শিরোনাম

মিরপুরে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

সিটিজেন ডেস্ক
মিরপুরে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
এই অগোছালো নোংরা ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে জানতে চাওয়া হয়েছে, ওই বৃদ্ধার সঙ্গে কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন বা অবহেলার ঘটনা ঘটেছে কি না এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে কি না।

বুধবার (৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ সরকার এ রিট আবেদন দায়ের করেন। আগামী রবিবার (৭ জুন) বিষয়টি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।

রিটটি দায়ের করেছেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।

আবেদনে বলা হয়েছে, নুরজাহান বেগমের মরদেহ যে অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তা সমাজে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একই ভবনে এবং একই ফ্ল্যাটে স্বজনদের বসবাস থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে তার মৃত্যুর বিষয়টি অজানা থেকে যাওয়ার ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ কারণে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে পুলিশ জানায়, নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের সময় তাতে পচন ধরেছিল এবং শরীরে পোকাও দেখা গেছে। তবে তিনি ঠিক কবে এবং কী কারণে মারা গেছেন, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ কারণে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

রিটকারী আইনজীবীর বক্তব্য, বৃদ্ধার কক্ষের খুব কাছেই তার মেয়ে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বসবাস করতেন। এমন পরিস্থিতিতে একজন বৃদ্ধা কীভাবে দীর্ঘ সময় মৃত্যুবরণ করে পড়ে থাকতে পারেন, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একইসঙ্গে তার প্রতি কোনো ধরনের অবহেলা বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।

ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকে অবস্থিত একটি ফ্ল্যাটে। গত রবিবার (১ জুন) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পল্লবী থানা পুলিশ। পুলিশ সদস্যরা সেখানে পৌঁছে দেখতে পান, ফ্ল্যাটজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র দুর্গন্ধ।

পরে বাসার একটি কক্ষ থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় সেটি অনেকটাই পচে গিয়েছিল।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির গণমাধ্যমকে জানান, নুরজাহান বেগম একই ফ্ল্যাটে মেয়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। তবে তাকে একটি আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছিল, যেখানে পর্যাপ্ত পরিচর্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। কক্ষটি ছিল অগোছালো এবং বিভিন্ন জিনিসপত্রে ভরা।

ওসি আরও জানান, কয়েকদিন ধরে বৃদ্ধার কোনো সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে এক নার্সকে ডেকে আনা হয়। ওই নার্স কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কক্ষটির পরিবেশ এবং মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি যথাযথ পরিচর্যা পাননি। একইসঙ্গে তার শারীরিক অবস্থাও ছিল অত্যন্ত দুর্বল। তবে এসব বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর সময়, কারণ এবং এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে জানা গেছে, নুরজাহান বেগমের সন্তানদের মধ্যে একজন সরকারের যুগ্ম সচিব, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং আরেকজন বিদেশে বসবাস করেন। এছাড়া মেয়ের স্বামীও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। পরিবারের সদস্যদের সামাজিক ও পেশাগত অবস্থান বিবেচনায় ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর পেছনে কোনো অবহেলা, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

/এমআর/