শিরোনাম

জেন্ডার বাজেট: অঙ্কে বাড়ছে, জিডিপিতে কমছে

জেন্ডার বাজেট: অঙ্কে বাড়ছে, জিডিপিতে কমছে
গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

জাতীয় বাজেট মানেই বিশাল অঙ্কের আয়-ব্যয়ের হিসাব। কিন্তু এই হিসাবের আড়ালে লুকিয়ে থাকে একটি দেশের আসল নীতি আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। সরকার দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ নারীদের কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তার একটি বড় প্রমাণ হলো ‘জেন্ডার বাজেট'। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটে নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতার জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দের এই চমৎকার অঙ্কের আড়ালে নারীদের প্রকৃত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত হচ্ছে? এটি কি সত্যিই নারীর জীবন বদলে দিচ্ছে, নাকি বাজেটটি রয়ে গেছে কেবলই কিছু খাতা-কলমের পরিসংখ্যানের মারপ্যাঁচে?

নারী অধিকারকর্মীদের মতে, বাজেট প্রণয়নকারীদের জেন্ডার বাজেট সম্পর্কে ধারণাগত সীমাবদ্ধতা ও অনীহা রয়েছে। তারা বিষয়টিকে বস্তুগতভাবে না দেখে ব্যক্তিগতভাবে (সাবজেক্টিভ) দেখছেন। জেন্ডার বাজেটের টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে, তা নারী উন্নয়ন নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না– তার কোনো খতিয়ান বা মূল্যায়ন রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না।

তারা দাবি করেন, জেন্ডার বাজেটের নামে কেবল প্রকল্পনির্ভর ব্যয় না করে নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার ফোকাল পয়েন্টের তথ্য ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রাখা, সরকারি কর্মকর্তাদের জেন্ডার সংবেদনশীল প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এবং জেন্ডার লেন্স ব্যবহার করে বাজেট প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

পরিসংখ্যানের চমক ও জিডিপির বাস্তব চিত্র

এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে জেন্ডার-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ। গত অর্থবছরে এই হার ছিল ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ গত কয়েক বছরের তুলনায় এই হার কিছুটা বেড়েছে। ফলে সাধারণ দৃষ্টিতে মনে হতেই পারে, নারীদের জন্য সরকারের খরচ করার প্রবণতা বাড়ছে।

তবে মুদ্রার ওপিঠ বলছে অন্য কথা। দেশের অর্থনীতির আকার অর্থাৎ জিডিপির তুলনায় এই বরাদ্দ কিন্তু দিন দিন কমছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে জেন্ডার বাজেটের বরাদ্দ জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ হলেও, তা ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৮ শতাংশে। অর্থাৎ, দেশের অর্থনীতি যেভাবে বড় হচ্ছে, সেই গতিতে নারীর ভাগ্য উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ বাড়ছে না।

এর অর্থ, অর্থনীতির আকার যত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, নারী ও মেয়েদের জন্য বরাদ্দ সেই হারে বড় হচ্ছে না। ফলে জাতীয় সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে জেন্ডার সমতার আপেক্ষিক গুরুত্ব কিছুটা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ দীর্ঘদিন ধরে স্থবির, নারীর প্রতি সহিংসতা উদ্বেগজনক এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নারীদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়েমা হক বিদিশা বলেন, জেন্ডার বাজেট হলো সরকারের বর্তমান খরচের একটি হিসাব মাত্র। এটিকে নারীদের জন্য আলাদা কোনো তহবিল ভাবলে হবে না।

তিনি বলেন, বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণকারী মন্ত্রণালয়গুলো বিপুল অর্থ বরাদ্দ পেলেও তাদের প্রকল্পে প্রায়ই নারীকেন্দ্রিক কার্যক্রম থাকে না। ফলে সামগ্রিক জেন্ডার বাজেট বড় দেখালেও নারী-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তুলনামূলকভাবে কম অর্থ পায়। নারীর ক্ষমতায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় যদি উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না পায়, তাহলে বাস্তব অগ্রগতি অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে।

অধ্যাপক বিদিশা বলেন, শুধু নারী-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, একই সঙ্গে একনেক অনুমোদিত বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতেও জেন্ডার উপাদান বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্কুলে পৃথক স্যানিটেশন ব্যবস্থা, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সুবিধা, ছাত্রীদের নিরাপদ পরিবহন ও নারীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের মতো উদ্যোগগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমি বলেন, ভাতা তাৎক্ষণিক সহায়তা দিলেও তা নারীর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করে না। এ জন্য কল্যাণভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে অধিকারভিত্তিক নীতি প্রয়োজন।

ভাতা বনাম স্থায়ী ক্ষমতায়ন

চলতি বাজেটে সামাজিক সুরক্ষায় নারীদের জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে লাখ লাখ নারী ফ্যামিলি কার্ড, বিধবা ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আসবেন। দরিদ্র ও অসহায় নারীদের টিকে থাকার জন্য এই নগদ অর্থ বা ভাতা অবশ্যই জরুরি।

কিন্তু প্রশ্ন হলো– এই সাহায্য কি নারীদের পরনির্ভরশীলতা দূর করছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভাতা দিয়ে সাময়িক অভাব দূর করা সম্ভব, কিন্তু স্থায়ী ক্ষমতায়ন নয়। নারীর দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির জন্য প্রয়োজন দক্ষতা বৃদ্ধি, চাকরির বাজার তৈরি এবং নিজের আয়ের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। বাজেট যদি কেবল ‘ভাতা প্রধান’ হয়ে থাকে, তবে তা নারীদের স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করতে পারবে না।

কর্মক্ষেত্রে বরাদ্দ কমছে, নিরাপত্তা সংকটে নারী

চলতি বাজেটে নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সমতা বৃদ্ধির জন্য বরাদ্দ বেড়ে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ১৪ হাজার ৭০১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ৭১০ কোটি টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকায় নারীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও শোভন পরিবেশ নিশ্চিত করার খাতের বরাদ্দ ৩ হাজার ৩২১ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা করা হয়েছে।

নিরাপদ গণপরিবহন, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং ডে-কেয়ার সেন্টার বা শিশু যত্ন কেন্দ্রের অভাবের কারণে এখনো অনেক নারী ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে পারছেন না।

সাম্প্রতিক শ্রমশক্তি জরিপও বলছে, দেশের নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার দীর্ঘদিন ধরে এক জায়গায় স্থবির হয়ে আছে। ফলে কর্ম পরিবেশ নিরাপদ না করে শুধু ব্যবসার মূলধন দিলে তার সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।

ডিজিটাল নির্যাতন ও অপরাধ দমনে উদাসীনতা

সরকার নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ বা জিরো টলারেন্সের কথা বললেও বাজেটে তার প্রতিফলন দুর্বল। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, বর্তমানে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের সাইবার বুলিং এবং অনলাইন হয়রানি মারাত্মকভাবে বাড়ছে, ঠিক তখনই ডিজিটাল নির্যাতন মোকাবিলা খাতের বরাদ্দ ২৫৭ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১৬৮ কোটি টাকা করা হয়েছে।

পাশাপাশি, নারীর প্রতি সমাজের যে পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বা নারীবিদ্বেষী মানসিকতা রয়েছে, তা পরিবর্তনের জন্য পুরুষ ও কিশোরদের সচেতন করার মতো দীর্ঘমেয়াদি এবং মনস্তাত্ত্বিক কর্মসূচিতে বাজেটে বিশেষ কোনো বড় বিনিয়োগ দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে বেইজিং প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশন, সিডও, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (বিশেষ করে এসডিজি-৫) এবং নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতা নির্মূলের একাধিক বৈশ্বিক অঙ্গীকারে স্বাক্ষরকারী দেশ। এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য নারী নির্যাতন প্রতিরোধকে কেবল সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং একটি বিস্তৃত সামাজিক পরিবর্তনের এজেন্ডা হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যেও অনুপাত কমতির দিকে

এবারের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের দাবি করা হলেও, জেন্ডার-সংবেদনশীল বরাদ্দের অনুপাত কিন্তু কমেছে। শিক্ষা খাতে জেন্ডার বরাদ্দের অনুপাত ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ৫১ দশমিক ১ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে।

আজও আমাদের দেশে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ কম এবং বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য বা মানসিক স্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলো অবহেলিত। এর ওপর আবার নারীর আইনি সহায়তা ও বিচার পাওয়ার প্রধান মাধ্যম– ‘কার্যকর সরকারি সেবাপ্রাপ্তি’ খাতেও বরাদ্দ কমিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশে এখনো কিশোরীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় ঝরে পড়া, উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণে স্থবিরতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় নারীদের সীমিত অংশগ্রহণ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। পাশাপাশি কিশোরী স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী নারীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজনীয়তা বাজেটে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছে।

সম্প্রতি সিপিডির রিসার্স অ্যাসোসিয়েট প্রীতিলতা হক এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নের হার গতবারের ৮০ শতাংশ থেকে নেমে ৬৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শিশু স্বাস্থ্যে ২২ শতাংশ এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এসএমপি কার্যক্রমে ৬৬ শতাংশ বরাদ্দ কমানো হয়েছে, যা নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে। এ ছাড়া গৃহস্থালিতে নারীর মজুরিহীন সেবামূলক কাজের স্বীকৃতির কোনো প্রতিফলন এবারের বাজেটে নেই।’

তিনি বলেন, ‘সম্পদ বন্ধক রাখা ছাড়া নারীদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ নেই। অথচ উত্তরাধিকার আইনে নারীর সমান অধিকারের সুযোগ নেই। এই বৈষম্য দূর না করলে নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয়।’

একই অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরমিন্দ নীলোর্মি বলেন, ‘নারী উন্নয়ন বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন ঘোষণা ও উদ্যোগের কোনো কমতি থাকে না। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে মোট জেন্ডার বিষয়ক বাজেট প্রণয়ন করেছে ৩৪ শতাংশ, যা মোট জিডিপির ৪ শতাংশ। নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক ও প্রায় ৪ কোটি সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার মতো কর্মসূচি প্রশংসনীয়। তবে নারীর নিরাপদ কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত বাজেট কমেছে ১২ শতাংশ, নারীর সাইবার নিরাপত্তা খাতে কমেছে ৭ শতাংশ, নারীর চলাচল ও নিরাপত্তা খাতে কমেছে ৩০ শতাংশ, নারীর স্বাস্থ্য ও কল্যাণ খাতে কমেছে ২২ শতাংশ, কার্যকরভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ খাতে কমেছে ৩৪ শতাংশ।’

পরিসংখ্যানের খেলা বন্ধ করতে হলে করণীয়

জেন্ডার বাজেটকে সার্থক করতে হলে এটি কেবল ‘নারীদের পেছনে কত টাকা খরচ হলো’ সেই হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বাজেটকে হতে হবে বৈষম্য দূর করার হাতিয়ার।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, বৈষম্য দূর করা এবং ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জেন্ডার বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাংবিধানিক অঙ্গীকার, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এজন্য দরকার কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ।

যেমন–

*নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর সহিংসতা প্রতিরোধ এবং আইনি সহায়তার জন্য বাজেটে সম্পূর্ণ আলাদা ও নির্দিষ্ট ‘বাজেট কোড’ রাখতে হবে।

*শুধু টাকা বরাদ্দ দিলেই হবে না; বছর শেষে দেখতে হবে কতজন নারী সহিংসতা থেকে রক্ষা পেলেন বা কতজন নারী নিরাপদ কর্মসংস্থান পেলেন।

*সিডও বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৫) এর মতো বৈশ্বিক অঙ্গীকারের সাথে মিল রেখে বাজেট পরিকল্পনা করতে হবে।

*প্রতিবন্ধী, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলের নারী এবং চরম দরিদ্র নারীদের জন্য ভৌগোলিক ও বয়সভেদে বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে।

*জেন্ডার বাজেট বাস্তবায়নে সংসদ, স্থানীয় সরকার এবং নারী অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলোর নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নারীর উন্নয়নকে দয়া বা সামাজিক সুরক্ষার ফ্রেমে না দেখে, এটিকে একটি রূপান্তরমূলক বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। বাজেট যখন কেবল নারীর কাগজের পরিধি বাড়াবে না, বরং সমাজের বৈষম্যমূলক কাঠামোকে ভেঙে সমতা আনবে– এখনই জেন্ডার বাজেট তার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। অন্যথায় এটি প্রতি বছর কেবলই এক রঙিন পরিসংখ্যানের খেলা হয়েই থেকে যাবে।

/এফআর/