‘স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ করলাম’

‘স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ করলাম’
সিটিজেন ডেস্ক

বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেটের প্রভাবশালী নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য ইমরুল কায়েস।
রবিবার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি ঘটনাটির আগে ও পরে নিজের দেখা ও জানা বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন ইমরুল। মামলায় জিয়াউল আহসানই একমাত্র আসামি।
জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস জানান, তিনি ২০০১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোরে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রেষণে র্যাব সদর দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তিনি র্যাব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালকের ‘রানার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং জিয়াউল আহসানের সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করতেন।
ইলিয়াস আলীর গুমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১২ সালের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে একদিন র্যাব সদর দপ্তর থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে জিয়াউল আহসান, মেজর নওশাদ, স্কোয়াড্রন লিডার সাইফসহ কয়েকজন সদস্য মহাখালী ফ্লাইওভারের আশপাশে যান। সে সময় কাকে আনা হবে বা অভিযানের উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।
ইমরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে অবস্থানকালে জিয়াউল আহসান একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করছিলেন এবং ‘টার্গেট’ কখন আসবে, সে বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে জানা যায়, নির্ধারিত ব্যক্তি সেখানে আসবেন না। এরপর জিয়াউল আহসানকে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। পরদিন থেকেই তিনি নয় দিনের ছুটিতে চলে যান।
তিনি বলেন, ছুটিতে থাকার সময় গণমাধ্যমের খবরে জানতে পারেন, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে মহাখালী ওভারব্রিজ এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছে। ছুটি শেষে ২৩ এপ্রিল কর্মস্থলে ফিরে র্যাব সদর দপ্তরের পরিবেশকে অস্বাভাবিক ও চাপা উত্তেজনাপূর্ণ বলে মনে হয়।
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, সহকর্মীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে, কোটে সংরক্ষিত অস্ত্রের ইন-আউট রেজিস্টার এবং সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। তার দাবি, এসব নথি ও ভিডিও ফুটেজ ধ্বংসের সঙ্গে জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতার কথাই তখন সদস্যদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল।
সাক্ষ্যে ইমরুল কায়েস আরও একটি ফোনালাপের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একদিন জিয়াউল আহসান কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় আরেকটি কল আসে। তখন তিনি আগের ব্যক্তিকে বলেন, ‘তুই রাখ, তারেক স্যার ফোন দিয়েছেন।’ পরে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন।
ফোনালাপের অপর প্রান্ত থেকে কী বলা হয়েছিল, তা তিনি শুনতে পাননি বলে জানান ইমরুল। তবে জিয়াউল আহসানকে তিনি ক্ষোভের সুরে বলতে শুনেছেন বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জিয়াউল আহসান বলেন, ‘স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ করলাম, এখন আপনারা এমন করলে হবে? এর চেয়ে আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিয়ে পাঠিয়ে দেন, সেটাই আমার জন্য ভালো।’
এ সময় ট্রাইব্যুনালে আসামি জিয়াউল আহসান উপস্থিত ছিলেন। মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেটের প্রভাবশালী নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য ইমরুল কায়েস।
রবিবার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি ঘটনাটির আগে ও পরে নিজের দেখা ও জানা বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন ইমরুল। মামলায় জিয়াউল আহসানই একমাত্র আসামি।
জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস জানান, তিনি ২০০১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোরে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রেষণে র্যাব সদর দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তিনি র্যাব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালকের ‘রানার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং জিয়াউল আহসানের সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করতেন।
ইলিয়াস আলীর গুমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১২ সালের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে একদিন র্যাব সদর দপ্তর থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে জিয়াউল আহসান, মেজর নওশাদ, স্কোয়াড্রন লিডার সাইফসহ কয়েকজন সদস্য মহাখালী ফ্লাইওভারের আশপাশে যান। সে সময় কাকে আনা হবে বা অভিযানের উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।
ইমরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে অবস্থানকালে জিয়াউল আহসান একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করছিলেন এবং ‘টার্গেট’ কখন আসবে, সে বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে জানা যায়, নির্ধারিত ব্যক্তি সেখানে আসবেন না। এরপর জিয়াউল আহসানকে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। পরদিন থেকেই তিনি নয় দিনের ছুটিতে চলে যান।
তিনি বলেন, ছুটিতে থাকার সময় গণমাধ্যমের খবরে জানতে পারেন, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে মহাখালী ওভারব্রিজ এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছে। ছুটি শেষে ২৩ এপ্রিল কর্মস্থলে ফিরে র্যাব সদর দপ্তরের পরিবেশকে অস্বাভাবিক ও চাপা উত্তেজনাপূর্ণ বলে মনে হয়।
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, সহকর্মীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে, কোটে সংরক্ষিত অস্ত্রের ইন-আউট রেজিস্টার এবং সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। তার দাবি, এসব নথি ও ভিডিও ফুটেজ ধ্বংসের সঙ্গে জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতার কথাই তখন সদস্যদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল।
সাক্ষ্যে ইমরুল কায়েস আরও একটি ফোনালাপের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একদিন জিয়াউল আহসান কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় আরেকটি কল আসে। তখন তিনি আগের ব্যক্তিকে বলেন, ‘তুই রাখ, তারেক স্যার ফোন দিয়েছেন।’ পরে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন।
ফোনালাপের অপর প্রান্ত থেকে কী বলা হয়েছিল, তা তিনি শুনতে পাননি বলে জানান ইমরুল। তবে জিয়াউল আহসানকে তিনি ক্ষোভের সুরে বলতে শুনেছেন বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জিয়াউল আহসান বলেন, ‘স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ করলাম, এখন আপনারা এমন করলে হবে? এর চেয়ে আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিয়ে পাঠিয়ে দেন, সেটাই আমার জন্য ভালো।’
এ সময় ট্রাইব্যুনালে আসামি জিয়াউল আহসান উপস্থিত ছিলেন। মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

‘স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ করলাম’
সিটিজেন ডেস্ক

বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেটের প্রভাবশালী নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য ইমরুল কায়েস।
রবিবার (২১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি ঘটনাটির আগে ও পরে নিজের দেখা ও জানা বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন ইমরুল। মামলায় জিয়াউল আহসানই একমাত্র আসামি।
জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস জানান, তিনি ২০০১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কোরে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রেষণে র্যাব সদর দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তিনি র্যাব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালকের ‘রানার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং জিয়াউল আহসানের সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করতেন।
ইলিয়াস আলীর গুমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১২ সালের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে একদিন র্যাব সদর দপ্তর থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে জিয়াউল আহসান, মেজর নওশাদ, স্কোয়াড্রন লিডার সাইফসহ কয়েকজন সদস্য মহাখালী ফ্লাইওভারের আশপাশে যান। সে সময় কাকে আনা হবে বা অভিযানের উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।
ইমরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে অবস্থানকালে জিয়াউল আহসান একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করছিলেন এবং ‘টার্গেট’ কখন আসবে, সে বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে জানা যায়, নির্ধারিত ব্যক্তি সেখানে আসবেন না। এরপর জিয়াউল আহসানকে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। পরদিন থেকেই তিনি নয় দিনের ছুটিতে চলে যান।
তিনি বলেন, ছুটিতে থাকার সময় গণমাধ্যমের খবরে জানতে পারেন, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে মহাখালী ওভারব্রিজ এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছে। ছুটি শেষে ২৩ এপ্রিল কর্মস্থলে ফিরে র্যাব সদর দপ্তরের পরিবেশকে অস্বাভাবিক ও চাপা উত্তেজনাপূর্ণ বলে মনে হয়।
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, সহকর্মীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে, কোটে সংরক্ষিত অস্ত্রের ইন-আউট রেজিস্টার এবং সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। তার দাবি, এসব নথি ও ভিডিও ফুটেজ ধ্বংসের সঙ্গে জিয়াউল আহসানের সংশ্লিষ্টতার কথাই তখন সদস্যদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল।
সাক্ষ্যে ইমরুল কায়েস আরও একটি ফোনালাপের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একদিন জিয়াউল আহসান কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় আরেকটি কল আসে। তখন তিনি আগের ব্যক্তিকে বলেন, ‘তুই রাখ, তারেক স্যার ফোন দিয়েছেন।’ পরে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন।
ফোনালাপের অপর প্রান্ত থেকে কী বলা হয়েছিল, তা তিনি শুনতে পাননি বলে জানান ইমরুল। তবে জিয়াউল আহসানকে তিনি ক্ষোভের সুরে বলতে শুনেছেন বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জিয়াউল আহসান বলেন, ‘স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ করলাম, এখন আপনারা এমন করলে হবে? এর চেয়ে আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিয়ে পাঠিয়ে দেন, সেটাই আমার জন্য ভালো।’
এ সময় ট্রাইব্যুনালে আসামি জিয়াউল আহসান উপস্থিত ছিলেন। মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।




