শিরোনাম

বাংলাদেশে ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে পোল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে পোল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান
পোল্যান্ডের পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মোট পোশাকের প্রায় ৪৫ শতাংশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো পোল্যান্ড। তবে সম্প্রতি দেশটির পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি কয়েকজন রপ্তানিকারকের পাওনা সংক্রান্ত জটিলতায় বাংলাদেশে ব্যবসা স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এর ১২ দিনের মাথায় এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে কোম্পানিটি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সঙ্গে আলোচনার পর প্রতিষ্ঠানটি আগের মতোই বাংলাদেশ থেকে পোশাক সংগ্রহ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলপিপির সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে বছরে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যেতো। পাশাপাশি সাত শতাধিক কারখানার অর্ডার ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা ছিলো।

এ বিষয়ে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর উভয়পক্ষ একটি যৌথ বিবৃতি তৈরি করেছে। এতে এলপিপির ব্যবসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ঘোষণা থাকছে। তবে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা রাশিয়ার প্রতিষ্ঠানকে যে পণ্য পাঠিয়েছেন, তার অর্থ যাতে রপ্তানিকারকেরা বুঝে পান, সেজন্য এলপিপি সহায়তা করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, রাশিয়ার খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশের প্রায় প্রায় ৪০ রপ্তানিকারকের ৪০ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ রপ্তানি অর্থ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, এফইএসের সঙ্গে রপ্তানি চুক্তি স্থাপনে এলপিপির ঢাকা অফিসের ভূমিকা ছিল। তবে এফইএসের আর্থিক সংকট ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাজনিত জটিলতায় ওই অর্থ আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

পাওনা অর্থ আদায়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আদালতের শরণাপন্ন হলে এলপিপির ঢাকা অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার বাসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হানা দেয়। এমন পরিস্থিতির মধ্যে গত ৩০ জুলাই এলপিপি বাংলাদেশে নতুন অর্ডার, পণ্য উন্নয়ন এবং কিছু ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, এলপিপি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বড় ক্রেতা। প্রতিষ্ঠানটির জন্য দেশের প্রায় ৭৭২টি কারখানা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাজ করে। যার পরিমাণ বছরে ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

/জেএইচ/