ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া কোনো স্লোগান নয়, পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া কোনো স্লোগান নয়, পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী
সিজেডএন ডেস্ক

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য হাতে নিয়েছে সরকার। এটা কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বলেছেন, চলতি দশকে রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চায় সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান এ তথ্য জানান।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে একটি নতুন সরকার এসেছে এবং দেশের একটি নতুন দিকনির্দেশনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া। পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি উৎপাদনকেন্দ্র এবং এ অঞ্চলের প্রবেশদ্বারে পরিণত করার কথাও বলেছেন তিনি।
পোশাকশিল্প আমাদের প্রথম প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমরা চাই ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং সবুজ শিল্প পরবর্তী প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কারখানা চাই, যেগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং এমন কর্মসংস্থান চাই, যা মানুষের মর্যাদা তৈরি করবে।’
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হেলথ কার্ড প্রবর্তনের কাজ প্রক্রিয়াধীন।’
বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মধ্যে ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের জন্য ১,০০৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের পক্ষে সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিপিসির বর্তমান পরিশোধন ক্ষমতা ১.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। সেইসঙ্গে পরিবেশবান্ধব পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিকৃত পরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে।
অর্থায়ন চুক্তিটিকে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু একটি লেনদেন নয়; বরং বাংলাদেশের প্রতি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আস্থারও বহিঃপ্রকাশ।’
কয়েক দশক ধরে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে গর্বিত।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধি উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। কোনো দেশ একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এখন অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও আইএসডিবির মধ্যে নতুন ধরনের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সহযোগিতা আরও উদ্ভাবনী, সাড়াপ্রদানকারী ও ফলাফলভিত্তিক হবে এবং বাংলাদেশের পরিবর্তিত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে আইএসডিবি ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আল জাসেরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্বল্প খরচে অর্থায়নের একটি মাধ্যম হিসেবে ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ড (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠায় ড. আল জাসেরের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আইসিএফ থেকে সুবিধা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে তহবিলটি সদস্য দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন সহায়তা আরও বাড়াবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকায় আইএসডিবির আঞ্চলিক হাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোতে সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের অন্যতম বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদার আইএসডিবি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ব্যাংকটি অনুদান, প্রকল্প ঋণ, বাণিজ্য অর্থায়ন, বেসরকারি খাতে অর্থায়ন ও রপ্তানি ঋণ নিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করে আসছে।

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য হাতে নিয়েছে সরকার। এটা কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বলেছেন, চলতি দশকে রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চায় সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান এ তথ্য জানান।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে একটি নতুন সরকার এসেছে এবং দেশের একটি নতুন দিকনির্দেশনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া। পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি উৎপাদনকেন্দ্র এবং এ অঞ্চলের প্রবেশদ্বারে পরিণত করার কথাও বলেছেন তিনি।
পোশাকশিল্প আমাদের প্রথম প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমরা চাই ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং সবুজ শিল্প পরবর্তী প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কারখানা চাই, যেগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং এমন কর্মসংস্থান চাই, যা মানুষের মর্যাদা তৈরি করবে।’
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হেলথ কার্ড প্রবর্তনের কাজ প্রক্রিয়াধীন।’
বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মধ্যে ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের জন্য ১,০০৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের পক্ষে সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিপিসির বর্তমান পরিশোধন ক্ষমতা ১.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। সেইসঙ্গে পরিবেশবান্ধব পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিকৃত পরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে।
অর্থায়ন চুক্তিটিকে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু একটি লেনদেন নয়; বরং বাংলাদেশের প্রতি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আস্থারও বহিঃপ্রকাশ।’
কয়েক দশক ধরে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে গর্বিত।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধি উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। কোনো দেশ একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এখন অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও আইএসডিবির মধ্যে নতুন ধরনের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সহযোগিতা আরও উদ্ভাবনী, সাড়াপ্রদানকারী ও ফলাফলভিত্তিক হবে এবং বাংলাদেশের পরিবর্তিত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে আইএসডিবি ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আল জাসেরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্বল্প খরচে অর্থায়নের একটি মাধ্যম হিসেবে ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ড (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠায় ড. আল জাসেরের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আইসিএফ থেকে সুবিধা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে তহবিলটি সদস্য দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন সহায়তা আরও বাড়াবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকায় আইএসডিবির আঞ্চলিক হাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোতে সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের অন্যতম বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদার আইএসডিবি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ব্যাংকটি অনুদান, প্রকল্প ঋণ, বাণিজ্য অর্থায়ন, বেসরকারি খাতে অর্থায়ন ও রপ্তানি ঋণ নিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করে আসছে।

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া কোনো স্লোগান নয়, পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী
সিজেডএন ডেস্ক

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য হাতে নিয়েছে সরকার। এটা কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বলেছেন, চলতি দশকে রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চায় সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান এ তথ্য জানান।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে একটি নতুন সরকার এসেছে এবং দেশের একটি নতুন দিকনির্দেশনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া। পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি উৎপাদনকেন্দ্র এবং এ অঞ্চলের প্রবেশদ্বারে পরিণত করার কথাও বলেছেন তিনি।
পোশাকশিল্প আমাদের প্রথম প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমরা চাই ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং সবুজ শিল্প পরবর্তী প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কারখানা চাই, যেগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং এমন কর্মসংস্থান চাই, যা মানুষের মর্যাদা তৈরি করবে।’
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হেলথ কার্ড প্রবর্তনের কাজ প্রক্রিয়াধীন।’
বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মধ্যে ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের জন্য ১,০০৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের পক্ষে সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিপিসির বর্তমান পরিশোধন ক্ষমতা ১.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। সেইসঙ্গে পরিবেশবান্ধব পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিকৃত পরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে।
অর্থায়ন চুক্তিটিকে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু একটি লেনদেন নয়; বরং বাংলাদেশের প্রতি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আস্থারও বহিঃপ্রকাশ।’
কয়েক দশক ধরে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে গর্বিত।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধি উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। কোনো দেশ একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এখন অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও আইএসডিবির মধ্যে নতুন ধরনের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সহযোগিতা আরও উদ্ভাবনী, সাড়াপ্রদানকারী ও ফলাফলভিত্তিক হবে এবং বাংলাদেশের পরিবর্তিত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে আইএসডিবি ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আল জাসেরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য স্বল্প খরচে অর্থায়নের একটি মাধ্যম হিসেবে ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ড (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠায় ড. আল জাসেরের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আইসিএফ থেকে সুবিধা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে তহবিলটি সদস্য দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন সহায়তা আরও বাড়াবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকায় আইএসডিবির আঞ্চলিক হাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোতে সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের অন্যতম বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদার আইএসডিবি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ব্যাংকটি অনুদান, প্রকল্প ঋণ, বাণিজ্য অর্থায়ন, বেসরকারি খাতে অর্থায়ন ও রপ্তানি ঋণ নিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করে আসছে।

‘কংস’ চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্রে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে: প্রধানমন্ত্রী
২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলার করার লক্ষ্য: অর্থমন্ত্রী
কওমি মাদ্রাসা জন্য গঠন করা হবে ৬টি শিক্ষা বোর্ড: প্রধানমন্ত্রী







