সদরঘাটে ছোট বোতাম ঘিরেই বড় ব্যবসা

সদরঘাটে ছোট বোতাম ঘিরেই বড় ব্যবসা
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

পোশাকের একটি ছোট্ট বোতাম, জুতার একজোড়া ফিতা কিংবা সামান্য একটি জিপার। দৈনন্দিন জীবনে এসব ক্ষুদ্র উপকরণকে আলাদা করে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ এই ছোট ছোট পণ্যগুলোই সচল রাখে দেশের বিশাল পোশাকশিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ চাকা। আর সেই ক্ষুদ্র পণ্যের বড় বাজার গড়ে উঠেছে পুরান ঢাকার সদরঘাটে।
সোমবার (২১ জুন) সদরঘাটের মায়াকাতারা মার্কেট, জনতা সমবায় মার্কেট ও সিটি প্লাজা ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকানে বোতামের চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে আছে জুতার ফিতা, বিভিন্ন ধরনের সুতা, লেইস ও জিপার। ক্ষুদ্র দরজি, ফ্যাশন উদ্যোক্তা কিংবা অনলাইন পোশাক বিক্রেতারা এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সংগ্রহ করতে পারছেন। ক্ষুদ্র পণ্যের এই বাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন লেনদেন হয় কোটি টাকা, যা নীরবে দেশের পোশাকশিল্পের নানা প্রয়োজনে জোগান দিয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, অধিকাংশ বোতাম ও আনুষঙ্গিক পণ্য আসে চীন, ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে। পাশাপাশি স্থানীয় কিছু কারখানাতেও প্লাস্টিক ও সাধারণ মানের বোতাম উৎপাদন করা হয়। তবে ডলারের দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় এবং শুল্কের কারণে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে।
বাইরে থেকে ছোটোখাটো ব্যবসার মতো মনে হলেও এই পণ্যগুলোকে ঘিরেই প্রতিদিন জমে ওঠে কোটি টাকার বাণিজ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দরজি, পোশাক ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে সদরঘাট এখন পোশাক সামগ্রীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কেন্দ্র।
এখানে প্লাস্টিক, মেটাল, কাঠ, শেল, কাপড় মোড়ানো, চুম্বকযুক্ত, প্রেস বোতাম, শার্ট ও কোটের বোতাম, শিশুদের পোশাকের নকশাদার বোতামসহ নানা ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন মান ও রঙের জুতার ফিতা, সেলাইয়ের সুতা, জামার লেইস, জিপার, হুক, কলার পিন, ফিতা, ইলাস্টিকসহ পোশাক তৈরির প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের অ্যাকসেসরিজ বিক্রি হচ্ছে।
রং, আকার, নকশা ও মানভেদে বোতামের দামও ভিন্ন। সাধারণ প্লাস্টিকের বোতাম ডজন হিসেবে বিক্রি হলেও উন্নতমানের বা নকশাদার বোতাম বিক্রি হয় প্যাকেট ও গ্রস হিসেবে। বাজারে কয়েক টাকা থেকে শুরু করে কয়েকশ টাকা মূল্যের বোতামও পাওয়া যায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন পোশাক কারখানা, টেইলার্স শপ, বুটিক হাউস এবং স্থানীয় পোশাক ব্যবসায়ীরা সদরঘাটের এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল। ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও পাইকাররা নিয়মিত এখানে আসেন।
মায়াকাতারা মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. সোহেল বলেন, ‘বোতাম দেখতে ছোট জিনিস হলেও পোশাকের সঙ্গে এর সম্পর্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। একই ডিজাইনের পোশাকে বোতাম বদলে দিলে পুরো লুক পাল্টে যায়। তাই এখন ক্রেতারা শুধু কম দামের বোতাম খোঁজেন না, ডিজাইন ও মানও দেখেন।’
রনি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রাসেল বলেন, ‘আগে ক্রেতারা একসঙ্গে অনেক মাল নিতেন। এখন অনেকে অল্প অল্প করে কিনছেন। পোশাকের ব্যবসা কমে গেলে বোতামের ব্যবসাতেও প্রভাব পড়ে। আবার ঈদ, শীত ও বিয়ের মৌসুমে বিক্রি বাড়ে।’
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, নকশাদার ও শিশুদের পোশাকের বোতামের চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে বুটিক ও অনলাইনভিত্তিক পোশাক ব্যবসার প্রসারের ফলে নতুন ধরনের বোতাম, লেইস ও অলংকারসামগ্রীর ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। মেয়েদের পোশাকে পাথর বসানো, মুক্তার মতো, ফুলের নকশা ও ধাতব বোতাম বেশি বিক্রি হচ্ছে।
গাজীপুর থেকে আসা গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ব্যবসায়ী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমি ছোট পরিসরে গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজের ব্যবসা করি। সদরঘাটের এই বাজারে এক জায়গা থেকেই বোতাম, জিপার, সুতা, ফিতা সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। দামও তুলনামূলক কম হওয়ায় নিয়মিত এখান থেকেই মালামাল কিনি।’
টেইলারিং পেশার সঙ্গে যুক্ত মোছা. রুমা আক্তার বলেন, ‘টেইলারিংয়ের কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের বোতাম ও লেইস প্রয়োজন হয়। এখানে পণ্যের বৈচিত্র্য বেশি, তাই পছন্দমতো ডিজাইন ও মানের জিনিস সহজেই পাওয়া যায়।’
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মার্কেটের ভেতরে জায়গার সংকট, যানজট, পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি এবং অনলাইনভিত্তিক বিক্রির প্রতিযোগিতা তাদের ব্যবসায় চাপ তৈরি করছে। তারপরও দেশের পোশাক শিল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকায় সদরঘাটের এই বাজার এখনো নিজের গুরুত্ব ধরে রেখেছে।
পোশাকের একটি ছোট্ট বোতাম কিংবা এক জোড়া জুতার ফিতা হয়ত আলাদাভাবে খুব বেশি নজর কাড়ে না। কিন্তু এসব ক্ষুদ্র পণ্যকে ঘিরেই সদরঘাটে প্রতিদিন গড়ে ওঠে এক বিশাল বাণিজ্যচক্র, যা নীরবে সচল রাখছে দেশের পোশাক ও দর্জিশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পোশাকের একটি ছোট্ট বোতাম, জুতার একজোড়া ফিতা কিংবা সামান্য একটি জিপার। দৈনন্দিন জীবনে এসব ক্ষুদ্র উপকরণকে আলাদা করে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ এই ছোট ছোট পণ্যগুলোই সচল রাখে দেশের বিশাল পোশাকশিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ চাকা। আর সেই ক্ষুদ্র পণ্যের বড় বাজার গড়ে উঠেছে পুরান ঢাকার সদরঘাটে।
সোমবার (২১ জুন) সদরঘাটের মায়াকাতারা মার্কেট, জনতা সমবায় মার্কেট ও সিটি প্লাজা ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকানে বোতামের চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে আছে জুতার ফিতা, বিভিন্ন ধরনের সুতা, লেইস ও জিপার। ক্ষুদ্র দরজি, ফ্যাশন উদ্যোক্তা কিংবা অনলাইন পোশাক বিক্রেতারা এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সংগ্রহ করতে পারছেন। ক্ষুদ্র পণ্যের এই বাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন লেনদেন হয় কোটি টাকা, যা নীরবে দেশের পোশাকশিল্পের নানা প্রয়োজনে জোগান দিয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, অধিকাংশ বোতাম ও আনুষঙ্গিক পণ্য আসে চীন, ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে। পাশাপাশি স্থানীয় কিছু কারখানাতেও প্লাস্টিক ও সাধারণ মানের বোতাম উৎপাদন করা হয়। তবে ডলারের দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় এবং শুল্কের কারণে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে।
বাইরে থেকে ছোটোখাটো ব্যবসার মতো মনে হলেও এই পণ্যগুলোকে ঘিরেই প্রতিদিন জমে ওঠে কোটি টাকার বাণিজ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দরজি, পোশাক ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে সদরঘাট এখন পোশাক সামগ্রীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কেন্দ্র।
এখানে প্লাস্টিক, মেটাল, কাঠ, শেল, কাপড় মোড়ানো, চুম্বকযুক্ত, প্রেস বোতাম, শার্ট ও কোটের বোতাম, শিশুদের পোশাকের নকশাদার বোতামসহ নানা ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন মান ও রঙের জুতার ফিতা, সেলাইয়ের সুতা, জামার লেইস, জিপার, হুক, কলার পিন, ফিতা, ইলাস্টিকসহ পোশাক তৈরির প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের অ্যাকসেসরিজ বিক্রি হচ্ছে।
রং, আকার, নকশা ও মানভেদে বোতামের দামও ভিন্ন। সাধারণ প্লাস্টিকের বোতাম ডজন হিসেবে বিক্রি হলেও উন্নতমানের বা নকশাদার বোতাম বিক্রি হয় প্যাকেট ও গ্রস হিসেবে। বাজারে কয়েক টাকা থেকে শুরু করে কয়েকশ টাকা মূল্যের বোতামও পাওয়া যায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন পোশাক কারখানা, টেইলার্স শপ, বুটিক হাউস এবং স্থানীয় পোশাক ব্যবসায়ীরা সদরঘাটের এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল। ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও পাইকাররা নিয়মিত এখানে আসেন।
মায়াকাতারা মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. সোহেল বলেন, ‘বোতাম দেখতে ছোট জিনিস হলেও পোশাকের সঙ্গে এর সম্পর্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। একই ডিজাইনের পোশাকে বোতাম বদলে দিলে পুরো লুক পাল্টে যায়। তাই এখন ক্রেতারা শুধু কম দামের বোতাম খোঁজেন না, ডিজাইন ও মানও দেখেন।’
রনি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রাসেল বলেন, ‘আগে ক্রেতারা একসঙ্গে অনেক মাল নিতেন। এখন অনেকে অল্প অল্প করে কিনছেন। পোশাকের ব্যবসা কমে গেলে বোতামের ব্যবসাতেও প্রভাব পড়ে। আবার ঈদ, শীত ও বিয়ের মৌসুমে বিক্রি বাড়ে।’
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, নকশাদার ও শিশুদের পোশাকের বোতামের চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে বুটিক ও অনলাইনভিত্তিক পোশাক ব্যবসার প্রসারের ফলে নতুন ধরনের বোতাম, লেইস ও অলংকারসামগ্রীর ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। মেয়েদের পোশাকে পাথর বসানো, মুক্তার মতো, ফুলের নকশা ও ধাতব বোতাম বেশি বিক্রি হচ্ছে।
গাজীপুর থেকে আসা গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ব্যবসায়ী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমি ছোট পরিসরে গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজের ব্যবসা করি। সদরঘাটের এই বাজারে এক জায়গা থেকেই বোতাম, জিপার, সুতা, ফিতা সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। দামও তুলনামূলক কম হওয়ায় নিয়মিত এখান থেকেই মালামাল কিনি।’
টেইলারিং পেশার সঙ্গে যুক্ত মোছা. রুমা আক্তার বলেন, ‘টেইলারিংয়ের কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের বোতাম ও লেইস প্রয়োজন হয়। এখানে পণ্যের বৈচিত্র্য বেশি, তাই পছন্দমতো ডিজাইন ও মানের জিনিস সহজেই পাওয়া যায়।’
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মার্কেটের ভেতরে জায়গার সংকট, যানজট, পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি এবং অনলাইনভিত্তিক বিক্রির প্রতিযোগিতা তাদের ব্যবসায় চাপ তৈরি করছে। তারপরও দেশের পোশাক শিল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকায় সদরঘাটের এই বাজার এখনো নিজের গুরুত্ব ধরে রেখেছে।
পোশাকের একটি ছোট্ট বোতাম কিংবা এক জোড়া জুতার ফিতা হয়ত আলাদাভাবে খুব বেশি নজর কাড়ে না। কিন্তু এসব ক্ষুদ্র পণ্যকে ঘিরেই সদরঘাটে প্রতিদিন গড়ে ওঠে এক বিশাল বাণিজ্যচক্র, যা নীরবে সচল রাখছে দেশের পোশাক ও দর্জিশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সদরঘাটে ছোট বোতাম ঘিরেই বড় ব্যবসা
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

পোশাকের একটি ছোট্ট বোতাম, জুতার একজোড়া ফিতা কিংবা সামান্য একটি জিপার। দৈনন্দিন জীবনে এসব ক্ষুদ্র উপকরণকে আলাদা করে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ এই ছোট ছোট পণ্যগুলোই সচল রাখে দেশের বিশাল পোশাকশিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ চাকা। আর সেই ক্ষুদ্র পণ্যের বড় বাজার গড়ে উঠেছে পুরান ঢাকার সদরঘাটে।
সোমবার (২১ জুন) সদরঘাটের মায়াকাতারা মার্কেট, জনতা সমবায় মার্কেট ও সিটি প্লাজা ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকানে বোতামের চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে আছে জুতার ফিতা, বিভিন্ন ধরনের সুতা, লেইস ও জিপার। ক্ষুদ্র দরজি, ফ্যাশন উদ্যোক্তা কিংবা অনলাইন পোশাক বিক্রেতারা এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সংগ্রহ করতে পারছেন। ক্ষুদ্র পণ্যের এই বাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন লেনদেন হয় কোটি টাকা, যা নীরবে দেশের পোশাকশিল্পের নানা প্রয়োজনে জোগান দিয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, অধিকাংশ বোতাম ও আনুষঙ্গিক পণ্য আসে চীন, ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে। পাশাপাশি স্থানীয় কিছু কারখানাতেও প্লাস্টিক ও সাধারণ মানের বোতাম উৎপাদন করা হয়। তবে ডলারের দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় এবং শুল্কের কারণে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে।
বাইরে থেকে ছোটোখাটো ব্যবসার মতো মনে হলেও এই পণ্যগুলোকে ঘিরেই প্রতিদিন জমে ওঠে কোটি টাকার বাণিজ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দরজি, পোশাক ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে সদরঘাট এখন পোশাক সামগ্রীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কেন্দ্র।
এখানে প্লাস্টিক, মেটাল, কাঠ, শেল, কাপড় মোড়ানো, চুম্বকযুক্ত, প্রেস বোতাম, শার্ট ও কোটের বোতাম, শিশুদের পোশাকের নকশাদার বোতামসহ নানা ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন মান ও রঙের জুতার ফিতা, সেলাইয়ের সুতা, জামার লেইস, জিপার, হুক, কলার পিন, ফিতা, ইলাস্টিকসহ পোশাক তৈরির প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের অ্যাকসেসরিজ বিক্রি হচ্ছে।
রং, আকার, নকশা ও মানভেদে বোতামের দামও ভিন্ন। সাধারণ প্লাস্টিকের বোতাম ডজন হিসেবে বিক্রি হলেও উন্নতমানের বা নকশাদার বোতাম বিক্রি হয় প্যাকেট ও গ্রস হিসেবে। বাজারে কয়েক টাকা থেকে শুরু করে কয়েকশ টাকা মূল্যের বোতামও পাওয়া যায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বিভিন্ন পোশাক কারখানা, টেইলার্স শপ, বুটিক হাউস এবং স্থানীয় পোশাক ব্যবসায়ীরা সদরঘাটের এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল। ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও পাইকাররা নিয়মিত এখানে আসেন।
মায়াকাতারা মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. সোহেল বলেন, ‘বোতাম দেখতে ছোট জিনিস হলেও পোশাকের সঙ্গে এর সম্পর্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। একই ডিজাইনের পোশাকে বোতাম বদলে দিলে পুরো লুক পাল্টে যায়। তাই এখন ক্রেতারা শুধু কম দামের বোতাম খোঁজেন না, ডিজাইন ও মানও দেখেন।’
রনি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রাসেল বলেন, ‘আগে ক্রেতারা একসঙ্গে অনেক মাল নিতেন। এখন অনেকে অল্প অল্প করে কিনছেন। পোশাকের ব্যবসা কমে গেলে বোতামের ব্যবসাতেও প্রভাব পড়ে। আবার ঈদ, শীত ও বিয়ের মৌসুমে বিক্রি বাড়ে।’
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, নকশাদার ও শিশুদের পোশাকের বোতামের চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে বুটিক ও অনলাইনভিত্তিক পোশাক ব্যবসার প্রসারের ফলে নতুন ধরনের বোতাম, লেইস ও অলংকারসামগ্রীর ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। মেয়েদের পোশাকে পাথর বসানো, মুক্তার মতো, ফুলের নকশা ও ধাতব বোতাম বেশি বিক্রি হচ্ছে।
গাজীপুর থেকে আসা গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ব্যবসায়ী মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমি ছোট পরিসরে গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজের ব্যবসা করি। সদরঘাটের এই বাজারে এক জায়গা থেকেই বোতাম, জিপার, সুতা, ফিতা সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। দামও তুলনামূলক কম হওয়ায় নিয়মিত এখান থেকেই মালামাল কিনি।’
টেইলারিং পেশার সঙ্গে যুক্ত মোছা. রুমা আক্তার বলেন, ‘টেইলারিংয়ের কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের বোতাম ও লেইস প্রয়োজন হয়। এখানে পণ্যের বৈচিত্র্য বেশি, তাই পছন্দমতো ডিজাইন ও মানের জিনিস সহজেই পাওয়া যায়।’
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মার্কেটের ভেতরে জায়গার সংকট, যানজট, পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি এবং অনলাইনভিত্তিক বিক্রির প্রতিযোগিতা তাদের ব্যবসায় চাপ তৈরি করছে। তারপরও দেশের পোশাক শিল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকায় সদরঘাটের এই বাজার এখনো নিজের গুরুত্ব ধরে রেখেছে।
পোশাকের একটি ছোট্ট বোতাম কিংবা এক জোড়া জুতার ফিতা হয়ত আলাদাভাবে খুব বেশি নজর কাড়ে না। কিন্তু এসব ক্ষুদ্র পণ্যকে ঘিরেই সদরঘাটে প্রতিদিন গড়ে ওঠে এক বিশাল বাণিজ্যচক্র, যা নীরবে সচল রাখছে দেশের পোশাক ও দর্জিশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।




