অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড, তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

কুমিল্লা সংবাদদাতা
কুমিল্লা সংবাদদাতা
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড, তিন আসামির
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। ফাইল ছবি

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামি। আজ রবিবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মলির আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় তারা।

আজ রাত সাড়ে ৮টায় বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ওই তিনি আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জবানবন্দির বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া তিনি আসামি হলো- সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসান। এছাড়া এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিয়াম নামে আরও এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্ত ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে অপ্রতিম বাধা দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে তুহিন তার আইফোননি নিয়ে সহযোগীদের সঙ্গে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্কুলছাত্র অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ছেলে।

গত শুক্রবার দুপুরে কোটবাড়ি সালমানপুর থেকে নিখোঁজ হন অপ্রিতম। শনিবার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। আজ রোববার দুপুর আড়াইটায় এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, একটি আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাকে পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে হত্যা করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, গত শুক্রবার বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে তুহিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায়। ঘটনাটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে যে, অপ্রতিমের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করেই তাকে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছিল।

জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন জানায়, এ ঘটনার ফাহাদ এবং কামরুল নামে তার আরও দুই বন্ধু জড়িত ছিল। পরবর্তীতে পুলিশ ফাহাদ ও কামরুলকে হেফাজতে নেয়।

পুলিশ সুপারের ভাষ্য, গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিনের বাবার নাম নূর আলম। তিনি নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকার বাসিন্দা। তিনি কুমিল্লা সিটি কলেজ থেকে একাদশ শ্রেণিতে ফেল করে ঝরে পড়েছেন। মোফাজ্জেল হোসেন ফাহাদ একই ওয়ার্ডের সালমানপুর এলাকার (মেম্বার বাড়ি) বাসিন্দা। সে ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর মো. কামরুল হাসানের বাড়ি দক্ষিণ উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামে এবং মো. সিয়াম একই উপজেলার এলাহীপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অপর আসামি সিয়ামের সম্পৃক্ততা যাচাই এবং তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

/বিবি/