শিরোনাম

লালদীঘি ময়দানে বসছে জব্বারের বলী খেলার ১১৭তম আসর

নিজস্ব প্রতিবেদক
লালদীঘি ময়দানে বসছে জব্বারের বলী খেলার ১১৭তম আসর
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসরের প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরে আয়োজক কমিটি। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলী খেলার ১১৭তম আসর বসছে নগরীর লালদীঘি ময়দানে। এবারের আসরে পৃষ্ঠপোষকতা করছে দেশের ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক।

আগামী শনিবার (২৫ এপ্রিল) এই বলী খেলার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, বলী খেলাকে ঘিরে ২৪ এপ্রিল থেকে বৈশাখী মেলা শুরু হবে এবং তা ২৬ এপ্রিল ভোর পর্যন্ত চলবে।

আজ বুধবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসরের প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরে আয়োজক কমিটি। সেখানে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবার ১০৮ জন বলী অংশ নেবেন। আসর উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান শওকত আলী। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

এ নিয়ে টানা ১২ বার জব্বারের বলী খেলার পৃষ্ঠপোষকতায় থাকছে বাংলালিংক। পাশাপাশি এবারের আসর সরাসরি সম্প্রচার করা হবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফিতে। ফলে চট্টগ্রামের বাইরেও সারা দেশের দর্শক ঘরে বসে ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন উপভোগ করতে পারবেন।

আয়োজকদের ভাষ্য, জব্বারের বলী খেলা শুধু একটি কুস্তি প্রতিযোগিতা নয়, এটি চট্টগ্রামের লোকঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জনজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৯০৯ সালে স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময়ে তরুণদের সংগঠিত ও উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে লালদীঘি মাঠে এ বলী খেলার সূচনা করেন। এরপর থেকে প্রতিবছর বৈশাখ মাসের ১২ তারিখ এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

শতবর্ষ পেরিয়ে জব্বারের বলী খেলা এখন চট্টগ্রামের অন্যতম বড় জনউৎসবে পরিণত হয়েছে। বলী খেলাকে কেন্দ্র করে লালদীঘি মাঠ ও আশপাশের এলাকায় প্রতিবছর বৈশাখী মেলা বসে। যেখানে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন। আয়োজকদের মতে, আবদুল জব্বারের উত্তরসূরি ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণেই এই ঐতিহ্য এখনো প্রাণবন্তভাবে টিকে আছে।

এবারের আয়োজনে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাতেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার, মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সার্বক্ষণিকভাবে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র কাছাকাছি থাকায় ২৬ এপ্রিল রোববার ভোরের মধ্যেই মেলা শেষ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে জব্বারের বলী খেলাকে জাতীয় পর্যায়ের দর্শকের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে এবারের ডিজিটাল সম্প্রচার। ঐতিহ্য, লোকক্রীড়া ও আধুনিক প্ল্যাটফর্ম—এই তিনের মেলবন্ধনে ১১৭তম আসরের জব্বারের বলী খেলা এবার নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে।

/বিবি/