোট আয়তন ৬ লাখ ২ হাজার ১৯৭ বর্গফুট। এরমধ্যে গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরেই দোকান স্পেস করা হয়েছে। এবং ষষ্ঠ থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত কমার্শিয়াল স্পেস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্লাজা কনকর্ড এ সর্বমোট ৩৭১টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে রেডিমেড গার্মেন্টস, জুতা, ঘড়ি, শাড়ি, থ্রি-পিস, মোবাইল ইত্যাদি পণ্যের দোকান নির্দিষ্ট জোনে অবস্থিত। মার্কেটের ৫ম তলার অর্ধেক ফুডকোর্ট হিসাবে ব্যবহৃত। ৬ষ্ঠ তলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত দুটি পৃথক ভবন, যা টাওয়ার-১ এবং টাওয়ার-২ নামে পরিচিত। টাওয়ার-১ এ ৮টি এবং টাওয়ার ২ এ ৪টি করে ইউনিট রয়েছে। দুটি টাওয়ারের ইউনিটগুলো বাণিজ্যিক অফিস পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হয়।
কনকর্ডের সেলস ও মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের এসিস্টেন্ট ম্যানেজার আবদুল্লাহ হাসনাত সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, অফিস ফ্লোর প্রতি স্কয়ার ফিট ২২ হাজার টাকা করে বিক্রি করেছে কনকর্ড, এবং শপিং মলের স্পেস আরও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যেই সব বিক্রি হয়েছে। এখন আর তাদের অংশে বিক্রি করার মতো কোনো স্পেস নেই বলেও জানান তিনি।
এদিকে, পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভবনটির ম্যানেজারের দ্বায়িত্বে থাকা আল-আমিন বলেন, পজিশন অনুযায়ী প্রতি স্কয়ারফিট ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দেওয়া হয়। বর্তমানে সব স্পেসই ভাড়ায় চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান বলেন, ‘যেভাবেই হোক, কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। এটি এখন পুরোপুরি বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমোদন পেয়েছে। যেহেতু জমিটা পুলিশের কল্যাণে দেওয়া হয়েছে, তাই ট্রাস্ট যেভাবে লাভবান হয়েছে তাই করেছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক আহম্মদ মুঈদ সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘ওই সময় আসলে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের ফান্ডে বিল্ডিং করার মত টাকা ছিলো না। এমন পরিস্থিতিতে কনকর্ড এগিয়ে আসে। স্বাভাবিক ভাবেই কনকর্ড যেহেতু এখানে বিনিয়োগ করেছে, তারা তাদের বিজনেস পলিসি অনুযায়ী ভবনের অর্ধেক নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তবে এখন আমরা আবার চেষ্টা করছি কিছু স্পেস কনকর্ড থেকে কেনার। সম্প্রতি আমাদের কমিউনিটি ব্যাংকের জন্য প্রায় ১৬ হাজার স্কয়ার ফিট স্পেস নিয়েছি। ভবিষ্যতেও এরকম পরিকল্পনা আছে।’

১০০১ টাকায় ৩ বিঘার পুলিশ প্লাজা, বাণিজ্যিক দরে বিক্রি করলো কনকর্ড
জুবায়ের আহমেদ

মাত্র ১ হাজার ১ টাকা অর্থাৎ প্রতীকী মূল্যে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টকে তিন বিঘা জমি বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার। গুলশান আবাসিক এলাকার ১৪৪ নম্বর সড়কের এই জমিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল নির্দিষ্ট কিছু শর্তে। এর অন্যতম শর্ত ছিল জমিটি পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের কাজ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু সেই জমিতেই কনকর্ড রিয়েল এস্টেটের সঙ্গে চুক্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স ‘পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিং মল’। যা দোকান ও অফিস স্পেস হিসেবে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। তবে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট বলছে, সরকার থেকে জমি বরাদ্দ পাওয়ার পর ট্রাস্টের কাছে যথেষ্ট অর্থ না থাকায় কনকর্ডের সহয়তা নেওয়া হয়েছে।
যেভাবেই হোক, কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। এটি এখন পুরোপুরি বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমোদন পেয়েছে। যেহেতু জমিটা পুলিশের কল্যাণে দেওয়া হয়েছে, তাই ট্রাস্ট যেভাবে লাভবান হয়েছে তাই করেছে শেখ মতিয়ার রহমান সদস্য, রাজউক
রাজউকের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, জমিটি প্রথমে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে কনকর্ড যুক্ত হলে প্লটটির ভূমি ব্যবহারের ধরন এবং বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে একাধিক ধাপে সিদ্ধান্ত, অনুমোদন ও নথি চলাচালি হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে এটি বাণিজ্যিক কাম আবাসিক ভবন হিসেবে রাজউকের অনুমোদন নেয়, কিন্তু তার ৫ বছর আগের থেকেই ভবনটিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলে আসছিলো।
যেভাবে ১,০০১ টাকায় বরাদ্দ
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০০৬ সালে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের ভবন নির্মাণের জন্য গুলশান শুটিং ক্লাবের দক্ষিণে ১৪৪ নম্বর সড়কের ২ দশমিক ৯৭ বিঘা জমিটি বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই বছর ৫ জুলাই সভায় বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তের পর রাজউকও জমিটি প্রতীকী মূল্যে বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করে। পরে ১ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের পত্রে জানানো হয়, পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ও উপযোগী জমি না থাকায় বিকল্প হিসেবে প্রায় তিন বিঘা জমি প্রতীকী মূল্যে বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে সরকার। এবং ১ হাজার ১ টাকা প্রতীকী মূল্যে জমিটি পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর ২ আগস্ট জমির দখল হস্তান্তর এবং ৭ আগস্ট লিজ দলিল রেজিস্ট্রেশন করা হয়।
বরাদ্দে যে শর্ত ছিল
রাজউকের বরাদ্দপত্রে জমিটির ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট শর্ত দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে বরাদ্দ করা জমি ট্রাস্টের কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মূল বরাদ্দপত্রেও একই শর্ত ছিল। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া জমিটি অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না বলেও শর্ত দেওয়া হয়েছিল। ছিল বরাদ্দকৃত জমিতে স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি-বিধান মানার বাধ্যবাধকতাও। শর্ত ভঙ্গ হলে বরাদ্দ বাতিল করার ক্ষমতাও রাজউক সংরক্ষণ করেছিল।
দামি জমিতে কনকর্ডের ‘পোয়াবারো’
জমি বরাদ্দের কয়েক মাসের মধ্যেই প্লটটির বিষয়ে কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ার্সকে আম-মোক্তার নিয়োগের অনুমতি দিতে রাজউকের কাছে আবেদন করে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট। ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর এ বিষয়ে আবেদন করা হয়। যা ২২ নভেম্বর কনকর্ডকে আম-মোক্তার নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপরই প্লটটির ব্যবহার ও ভবন নির্মাণের ধরন নিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
রাজউকের নথি অনুযায়ী, পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ২০ তলা আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবনের নকশা দাখিল করা হয়। এ বিষয়ে রাজউকের এস্টেট শাখার মতামতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে ট্রাস্ট ভবনটি ব্যবহার করবে। তবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার না করলে পর্যাপ্ত অর্থ পাওয়া যাবে না- এই বিবেচনায় বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।
সিদ্ধান্ত হলেও পত্র জারি হয়নি
রাজউকের ২০০৬ সালের ষষ্ঠ বোর্ড সভায় বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের নামে বরাদ্দকৃত প্লটটি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যবহারের ভূতাপেক্ষ ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে রাজউকের নথি অনুযায়ী, ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কোনো পত্র জারি করা হয়নি। এরপর ২০০৭ সালে বিষয়টি পুনঃরায় রাজউকের বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হয়। সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, অনুমোদিত লে-আউট নকশায় প্লটটির প্রকৃতি স্পষ্ট না থাকায় সেটিকে ‘আবাসিক কাম বাণিজ্যিক’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
একই সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত উচ্চতার সীমার মধ্যে ১৬ তলা আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবনের নকশা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০০৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ১৬ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে স্থাপনাটি কোন শ্রেণিতে ব্যবহার হবে সেই বিষয়ে কোনোকিছু স্পষ্ট করা হয়নি।
অনুমোদনের আগেই বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স উদ্বোধন
ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়ার পর ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর ভবনটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। তৎকালীন পুলিশের আইজিপি নূর মোহাম্মদ এবং কনকর্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান এস এম কামালউদ্দিন নির্মাণকাজের সূচনা করেন। সেখানে শর্ত থাকে, কনকর্ড ভবন নির্মাণের বিনিময়ে এই ভবনটির অর্ধেক মালিকানা পাবে। প্রায় সাড়ে ছয় বছর নির্মাণকাজ চলার পর ২০১৫ সালের ১১ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শপিং মল ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটির উদ্বোধন করেন। অর্থাৎ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য প্রতীকী মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া জমিতে শেষ পর্যন্ত ‘পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিং মল’ নামে একটি বড় বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স গড়ে ওঠে। অথচ তখনও রাজউক থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি মেলেনি।
বাণিজ্যিক অনুমোদনের আগেই বিক্রি শুরু
২০১৫ সালে বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স হিসেবে উদ্বোধনের পরও বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়টি রাজউকের নথিতে প্রক্রিয়াধীন ছিল। কিন্তু উদ্বোধনের পরপরই ভবনটিতে বাণিজ্যিক স্পেস বিক্রি শুরু করে কনকর্ড, একইসঙ্গে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টও স্পেস ভাড়া দেওয়া শুরু করে।
পরে ২০১৭ সালে কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পক্ষ থেকে ভবনের তৃতীয় তলার দোকান স্পেস নম্বর ৩৭৩ ও ৩৭৫ হস্তান্তরের আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজউকের পক্ষ থেকে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। সেখানেও ভবনটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের চিত্র উঠে আসে। নকশাতে গ্রাউন্ড ফ্লোর, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় শাড়ি-কাপড়ের দোকান ও শোরুম এবং চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় ফাস্টফুডের দোকানের কথা উল্লেখ করা হলেও পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা নথিতে উল্লেখ করেন, বাস্তবে গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরেই দোকানের স্পেস রয়েছে। অথচ তখনও অনুমোদিত আংশিক লে-আউট প্ল্যানে প্লটের জমির পরিমাণ, বাহুর মাপ, রাস্তার এলাইনমেন্ট ও প্রশস্ততা উল্লেখ থাকলেও প্লটটি আবাসিক নাকি কাম-বাণিজ্যিক তা উল্লেখ করা ছিলো না।
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমেও ভবনটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন চাওয়া হয়। বিষয়টি পর্যালোচনা করে রাজউকের নগর পরিকল্পনা শাখা মত দেয়, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী বাণিজ্যিক ফি আদায় সাপেক্ষে আবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। চেয়ারম্যানও ওই মতামতে সম্মতি দেন। এরপর বাণিজ্যিক রূপান্তর ফি আদায় সাপেক্ষে প্লটটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে রাজউকের নথি বলছে, সেসময় এ বিষয়ে প্রস্তুত করা কার্যপত্রটি স্বাক্ষরিত হয়নি। পরে ২০১৯ সালে ইমারতটি বাণিজ্যিক কাম আবাসিক হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়। যদিও বর্তমানে পুরো স্থাপনাটি বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
সম্প্রতি পুলিশ প্লাজা সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, নামমাত্র মূল্যে পাওয়া প্লটটির ওপর তিনটি বেজমেন্টসহ ১৬ তলা ভবন রয়েছে। ভবনের মোট আয়তন ৬ লাখ ২ হাজার ১৯৭ বর্গফুট। এরমধ্যে গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরেই দোকান স্পেস করা হয়েছে। এবং ষষ্ঠ থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত কমার্শিয়াল স্পেস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্লাজা কনকর্ড এ সর্বমোট ৩৭১টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে রেডিমেড গার্মেন্টস, জুতা, ঘড়ি, শাড়ি, থ্রি-পিস, মোবাইল ইত্যাদি পণ্যের দোকান নির্দিষ্ট জোনে অবস্থিত। মার্কেটের ৫ম তলার অর্ধেক ফুডকোর্ট হিসাবে ব্যবহৃত। ৬ষ্ঠ তলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত দুটি পৃথক ভবন, যা টাওয়ার-১ এবং টাওয়ার-২ নামে পরিচিত। টাওয়ার-১ এ ৮টি এবং টাওয়ার ২ এ ৪টি করে ইউনিট রয়েছে। দুটি টাওয়ারের ইউনিটগুলো বাণিজ্যিক অফিস পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হয়।
কনকর্ডের সেলস ও মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের এসিস্টেন্ট ম্যানেজার আবদুল্লাহ হাসনাত সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, অফিস ফ্লোর প্রতি স্কয়ার ফিট ২২ হাজার টাকা করে বিক্রি করেছে কনকর্ড, এবং শপিং মলের স্পেস আরও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যেই সব বিক্রি হয়েছে। এখন আর তাদের অংশে বিক্রি করার মতো কোনো স্পেস নেই বলেও জানান তিনি।
এদিকে, পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভবনটির ম্যানেজারের দ্বায়িত্বে থাকা আল-আমিন বলেন, পজিশন অনুযায়ী প্রতি স্কয়ারফিট ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দেওয়া হয়। বর্তমানে সব স্পেসই ভাড়ায় চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান বলেন, ‘যেভাবেই হোক, কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। এটি এখন পুরোপুরি বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমোদন পেয়েছে। যেহেতু জমিটা পুলিশের কল্যাণে দেওয়া হয়েছে, তাই ট্রাস্ট যেভাবে লাভবান হয়েছে তাই করেছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক আহম্মদ মুঈদ সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘ওই সময় আসলে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের ফান্ডে বিল্ডিং করার মত টাকা ছিলো না। এমন পরিস্থিতিতে কনকর্ড এগিয়ে আসে। স্বাভাবিক ভাবেই কনকর্ড যেহেতু এখানে বিনিয়োগ করেছে, তারা তাদের বিজনেস পলিসি অনুযায়ী ভবনের অর্ধেক নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তবে এখন আমরা আবার চেষ্টা করছি কিছু স্পেস কনকর্ড থেকে কেনার। সম্প্রতি আমাদের কমিউনিটি ব্যাংকের জন্য প্রায় ১৬ হাজার স্কয়ার ফিট স্পেস নিয়েছি। ভবিষ্যতেও এরকম পরিকল্পনা আছে।’

অবৈধ হোটেল শেরাটনকে বৈধতা দিতে তোড়জোড়
বিশ্বাস বিল্ডার্সকে কাজ দিয়ে ভুগছে গণপূর্ত
মিরাজে ধরাশায়ী গৃহায়ন: ১৭ কোটি টাকার লিফট কেনা হচ্ছে ৪৯ কোটিতে
এসটিপি বাস্তবায়নে রাজউকের হুঁশিয়ারি, মনঃক্ষুণ্ন গুলশান-বনানীবাসী
আ.লীগ আমলে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম খুঁজতে কমিটি নিলো ৩১ লাখ টাকা
ঋণসুবিধা নিয়েও রাজউকের ৫ আমলার দখলে সরকারি গাড়ি 







