প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় আওয়ামী লীগ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় আওয়ামী লীগ
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সীমিত পরিসরে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা রাজধানী সহ সারাদেশে ঝটিকা মিছিল, লিফলেট বিতরণ ও ভার্চুয়াল কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা, আইনগত বাধা এবং প্রশাসনিক নজরদারির কারণে দলটির প্রকাশ্য রাজনীতিতে ফেরার পথ এখনও অনিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দলটির কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, আগামী ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে এসব কর্মসূচি প্রকাশ্যে নয়; বরং হঠাৎ করে মিছিল বা সমাবেশ করে দ্রুত স্থান ত্যাগের পরিকল্পনা রয়েছে।
দলটির তৃণমূল পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘একসময় এলাকায় দলীয় কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটত। এখন নিজের পরিচয় দিতেও ভয় লাগে। অনেক সহকর্মী ঘরছাড়া, কেউ মামলা নিয়ে ব্যস্ত, কেউ আবার রাজনীতি থেকেই দূরে সরে গেছে। নির্বাচনের পর ভেবেছিলাম পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে, অন্তত সংগঠনের খোঁজখবর নিতে পারবো। কিন্তু এখনো সেই সুযোগ তৈরি হয়নি। তারপরও ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা আশা জেগেছে। আমরা চাই দল আবার সাংগঠনিকভাবে দাঁড়াক এবং স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে ফিরতে পারুক।’
জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশ কারাগারে এবং অন্য অংশ দেশের বাইরে অবস্থান করায় সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।
হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে পুনরায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফেরার আশা তৈরি হয়। বিভিন্ন জেলায় ঝটিকা মিছিল ও সীমিত কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করে দলটি। কোথাও কোথাও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়ও সাময়িকভাবে খোলা হয়েছিল।
তবে তৃণমূল নেতাদের দাবি, নির্বাচনের পরও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করা হলেও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া, রাজনৈতিক চাপ এবং প্রশাসনিক বাধার কারণে অধিকাংশ উদ্যোগ টেকেনি।
এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ–সংক্রান্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী সংসদে পাস হওয়ায়, দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে রাজনীতি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তবে সংকটের মধ্যেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা চাঙাভাব দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘২৩ জুন শুধু একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়, এটি দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য মনোবল ফিরে পাওয়ার একটি উপলক্ষ। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলেও নেতাকর্মীরা কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য তৎপরতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি মাসের ২৩ তারিখ কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। পুলিশকে মাঠ পর্যায়ে অ্যালার্ট করা হয়েছে। আমরা সন্দেহ করছি, ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল উচ্ছৃঙ্খলতা বা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। সেজন্য সারাদেশে অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে পুলিশ বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করবে।’
পুলিশ সদর দফতর থেকেও জানানো হয়েছে, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেকপোস্ট, টহল, বিশেষ অভিযানসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও জোরদার করা হবে।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনে অবস্থিত ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে। তখন দলের নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শামসুল হক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৫ সালের তৃতীয় জাতীয় সম্মেলনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে বর্তমান ‘আওয়ামী লীগ’ নাম গ্রহণ করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সাংগঠনিক কাঠামো সচল রাখা এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা। পাশাপাশি শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি, আইনগত জটিলতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা দলটির পুনরুত্থানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেতৃত্বের দৃশ্যমান উপস্থিতি ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন ছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষে আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়া সহজ হবে না।
সব মিলিয়ে, ২৩ জুনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আওয়ামী লীগের জন্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয় বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা, কর্মী সমর্থকদের মনোবল এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা যাচাইয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সীমিত পরিসরে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা রাজধানী সহ সারাদেশে ঝটিকা মিছিল, লিফলেট বিতরণ ও ভার্চুয়াল কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা, আইনগত বাধা এবং প্রশাসনিক নজরদারির কারণে দলটির প্রকাশ্য রাজনীতিতে ফেরার পথ এখনও অনিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দলটির কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, আগামী ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে এসব কর্মসূচি প্রকাশ্যে নয়; বরং হঠাৎ করে মিছিল বা সমাবেশ করে দ্রুত স্থান ত্যাগের পরিকল্পনা রয়েছে।
দলটির তৃণমূল পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘একসময় এলাকায় দলীয় কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটত। এখন নিজের পরিচয় দিতেও ভয় লাগে। অনেক সহকর্মী ঘরছাড়া, কেউ মামলা নিয়ে ব্যস্ত, কেউ আবার রাজনীতি থেকেই দূরে সরে গেছে। নির্বাচনের পর ভেবেছিলাম পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে, অন্তত সংগঠনের খোঁজখবর নিতে পারবো। কিন্তু এখনো সেই সুযোগ তৈরি হয়নি। তারপরও ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা আশা জেগেছে। আমরা চাই দল আবার সাংগঠনিকভাবে দাঁড়াক এবং স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে ফিরতে পারুক।’
জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশ কারাগারে এবং অন্য অংশ দেশের বাইরে অবস্থান করায় সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।
হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে পুনরায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফেরার আশা তৈরি হয়। বিভিন্ন জেলায় ঝটিকা মিছিল ও সীমিত কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করে দলটি। কোথাও কোথাও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়ও সাময়িকভাবে খোলা হয়েছিল।
তবে তৃণমূল নেতাদের দাবি, নির্বাচনের পরও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করা হলেও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া, রাজনৈতিক চাপ এবং প্রশাসনিক বাধার কারণে অধিকাংশ উদ্যোগ টেকেনি।
এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ–সংক্রান্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী সংসদে পাস হওয়ায়, দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে রাজনীতি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তবে সংকটের মধ্যেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা চাঙাভাব দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘২৩ জুন শুধু একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়, এটি দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য মনোবল ফিরে পাওয়ার একটি উপলক্ষ। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলেও নেতাকর্মীরা কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য তৎপরতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি মাসের ২৩ তারিখ কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। পুলিশকে মাঠ পর্যায়ে অ্যালার্ট করা হয়েছে। আমরা সন্দেহ করছি, ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল উচ্ছৃঙ্খলতা বা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। সেজন্য সারাদেশে অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে পুলিশ বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করবে।’
পুলিশ সদর দফতর থেকেও জানানো হয়েছে, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেকপোস্ট, টহল, বিশেষ অভিযানসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও জোরদার করা হবে।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনে অবস্থিত ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে। তখন দলের নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শামসুল হক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৫ সালের তৃতীয় জাতীয় সম্মেলনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে বর্তমান ‘আওয়ামী লীগ’ নাম গ্রহণ করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সাংগঠনিক কাঠামো সচল রাখা এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা। পাশাপাশি শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি, আইনগত জটিলতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা দলটির পুনরুত্থানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেতৃত্বের দৃশ্যমান উপস্থিতি ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন ছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষে আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়া সহজ হবে না।
সব মিলিয়ে, ২৩ জুনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আওয়ামী লীগের জন্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয় বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা, কর্মী সমর্থকদের মনোবল এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা যাচাইয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় আওয়ামী লীগ
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সীমিত পরিসরে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা রাজধানী সহ সারাদেশে ঝটিকা মিছিল, লিফলেট বিতরণ ও ভার্চুয়াল কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা, আইনগত বাধা এবং প্রশাসনিক নজরদারির কারণে দলটির প্রকাশ্য রাজনীতিতে ফেরার পথ এখনও অনিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দলটির কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, আগামী ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে এসব কর্মসূচি প্রকাশ্যে নয়; বরং হঠাৎ করে মিছিল বা সমাবেশ করে দ্রুত স্থান ত্যাগের পরিকল্পনা রয়েছে।
দলটির তৃণমূল পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘একসময় এলাকায় দলীয় কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটত। এখন নিজের পরিচয় দিতেও ভয় লাগে। অনেক সহকর্মী ঘরছাড়া, কেউ মামলা নিয়ে ব্যস্ত, কেউ আবার রাজনীতি থেকেই দূরে সরে গেছে। নির্বাচনের পর ভেবেছিলাম পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে, অন্তত সংগঠনের খোঁজখবর নিতে পারবো। কিন্তু এখনো সেই সুযোগ তৈরি হয়নি। তারপরও ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা আশা জেগেছে। আমরা চাই দল আবার সাংগঠনিকভাবে দাঁড়াক এবং স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে ফিরতে পারুক।’
জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশ কারাগারে এবং অন্য অংশ দেশের বাইরে অবস্থান করায় সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।
হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে পুনরায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফেরার আশা তৈরি হয়। বিভিন্ন জেলায় ঝটিকা মিছিল ও সীমিত কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করে দলটি। কোথাও কোথাও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়ও সাময়িকভাবে খোলা হয়েছিল।
তবে তৃণমূল নেতাদের দাবি, নির্বাচনের পরও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করা হলেও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া, রাজনৈতিক চাপ এবং প্রশাসনিক বাধার কারণে অধিকাংশ উদ্যোগ টেকেনি।
এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ–সংক্রান্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী সংসদে পাস হওয়ায়, দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে রাজনীতি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তবে সংকটের মধ্যেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা চাঙাভাব দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘২৩ জুন শুধু একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়, এটি দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য মনোবল ফিরে পাওয়ার একটি উপলক্ষ। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলেও নেতাকর্মীরা কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য তৎপরতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি মাসের ২৩ তারিখ কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। পুলিশকে মাঠ পর্যায়ে অ্যালার্ট করা হয়েছে। আমরা সন্দেহ করছি, ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল উচ্ছৃঙ্খলতা বা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। সেজন্য সারাদেশে অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে পুলিশ বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করবে।’
পুলিশ সদর দফতর থেকেও জানানো হয়েছে, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেকপোস্ট, টহল, বিশেষ অভিযানসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও জোরদার করা হবে।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনে অবস্থিত ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে। তখন দলের নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শামসুল হক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৫ সালের তৃতীয় জাতীয় সম্মেলনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে বর্তমান ‘আওয়ামী লীগ’ নাম গ্রহণ করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সাংগঠনিক কাঠামো সচল রাখা এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা। পাশাপাশি শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি, আইনগত জটিলতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা দলটির পুনরুত্থানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেতৃত্বের দৃশ্যমান উপস্থিতি ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন ছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষে আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়া সহজ হবে না।
সব মিলিয়ে, ২৩ জুনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আওয়ামী লীগের জন্য শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয় বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা, কর্মী সমর্থকদের মনোবল এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা যাচাইয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।




