শিরোনাম

সালমান শাহ হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন, যা বললেন আইনজীবী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
সালমান শাহ হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন, যা বললেন আইনজীবী
চিত্রনায়ক সালমান শাহ

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মামলার অন্যতম আসামি খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তারের পর তার জবানবন্দিতে উঠে আসে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডনের জবানবন্দি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ঘটনার দিন ওই বাড়িতে আজিজ মোহাম্মদ ভাই এবং সামিরাসহ অন্যান্য আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে সালমান শাহর নাকে-মুখে ক্লোরোফোম দিয়ে অচেতন করা হয়। অচেতনের মাত্রা আরও গভীর করতে তাকে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিলো। পরবর্তীতে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তার মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সেই দড়িটি ডন নিজের কোমরে বেঁধে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, এই জবানবন্দির ভিত্তিতে মামলাটি থানায় নথিভুক্ত হয়। পরবর্তীতে মামলার আসামি হিসেবে ডনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। জামিনের জন্য কোনো আবেদন করা হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন ও মামলার বিষয়বস্তু বিবেচনা করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এর আগে, রবিবার (৯ আগস্ট) ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা খলনায়ক আশরাফুল হক ডন হককে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। দীর্ঘদিন ধরে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে জল্পনা চললেও তদন্তের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন পরে সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে চলচ্চিত্রে পা রাখেন সালমান শাহ। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিনয়গুণ ও জনপ্রিয়তায় তিনি ঢাকাই সিনেমার অন্যতম শীর্ষ তারকায় পরিণত হন। তবে তার মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারের পক্ষ থেকে এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করা হয়।

সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী বলেন, আমার ছেলে হত্যার শিকার হয়েছে। পরিবার হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ সেটিকে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছিলো। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, অপমৃত্যুর মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে সেটি স্বাভাবিকভাবেই হত্যা মামলায় রূপ নেবে।

মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন সালমান শাহ। স্বল্প সময়ের এই ক্যারিয়ারেই তিনি দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও পর্দার উপস্থিতির কারণে নব্বইয়ের দশকের এই তারকা দর্শক ও সমালোচকদের কাছে হয়ে উঠেছিলেন ঢালিউডের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার আকস্মিক মৃত্যু তাই আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে গভীর আগ্রহ ও আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।

/এসবি/