শিরোনাম

পৃথিবীর আয়ু কত

সিটিজেন ডেস্ক
পৃথিবীর আয়ু কত
ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশের অসীম শূন্যতায় ছড়িয়ে থাকা গ্রহগুলোকে আমরা স্থির ও চিরন্তন মনে করলেও, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। প্রতিটি গ্রহের রয়েছে নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল। যা মূলত নির্ধারিত হয় তার জন্মদাতা নক্ষত্রের আচরণ এবং নিজস্ব ভূতাত্ত্বিক সক্রিয়তার ওপর। সম্প্রতি মহাকাশ বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে গ্রহের জন্ম, বিবর্তন এবং করুণ পরিণতির চমকপ্রদ সব তথ্য।

বিজ্ঞানীদের মতে, একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকা গ্যাস ও ধূলিকণার ঘূর্ণাবর্ত থেকেই গ্রহের জীবনের শুরু। অত্যন্ত ক্ষুদ্র ধূলিকণাগুলো একে অপরের সাথে ধাক্কা খেয়ে বড় হতে থাকে। একপর্যায়ে যখন এদের ভর বৃদ্ধি পায়, তখন মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এরা আশপাশের পদার্থকে নিজের দিকে টেনে নিতে শুরু করে। এভাবেই কোটি কোটি বছরের সংঘর্ষ ও বিবর্তনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ গ্রহের সৃষ্টি হয়।

আমাদের চিরচেনা পৃথিবীর আয়ু সরাসরি সূর্যের সাথে জড়িত। বর্তমানে সূর্য তার কেন্দ্রে হাইড্রোজেন পুড়িয়ে হিলিয়ামে রূপান্তরের মাধ্যমে যে শক্তি উৎপন্ন করছে, তা পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রেখেছে। তবে নক্ষত্রদেরও বার্ধক্য আছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ৫০০ কোটি বছর পর সূর্যের হাইড্রোজেনের মজুদ ফুরিয়ে যাবে এবং এটি আকারে বিশাল হয়ে একটি লাল দানব নক্ষত্রে পরিণত হবে। সূর্য পৃথিবীকে গিলে ফেলার অনেক আগেই এর প্রচণ্ড উত্তাপে পৃথিবীর সমস্ত মহাসাগর বাষ্পীভূত হয়ে যাবে। বায়ুমণ্ডল হারিয়ে পৃথিবী হয়ে পড়বে এক তপ্ত মরুভূমি। সৃষ্টির শুরু থেকে চূড়ান্ত ধ্বংস পর্যন্ত পৃথিবীর মোট আয়ু ধরা হয়েছে প্রায় ৯৫০ কোটি বছর।

গ্রহ বিজ্ঞানী ম্যাথিউ রেইনহোল্ডের মতে, একটি গ্রহের মৃত্যু কেবল তার নক্ষত্রে বিলীন হওয়া নয়। যখন একটি গ্রহে প্রাণের অনুকূল পরিবেশ থাকে না, টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া থেমে যায় এবং কার্বন-সিলকেট চক্রের মতো অভ্যন্তরীণ ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়, তখনই তাকে মৃত গ্রহ হিসেবে গণ্য করা হয়।

মহাবিশ্বের সব গ্রহের আয়ু পৃথিবীর মতো নয়। রেড ডোয়ার্ফ বা লাল বামন নামক শীতল নক্ষত্রগুলো অত্যন্ত ধীরগতিতে জ্বালানি পোড়ায়। এই নক্ষত্রগুলোকে কেন্দ্র করে আবর্তিত পাথুরে গ্রহগুলো পৃথিবীর চেয়ে অনেক বেশি সময়—প্রায় ৩০ থেকে ৯০ বিলিয়ন বছর পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।

মহাকাশ গবেষকদের মতে, গ্রহের দীর্ঘস্থায়িত্ব নির্ভর করে তার অভ্যন্তরীণ থার্মোস্ট্যাট বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর। অনেক ক্ষেত্রে নক্ষত্র নিভে যাওয়ার আগেই গ্রহ তার অভ্যন্তরীণ শক্তি হারিয়ে মৃত হয়ে পড়ে।

মহাজাগতিক এই সমীকরণ প্রমাণ করে যে, প্রতিটি গ্রহই এক একটি বিবর্তিত সত্তা। যারা সময়ের নিয়মে জন্ম নেয় এবং নক্ষত্রের শেষ নিঃশ্বাসের সাথে বিলীন হয়ে যায়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

/এসবি/