যেখানে লোভনীয় চেয়ার সেখানেই তাজিম-উর-রহমান

যেখানে লোভনীয় চেয়ার সেখানেই তাজিম-উর-রহমান
আয়নাল হোসেন

যেখানে লোভনীয় পদ সেখানেই বছরের পর বছর চাকরি করছেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৭তম ব্যাচ) কর্মকর্তা তাজিম-উর-রহমান। তিনি বর্তমানে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালকের (বহির্গমন) দায়িত্ব পালন করছেন। অবৈধভাবে বাড়তি আয়ের সুযোগ থাকায় তিনি এই অফিসে কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার পাসপোর্ট জমা হয়। বহির্গমন শাখা থেকে বিদেশগামী কর্মীদের পেশাগত সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। প্রতিটি সার্টিফিকেটের জন্য ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। ভিসা সত্যায়িত করার নামে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এছাড়া ‘বায়োমেট্রিক’ তথ্য দেওয়ার সময়ও টাকা আদায় করা হচ্ছে। এসব অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে তাজিম-উর-রহমান সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির কর্মী বলেন, ‘এখানে সাধারণভাবে পাসপোর্ট জমা দিলে সরকারি ফি ছাড়া কোনো বাড়তি টাকা নেওয়ার কথা নয়। তবে কোনো ভিসায় সংশ্লিষ্ট দেশের ‘অ্যাটাস্টেশন’ না থাকলে সেটির কাজ করাতে ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এছাড়া সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রেও দিতে হয় বাড়তি টাকা। বিশেষ করে নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণে দেড় মাস সময় লাগে। সেখানে বাড়তি ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা দিলে আরও আগেই সার্টিফিকেট পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ‘বায়োমেট্রিক’ তথ্য দেওয়ার সময়ও কিছুটা সমস্যা হলে টাকা দিয়ে ছাড় করাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, তাজিম-উর-রহমান জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক থাকাকালে মিরপুর-মোহাম্মদপুর এলাকার পরিত্যক্ত সম্পত্তি নামজারির দায়িত্বে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর তিনি পূর্ত মন্ত্রণালয়ে আসেন। এসময় মতিঝিল-খিলগাঁও-বাসাবো এলাকার দায়িত্বে ছিলেন। এরপর বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) দায়িত্বে থাকাকালে কেনাকাটায় জড়িত ছিলেন। তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর ব্যাপারীর খুব কাছের মানুষ ছিলেন। তার প্রভাবে ব্যাপক প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন তাজিম-উর-রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিজি প্রেসে উপ-পরিচালক (উপসচিব) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তাজিম-উর-রহমান। সেখানে তিনি সরকারের বিভিন্ন গেজেট, ফরম ও প্রকাশনা মুদ্রণ এবং এসব তদারকির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর তিনি বিএমইটিতে পরিচালক পদে বদলি হয়ে আসেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মস্থল পরিবর্তন এবং পদায়নের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সরকারি বিধিমালা (রুলস অব বিজনেস) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ইচ্ছায় নির্ধারিত হয় না।
বিএমইটির পরিচালক (বহির্গমন) মো. তাজিম-উর-রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও সিন্ডিকেট করে বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রভাবশালী রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের যোগসাজশে তিনি বিএমইটির বহির্গমন শাখায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। নিয়ম বহির্ভূতভাবে দ্রুত বহির্গমন ছাড়পত্র দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। বৈধ ও সত্যায়িত ভিসা থাকার পরেও এই সিন্ডিকেট ছাড়পত্র আটকে রেখে বা অনৈতিক সুবিধা দাবির মাধ্যমে বিদেশগামী শ্রমিকদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবনে সহজেই লোকজন প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু বর্হিগমন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকতে গেলে নিরাপত্তাকর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হয়। তবে যাদের সঙ্গে লেনদেন রয়েছে তাদের ঢুকতে সমস্যা হয় না। এই প্রতিবেদক বর্হিগমন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করার সময় দেখতে পান, কর্তব্যরত আনসার সদস্য দুইজনকে ভেতরে ঢোকার সুযোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের হাতে কয়েকটি পাসপোর্ট দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পর সুদর্শন এক ব্যক্তি আসার পর কার্যালয়ের গেট খুলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সেবাপ্রার্থী কয়েকজনের জটলা দেখা যায়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আনসার সদস্যদের ম্যানেজ করে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিএমটিইর পরিচালকের কক্ষের সামনে গেলে সেখানে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মী এই প্রতিবেদকের কাছে সেখানে আসার কারণ জানতে চান। তখন পরিচালকের সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি জানালে নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ‘ আপনি তাকে (পরিচালক) ফোন করেন। ফোনে ঢোকার অনুমতি দিলে ঢুকতে পারবেন।’ তখন এই প্রতিবেদক তার একটি বিজনেস কার্ড ওই নিরাপত্তাকর্মীকে দেন। ওই বিজনেস কার্ড নিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ওই কার্যালয়ের ভেতরে চলে যান এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বলেন, ’স্যার একটি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন, আপনি পড়ে আসেন।’
এরপর তাজিম-উর-রহমানের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেন। এই সময় নাম-পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। পরে সোমবার সন্ধ্যায় তার মোবাইল ফোনে তিনটি প্রশ্ন লিখে খুদেবার্তা পাঠানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত ওই খুদেবার্তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জনশক্তি অফিসে সশরীরে গিয়ে কাজ করা বন্ধ করতে হবে। এতে মানুষের বাড়তি চাপ পড়ে। সব কাজ অনলাইনে দেওয়া হলে সেখানের অনিয়ম বন্ধ হবে। তবে কোনো ফাইলে জটিলতা থাকলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিতে সরাসরি অফিসে যেতে হতে পারে।
বিএমইটিতে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢালাওভাবে অভিযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু এর সত্যতা পাওয়া যায় না। তাদের কার্যালয়ে দুর্নীতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

যেখানে লোভনীয় পদ সেখানেই বছরের পর বছর চাকরি করছেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৭তম ব্যাচ) কর্মকর্তা তাজিম-উর-রহমান। তিনি বর্তমানে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালকের (বহির্গমন) দায়িত্ব পালন করছেন। অবৈধভাবে বাড়তি আয়ের সুযোগ থাকায় তিনি এই অফিসে কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার পাসপোর্ট জমা হয়। বহির্গমন শাখা থেকে বিদেশগামী কর্মীদের পেশাগত সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। প্রতিটি সার্টিফিকেটের জন্য ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। ভিসা সত্যায়িত করার নামে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এছাড়া ‘বায়োমেট্রিক’ তথ্য দেওয়ার সময়ও টাকা আদায় করা হচ্ছে। এসব অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে তাজিম-উর-রহমান সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির কর্মী বলেন, ‘এখানে সাধারণভাবে পাসপোর্ট জমা দিলে সরকারি ফি ছাড়া কোনো বাড়তি টাকা নেওয়ার কথা নয়। তবে কোনো ভিসায় সংশ্লিষ্ট দেশের ‘অ্যাটাস্টেশন’ না থাকলে সেটির কাজ করাতে ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এছাড়া সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রেও দিতে হয় বাড়তি টাকা। বিশেষ করে নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণে দেড় মাস সময় লাগে। সেখানে বাড়তি ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা দিলে আরও আগেই সার্টিফিকেট পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ‘বায়োমেট্রিক’ তথ্য দেওয়ার সময়ও কিছুটা সমস্যা হলে টাকা দিয়ে ছাড় করাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, তাজিম-উর-রহমান জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক থাকাকালে মিরপুর-মোহাম্মদপুর এলাকার পরিত্যক্ত সম্পত্তি নামজারির দায়িত্বে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর তিনি পূর্ত মন্ত্রণালয়ে আসেন। এসময় মতিঝিল-খিলগাঁও-বাসাবো এলাকার দায়িত্বে ছিলেন। এরপর বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) দায়িত্বে থাকাকালে কেনাকাটায় জড়িত ছিলেন। তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর ব্যাপারীর খুব কাছের মানুষ ছিলেন। তার প্রভাবে ব্যাপক প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন তাজিম-উর-রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিজি প্রেসে উপ-পরিচালক (উপসচিব) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তাজিম-উর-রহমান। সেখানে তিনি সরকারের বিভিন্ন গেজেট, ফরম ও প্রকাশনা মুদ্রণ এবং এসব তদারকির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর তিনি বিএমইটিতে পরিচালক পদে বদলি হয়ে আসেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মস্থল পরিবর্তন এবং পদায়নের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সরকারি বিধিমালা (রুলস অব বিজনেস) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ইচ্ছায় নির্ধারিত হয় না।
বিএমইটির পরিচালক (বহির্গমন) মো. তাজিম-উর-রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও সিন্ডিকেট করে বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রভাবশালী রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের যোগসাজশে তিনি বিএমইটির বহির্গমন শাখায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। নিয়ম বহির্ভূতভাবে দ্রুত বহির্গমন ছাড়পত্র দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। বৈধ ও সত্যায়িত ভিসা থাকার পরেও এই সিন্ডিকেট ছাড়পত্র আটকে রেখে বা অনৈতিক সুবিধা দাবির মাধ্যমে বিদেশগামী শ্রমিকদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবনে সহজেই লোকজন প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু বর্হিগমন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকতে গেলে নিরাপত্তাকর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হয়। তবে যাদের সঙ্গে লেনদেন রয়েছে তাদের ঢুকতে সমস্যা হয় না। এই প্রতিবেদক বর্হিগমন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করার সময় দেখতে পান, কর্তব্যরত আনসার সদস্য দুইজনকে ভেতরে ঢোকার সুযোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের হাতে কয়েকটি পাসপোর্ট দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পর সুদর্শন এক ব্যক্তি আসার পর কার্যালয়ের গেট খুলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সেবাপ্রার্থী কয়েকজনের জটলা দেখা যায়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আনসার সদস্যদের ম্যানেজ করে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিএমটিইর পরিচালকের কক্ষের সামনে গেলে সেখানে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মী এই প্রতিবেদকের কাছে সেখানে আসার কারণ জানতে চান। তখন পরিচালকের সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি জানালে নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ‘ আপনি তাকে (পরিচালক) ফোন করেন। ফোনে ঢোকার অনুমতি দিলে ঢুকতে পারবেন।’ তখন এই প্রতিবেদক তার একটি বিজনেস কার্ড ওই নিরাপত্তাকর্মীকে দেন। ওই বিজনেস কার্ড নিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ওই কার্যালয়ের ভেতরে চলে যান এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বলেন, ’স্যার একটি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন, আপনি পড়ে আসেন।’
এরপর তাজিম-উর-রহমানের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেন। এই সময় নাম-পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। পরে সোমবার সন্ধ্যায় তার মোবাইল ফোনে তিনটি প্রশ্ন লিখে খুদেবার্তা পাঠানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত ওই খুদেবার্তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জনশক্তি অফিসে সশরীরে গিয়ে কাজ করা বন্ধ করতে হবে। এতে মানুষের বাড়তি চাপ পড়ে। সব কাজ অনলাইনে দেওয়া হলে সেখানের অনিয়ম বন্ধ হবে। তবে কোনো ফাইলে জটিলতা থাকলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিতে সরাসরি অফিসে যেতে হতে পারে।
বিএমইটিতে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢালাওভাবে অভিযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু এর সত্যতা পাওয়া যায় না। তাদের কার্যালয়ে দুর্নীতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

যেখানে লোভনীয় চেয়ার সেখানেই তাজিম-উর-রহমান
আয়নাল হোসেন

যেখানে লোভনীয় পদ সেখানেই বছরের পর বছর চাকরি করছেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৭তম ব্যাচ) কর্মকর্তা তাজিম-উর-রহমান। তিনি বর্তমানে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালকের (বহির্গমন) দায়িত্ব পালন করছেন। অবৈধভাবে বাড়তি আয়ের সুযোগ থাকায় তিনি এই অফিসে কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার পাসপোর্ট জমা হয়। বহির্গমন শাখা থেকে বিদেশগামী কর্মীদের পেশাগত সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। প্রতিটি সার্টিফিকেটের জন্য ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। ভিসা সত্যায়িত করার নামে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এছাড়া ‘বায়োমেট্রিক’ তথ্য দেওয়ার সময়ও টাকা আদায় করা হচ্ছে। এসব অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে তাজিম-উর-রহমান সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির কর্মী বলেন, ‘এখানে সাধারণভাবে পাসপোর্ট জমা দিলে সরকারি ফি ছাড়া কোনো বাড়তি টাকা নেওয়ার কথা নয়। তবে কোনো ভিসায় সংশ্লিষ্ট দেশের ‘অ্যাটাস্টেশন’ না থাকলে সেটির কাজ করাতে ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এছাড়া সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রেও দিতে হয় বাড়তি টাকা। বিশেষ করে নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণে দেড় মাস সময় লাগে। সেখানে বাড়তি ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা দিলে আরও আগেই সার্টিফিকেট পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ‘বায়োমেট্রিক’ তথ্য দেওয়ার সময়ও কিছুটা সমস্যা হলে টাকা দিয়ে ছাড় করাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, তাজিম-উর-রহমান জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক থাকাকালে মিরপুর-মোহাম্মদপুর এলাকার পরিত্যক্ত সম্পত্তি নামজারির দায়িত্বে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর তিনি পূর্ত মন্ত্রণালয়ে আসেন। এসময় মতিঝিল-খিলগাঁও-বাসাবো এলাকার দায়িত্বে ছিলেন। এরপর বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) দায়িত্বে থাকাকালে কেনাকাটায় জড়িত ছিলেন। তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর ব্যাপারীর খুব কাছের মানুষ ছিলেন। তার প্রভাবে ব্যাপক প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন তাজিম-উর-রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিজি প্রেসে উপ-পরিচালক (উপসচিব) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তাজিম-উর-রহমান। সেখানে তিনি সরকারের বিভিন্ন গেজেট, ফরম ও প্রকাশনা মুদ্রণ এবং এসব তদারকির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর তিনি বিএমইটিতে পরিচালক পদে বদলি হয়ে আসেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মস্থল পরিবর্তন এবং পদায়নের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সরকারি বিধিমালা (রুলস অব বিজনেস) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ইচ্ছায় নির্ধারিত হয় না।
বিএমইটির পরিচালক (বহির্গমন) মো. তাজিম-উর-রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও সিন্ডিকেট করে বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রভাবশালী রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকের যোগসাজশে তিনি বিএমইটির বহির্গমন শাখায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। নিয়ম বহির্ভূতভাবে দ্রুত বহির্গমন ছাড়পত্র দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। বৈধ ও সত্যায়িত ভিসা থাকার পরেও এই সিন্ডিকেট ছাড়পত্র আটকে রেখে বা অনৈতিক সুবিধা দাবির মাধ্যমে বিদেশগামী শ্রমিকদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবনে সহজেই লোকজন প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু বর্হিগমন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকতে গেলে নিরাপত্তাকর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হয়। তবে যাদের সঙ্গে লেনদেন রয়েছে তাদের ঢুকতে সমস্যা হয় না। এই প্রতিবেদক বর্হিগমন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করার সময় দেখতে পান, কর্তব্যরত আনসার সদস্য দুইজনকে ভেতরে ঢোকার সুযোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের হাতে কয়েকটি পাসপোর্ট দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পর সুদর্শন এক ব্যক্তি আসার পর কার্যালয়ের গেট খুলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সেবাপ্রার্থী কয়েকজনের জটলা দেখা যায়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আনসার সদস্যদের ম্যানেজ করে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিএমটিইর পরিচালকের কক্ষের সামনে গেলে সেখানে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মী এই প্রতিবেদকের কাছে সেখানে আসার কারণ জানতে চান। তখন পরিচালকের সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি জানালে নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ‘ আপনি তাকে (পরিচালক) ফোন করেন। ফোনে ঢোকার অনুমতি দিলে ঢুকতে পারবেন।’ তখন এই প্রতিবেদক তার একটি বিজনেস কার্ড ওই নিরাপত্তাকর্মীকে দেন। ওই বিজনেস কার্ড নিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ওই কার্যালয়ের ভেতরে চলে যান এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বলেন, ’স্যার একটি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন, আপনি পড়ে আসেন।’
এরপর তাজিম-উর-রহমানের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেন। এই সময় নাম-পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। পরে সোমবার সন্ধ্যায় তার মোবাইল ফোনে তিনটি প্রশ্ন লিখে খুদেবার্তা পাঠানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত ওই খুদেবার্তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জনশক্তি অফিসে সশরীরে গিয়ে কাজ করা বন্ধ করতে হবে। এতে মানুষের বাড়তি চাপ পড়ে। সব কাজ অনলাইনে দেওয়া হলে সেখানের অনিয়ম বন্ধ হবে। তবে কোনো ফাইলে জটিলতা থাকলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিতে সরাসরি অফিসে যেতে হতে পারে।
বিএমইটিতে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢালাওভাবে অভিযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু এর সত্যতা পাওয়া যায় না। তাদের কার্যালয়ে দুর্নীতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।









