শিরোনাম

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানুয়ারি-জুন সময়ের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। ছবি: সংগৃহীত

একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অপরদিকে কমছে বিনিয়োগ। এতে নিম্নমুখী বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির হার। অর্থনীতির এমন বাস্তবতায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানুয়ারি-জুন সময়ের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে নীতিসুদহার ১০ শতাংশ করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতেও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে নীতিসুদহার।

মূল্যস্ফীতি কমে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না আসা পর্যন্ত নীতি সুদহার না কমানোর আভাস আগে থেকেই ছিল। সবশেষ জানুয়ারি মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আগের মাস ডিসেম্বরেও যা ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ ছিল।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৬.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখেছে বাংলাদেশ। তবুও জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৮ শতাংশ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গভর্নরের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক সরকার এলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে, এতে বাড়বে ঋণ প্রবাহ।

গভর্নর বলেন, রিজার্ভ আমাদের ভালো অবস্থানে আছে। গত আগস্ট থেকে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী রিজার্ভ রয়েছে আমাদের। আগে কখনোই যা হয়নি। আমাদের রিজার্ভ বাড়ছে।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা ছাড়া বাকি সূচকগুলোতে মুদ্রানীতি সফল হয়েছে। আমরা খুব ভালো করেছি, শুধু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছি। তিনি বলেন, আমরা আশাবাদী, এটাও কমবে। অর্থনীতির বিশ্ব পূর্বাভাস অনুযায়ী আমাদের অর্থনীতি সামনের দিনগুলোতে আরো ভালো করবে, তাই মূল্যস্ফীতিও কমবে।

গভর্নর বলেন, রিজার্ভ আমাদের ভালো অবস্থানে আছে। গত আগস্ট থেকে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী রিজার্ভ রয়েছে আমাদের। আগে কখনোই যা হয়নি। আমাদের রিজার্ভ বাড়ছে।

নীতি সুদহার বেশি রাখার কারণে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, এর সুবিধা এখন পাচ্ছি আমরা। রেমিটেন্সহ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ছে।

নতুন মুদ্রানীতিতে আগের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এসএলফ রেট সাড়ে ১১ শতাংশে ঠিক রেখে এসডিএফ হার ৮ শতাংশ থেকে কিছুটা কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। আগে ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এ খাতে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বাজারে কী পরিমাণ অর্থের সরবরাহ থাকবে, তার সম্ভাব্য পরিকল্পনা মুদ্রানীতিতে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক ৬ মাস পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।

ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমতে শুরু করলে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি এক লাফে দুই অংকের ঘরে গিয়ে ঠেকে। তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই বছরের শেষ দিক থেকে নীতিসুদ হার বাড়াতে শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতে চলছে। সবশেষ ঘোষিত মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসএলফ রেট সাড়ে ১১ শতাংশ ও এসডিএফ ৮ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমতে শুরু করলে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি এক লাফে দুই অংকের ঘরে গিয়ে ঠেকে। তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই বছরের শেষ দিক থেকে নীতিসুদ হার বাড়াতে শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারপরও মূল্যস্ফীতি বাড়তে বাড়তে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ হয়।

ওই মাস থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পরের মাসে সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। অন্তবর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরোমাত্রায় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

২০২৪ সালের আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে আসতে শুরু করে। ধাপে ধাপে কমে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে আসে মূল্যস্ফীতির হার। কিন্তু এরপর টানা তিন মাস বেড়ে জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ হয়েছে।

/এফসি/