শিরোনাম

ভারতীয় সুতায় বিপর্যয়ে দেশীয় স্পিনিং মিল: বিটিএমএ সভাপতি

  • ৫০ টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে গেছে
  • ভারত থেকে সুতা আমদানি বেড়েছে ১৩৭%
  • দেশের টেক্সটাইল খাত আইসিইউতে চলে গেছে
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
ভারতীয় সুতায় বিপর্যয়ে দেশীয় স্পিনিং মিল: বিটিএমএ সভাপতি
আজ রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ভারত থেকে কম দামে সুতা আমদানি হওয়ায় দেশীয় সুতার কারখানা বড় সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

রাজধানীর গুলশান ক্লাবে রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিটিএমএর সাবেক সভাপতি এম মতিন চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী খোকন, সাবেক পরিচালক রাজীব হায়দারসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।

শওকত আজিজ রাসেল বলেন, গত অর্থবছরে ভারত থেকে সুতা আমদানি বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি সুতায় প্রায় ৩০ সেন্ট কম দামে ডাম্পিং করছে, যার ফলে দেশের প্রায় ৫০টি স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানায় প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ছিল। বন্ধ হওয়া এসব মিল নতুন করে চালু করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সুতা অবিক্রীত পড়ে আছে, যার প্রকৃত বাজারমূল্য প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এতে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে।

বিটিএমএর সভাপতি আরও বলেন, ভারতীয় সুতার ওপর অতিনির্ভরশীল হয়ে পড়া দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অতীতে একাধিকবার ভারত তুলা ও সুতা রপ্তানি বন্ধ করায় দেশের শিল্প খাত চরম সংকটে পড়েছিল। একই ধরনের সংকট ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শওকত আজিজ জানান, তার পাঁচটি কারখানার মধ্যে একটি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে ছয় মাসের মধ্যে তিনি নিজেই ‘টেক্সটাইলবিহীন বিটিএমএ সভাপতি’ হয়ে যেতে পারেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বর্তমান সরকারকে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত এক বছরে ২৫০টির বেশি তৈরি পোশাক কারখানা এবং ৫০টির বেশি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়েছে। অর্ধেকের বেশি কারখানা অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ব্যর্থ।

সংকট উত্তরণে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত চান বিটিএমএ) সভাপতি। পাশাপাশি সুতার রপ্তানিতে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার বৃদ্ধি, সুদহার কমানো, ব্যাংক ঋণে গ্রেস পিরিয়ড এবং জ্বালানি ও গ্যাসের দাম কমানোর দাবি জানান।

সভায় বক্তব্য দেন বিটিএমএর সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন। তিনি বলেন, টেক্সটাইল খাত এখন আইসিইউতে এবং একে বাঁচাতে বড় ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে টেক্সটাইল খাতের জন্য আলাদা অর্থায়ন উইন্ডো চালুর দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি ব্যাংক সুদ ও বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম কমানোর আহ্বান জানান।

মোহাম্মদ আলী খোকন আরও বলেন, যদি এই খাত টিকে না থাকে, তাহলে একদিন ভারত তুলা, সুতা ও কাপড় সরবরাহ বন্ধ করে দিলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ভেঙে পড়বে। এতে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলারের পোশাক শিল্প চরম ঝুঁকিতে পড়বে।

বিটিএমএ নেতারা মনে করেন, দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এই খাতকে রক্ষায় খাতভিত্তিক ও সুদূরপ্রসারী নীতি গ্রহণ না করলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধস নামতে পারে।