শিরোনাম

সিরাজগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্বে নৌকা বাইচ বন্ধ

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্বে নৌকা বাইচ বন্ধ
করতোয়া নদীর কালিগঞ্জ ঘাট। এখানে নৌকা বাইচের জন্য মঞ্চ তৈরি করা হয়

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় করতোয়া নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ নিয়ে আলাদা তারিখ ঘোষণা করেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে নৌকা বাইচ বন্ধ ঘোষণা করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

দীর্ঘদিন ধরেই উপজেলার পঞ্চকোশী ইউনিয়নে করতোয়া নদীর কালিগঞ্জ ঘাটে স্থানীয়দের উদ্যোগে এই নৌকা বাইচ আয়োজন করা হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বিএনপির পক্ষ থেকে ৭, ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর এ প্রতিযোগিতার তারিখ ঘোষণা করা হয়।

এরপরই জামায়াত নেতারা ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচের তারিখ ঘোষণা ও প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে উভয় পক্ষই উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে।

বিএনপি আয়োজিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম রেজা বলেন, ‘৭, ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে করতোয়া নদীর কালিগঞ্জ ঘাটে ১৭তম নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে প্রধান অতিথি এবং সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খানকে বিশেষ অতিথি করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় হঠাৎ করে জামায়াত নেতা জহুরুল ইসলাম পেনু আমাদের মঞ্চের পাশে মঞ্চ তৈরি করে একই ঘাটে ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করেন। যে কারণে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ঘাট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে নৌকা বাইচ বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।’

এদিকে জামায়াত আয়োজিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চকোশী ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পেনু বলেন, ‘বিদ্যুৎমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি এবং উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্যকে বিশেষ অতিথি করে আমরা ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা করার প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম। বর্তমানে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি হয়তো প্রতিযোগিতায় উপস্থিত হতে পারবেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাদের প্রতিযোগিতা বন্ধের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রায়হানুল ইসলামকে তার ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

/এসআর/