শিরোনাম

যে ভুয়া বিলে বরখাস্ত হলো প্রকৌশলী চুন্নু, পূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল এবার দুদকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
যে ভুয়া বিলে বরখাস্ত হলো প্রকৌশলী চুন্নু,
পূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল এবার দুদকে
গণপূর্ত অধিপ্তরের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সাইফুজ্জামান (ছবি: সংগৃহীত)

সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে কাজের অস্তিত্ব না থাকলেও ছয় কোটির বেশি টাকার বিল দেখিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামান (চুন্নু)। এ ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এবার মন্ত্রণালয় থেকে ওই ভুয়া বিলসংক্রান্ত নথিপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব শিগগিরই দুদকে ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা হবে। তবে এ কাজের সঙ্গে জড়িত মেট্রোপলিটন জোনের তৎকালীন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নাসিম খান, সার্কেল-২ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সতীনাথ বসাক, সংশ্লিষ্ট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলীসহ হিসাব রক্ষণকর্মকর্তাকে শাস্তির আওতায় না আনার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সহকর্মী মাসুদ রানার চিঠিই কাল হলো চুন্নুর

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অনিয়মের তথ্য উপস্থাপন করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ঢাকা বিভাগ-৪) মাসুদ রানা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেন। ওই চিঠিতে নির্ধারিত (ডাব্লিউ-ওয়ান প্যাকেজ) মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই) ছাড়া অন্য কয়েকটি ঠিকাদারের নামে ব্যয় দেখানোর কথা উল্লেখ করা হয়।

একই চিঠিতে কয়েকটি খাতে ব্যয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়। এসবের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পাশে নতুন বেকারি নির্মাণ বাবদ ৪৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা; একই স্থানে ক্যান্টিন নির্মাণে ৭৯ লাখ ৮ হাজার টাকা; রেকর্ড ভবনের তিনটি বেসমেন্ট নির্মাণের জন্য অস্থায়ী ট্রিপল ওয়ার্কস্টেশন স্থাপনে ৬৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা; প্রধান বিচারপতির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভেন্যু সংস্কার এবং ব্র্যান্ডিং ও ক্যাটারিং বাবদ প্রায় ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা; ভাঙা গাইড ওয়াল, ড্রেন, ও হাই-টেনশন কেবল অপসারণে ৬৪ লাখ টাকা; সংযোগ সড়ক নির্মাণে ১ কোটি ৯৪ হাজার টাকা; অস্থায়ী ড্রেন ও সিআই শিটের বেড়া নির্মাণে প্রায় ৯৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং বালু ভরাট, বৃষ্টির পানি অপসারণ ও আবর্জনা পরিষ্কারে প্রায় ৯৯ লাখ ২১ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এসব কাজের পুরোটাই কাগজে কলমে দেখানো হয়েছে।

ওই চিঠি পাওয়ার পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম ৩ ফেব্রুয়ারি গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে (চুন্নু) সাময়িক বরখাস্ত করেন।

সাইফুজ্জামানকে বরখাস্ত করার ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের মূল অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে কাজ বাস্তবায়নের সময় মো. সাইফুজ্জামান গুরুতর অনিয়মে জড়ান। প্রকল্পের অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি), সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) কিংবা হেড অফ প্রকিউরমেন্টের (হোপ) অনুমোদন ছাড়াই তিনি একাধিক সিভিল কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করেন, যা প্রকল্পের অনুমোদিত কাঠামো ও কাজের পরিধির মধ্যে ছিল না।’

মন্ত্রণালয়ের তদন্তে উঠে আসে, এসব প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকা কাজের বিপরীতে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ের বিল প্রস্তুত ও উপস্থাপন করা হয়। তবে প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বিলের বিপরীতে বাস্তবে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত এসব কাজ প্রকল্পের মূল খাতে কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি। অর্থাৎ, কেবল কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে অর্থ ব্যয়ের বিল প্রস্তুত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানের (চুন্নু) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

/বিবি/