শিরোনাম

সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর জন্মদিন আজ

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক
সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর জন্মদিন আজ
সৈয়দ আব্দুল হাদী

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর ৮৪তম জন্মদিন আজ। ১৯৪০ সালের ১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার শাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দিনটিতে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সতীর্থদের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি।

জাদুকরী সুরের অধিকারী এই শিল্পীর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন রেখেছে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে বেসরকারি টিভি চ্যানেল আইতে প্রচারিত হয়েছে তার গাওয়া কালজয়ী ১২টি গান। শাইখ সিরাজের পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন লুইপা। এতে গানগুলো নতুন করে গেয়েছেন ইমরান, সাব্বির, অপু আনাম এবং আতিক।

দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে রয়েছে সানজিদা রহমানের উপস্থাপনায় বিশেষ তারকা কথন। এতে সৈয়দ আব্দুল হাদী উপস্থিত থাকবেন। তার সঙ্গে যুক্ত হবেন গীতিকার রফিকুজ্জমান, শিল্পী মো. খুরশীদ আলম এবং আবিদা সুলতানা। তাদের আড্ডা-আলাপে উঠে আসবে শিল্পীর জীবনের নানা অজানা গল্প।

বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে প্রচারিত হবে শাইখ সিরাজ নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘গল্প আছে এখানে’। এ প্রামাণ্য চিত্রে দিলখোলা আলাপচারিতায় সৈয়দ আব্দুল হাদীর শৈশব, সংগীত জীবনের সূচনা, বাংলাদেশের সংগীতের বিবর্তন, সমকালীন শিল্পচর্চা এবং আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতি প্রত্যাশার কথা উঠে আসবে।

সৈয়দ আব্দুল হাদীর বাবা ইস্ট পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস অফিসার ছিলেন। তিনি সংগীতানুরাগী ছিলেন। বাবার গ্রামোফোনে গান শুনে শৈশবেই সংগীতের প্রতি আগ্রহী হন তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে সৈয়দ আবদুল হাদী একক কণ্ঠে প্রথম বাংলা সিনেমায় গান করেন। সিনেমার নাম ছিল ‘ডাকবাবু’। মো. মনিরুজ্জামানের রচনায় সঙ্গীত পরিচালক আলী হোসেনের সুরে একটি গানের মাধ্যমে সৈয়দ আব্দুল হাদীর চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু।

বেতারে গাওয়া তার প্রথম জনপ্রিয় গান ‘কিছু বলো, এই নির্জন প্রহরের কণাগুলো হৃদয়মাধুরী দিয়ে ভরে তোলো’। সালাউদ্দিন জাকি পরিচালিত ঘুড্ডি চলচ্চিত্রের গানে সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছিলেন লাকী আখন্দ।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত হয় সৈয়দ আবদুল হাদীর প্রথম রবীন্দ্র সংগীতের একক অ্যালবাম ‘যখন ভাঙলো মিলন মেলা’। হাদীর গাওয়া কালজয়ী গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো’, ‘আছেন আমার মোক্তার, আছেন আমার বারিস্টার’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তেও তুমি’, ‘এমনও তো প্রেম হয়’, ‘কেউ কোনো দিন আমারে তো কথা দিলো না’, ‘যেও না সাথী’, ‘আমি তোমারিই প্রেম ভিখারী’, ‘চোখ বুজিলে দুনিয়া আন্ধার’, ‘তেল গেলে ফুরাইয়া’ ইত্যাদি।

গানের জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী হিসেবে তিনি ৫ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া ২০০০ সালে তিনি একুশে পদ পান। সম্প্রতি শিল্পকলা একাডেমি তাকে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে।

/জেএইচ/