শিরোনাম

সিলেটে ঐতিহ্যবাহী খাবার আখনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটে ঐতিহ্যবাহী খাবার আখনি
আখনি।

সিলেটে আখনি কেবল একটি খাবার নয়; এটি ঐতিহ্য, এক ধরনের আবেগ। এই রমজান মাসে বিকাল গড়াতেই নগরীর বন্দরবাজারে এক ধরনের গন্ধ ভেসে বেড়ায়। সেই গন্ধটি আসে আখনি থেকে। এটি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী খাবার বলে প্রচলিত।

দেশের অন্য অঞ্চলে সারাদিন রোজা রেখে মুড়ি-ছোলা দিয়ে ইফতার করার রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু সিলেট অঞ্চলে ইফতারিতে আখনি অপরিহার্য। কোনো কারণে আখনি না মিললে ভুনা খিচুড়ি দিয়ে ইফতারি করা হয়। কিন্তু মেহমানদারি বা মেয়ের বাড়িতে পাঠানো ইফতারিতে আখনি না থাকলে সেটি অনেকের কাছেই অসম্পূর্ণ।

জানা গেছে, স্বাদে-গন্ধে ভরপুর আখনি খাবারটির প্রচলন বহু পুরোনো। মূলত গরুর মাংস দিয়েই রান্না হয় আখনি। তবে খাসি বা মুরগির মাংস দিয়েও তৈরি করে কেউ কেউ।

আখনি শব্দটির উৎস খুঁজতে গেলে পাওয়া যায় পারস্যের ‘ইয়াখনি’ শব্দ। ইয়াখনি অর্থ মাংসের ঝোল। মোগল আমলে এই রান্নার প্রচলন ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে। ‘আইন-ই-আকবরী’ গ্রন্থে ‘ইয়াখনি’ শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায়।

ইতিহাসবিদদের মতে, হযরত শাহজালাল (রহ.) এর আগমনের সময় এ অঞ্চলে আখনি রান্নার বিস্তার ঘটে। যদিও সুনির্দিষ্ট কোনো নথি নেই, তবু লোকমুখে এমন কথাই প্রচলিত।

জিন্দাবাজারের পানসী রেস্টুরেন্টের বিক্রেতা ইসলাম উদ্দিন বলেন, খিচুড়ির চেয়ে আখনির চাহিদা বেশি। এবারের রোজায় আখনি প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভুনা খিচুড়ি ১৬০ থেকে ২২০ এবং পাতলা খিচুড়ি ১৪০ থেকে ২০০ টাকায় মিলছে। কোথাও গরুর আখনি ৩২০, মুরগির ২৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

চৌকিদেখি এলাকার বাসিন্দা রেজওয়ান আহমেদ জিন্দাবাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্ট থেকে গরুর মাংসের আখনি কিনছিলেন। তিনি বলেন, ইফতারে বিশেষ আয়োজন আখনি লাগবেই। যেহেতু বাসায় রান্না করা বেশ কষ্টসাধ্য, তাই ভালো রেস্টুরেন্ট থেকে কিনে নিই।

/এসআর/