যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় দুই মাস ধরে চলা সংঘাত থামাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। ইরানের জন্য অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে মোট ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত নিরসনে বড় ধরনের ছাড় আদায়ে তেহরানের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্য ইরানকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ইকোনমিক ফিউরি’ কর্মসূচির অধীনে ইরানের ‘বেপরোয়া আচরণ এবং তাদের মিত্রদের অর্থায়নের পথ’ বন্ধে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধের কারণে তেহরান এখনো পর্যন্ত বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত অবস্থান জানায়নি।
নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে জানান, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে তিনি রাজি আছেন। দুই সপ্তাহের জন্য ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আজই শেষ হওয়ার কথা ছিল।
এর আগে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে অনাগ্রহী থাকলেও সর্বশেষ অবস্থান বদলে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ থাকবে।
সূত্র: আল জাজিরা