শিরোনাম

রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে মা-মেয়ে নিহত, জামাতা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে মা-মেয়ে নিহত, জামাতা আটক
রাজধানীর কলাবাগান থানা ভবন

রাজধানীর কলাবাগান এলাকার কাঁঠালবাগানের একটি বাসায় মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ‘পারিবারিক কলহের জের’ ধরে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কলাবাগান থানার ওসি ফজলে আশিক।

এ ঘটনায় জামাতা হৃদয় ওরফে শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিপনের স্ত্রীর নাম ফারজানা আকতার রাত্রি (২০) এবং শাশুড়ি ফিরোজা বেগম (৩৮)।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে সকালে হৃদয় ও তার স্ত্রী ফারজানার মধ্যে ঝগড়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে ফারজানার মা ফিরোজা মেয়ের পক্ষ নেন। তিনি ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় হৃদয় তার স্ত্রী ও শাশুড়িকে সবজি কাটার ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই ফারজানা মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

ফিরোজা বেগমের স্বামী মো. ফারুক হোসেন জানান, সকালে তিনি বাইরে ছিলেন। ফোনে ঝগড়ার খবর পেয়ে দ্রুত বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। ৯টার দিকে বাসায় পৌঁছে দেখেন ফারজানার রক্তাক্ত মরদেহ ঘরে পড়ে আছে। আর ফিরোজা বেগম গুরুতর আহত অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

তিনি জানান, তাদের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায়। গত শুক্রবারের আগের শুক্রবার মা ও মেয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। গত শুক্রবার ছিল তার ভাতিজার বিয়ের অনুষ্ঠান। বিয়ের আগের দিন শিপনও সেখানে যান। তবে বিয়ের দিন সকালে ফারজানা ও শিপনের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এরপর খাওয়া-দাওয়া না করেই শিপন ঢাকায় ফিরে আসেন।

শনিবার রাতে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকার কাঠালবাগানের বাসায় ফেরেন ফারুক হোসেন। তিনি জানান, রবিবার সকালে তিনি বাসার বাইরে থাকাকালে আগের বিষয়গুলো নিয়ে আবারও শিপনের সঙ্গে মা-মেয়ের ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শিপন ধারালো ছুরি দিয়ে দুজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। পরে তাদের এক বছর বয়সী ছেলে রায়হানকে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। শিপনের বাসা মোহাম্মদপুর এলাকায়।

/এফসি/