বনদস্যুর আতঙ্কে দিন কাটছে জেলে-বাওয়ালিদের

বনদস্যুর আতঙ্কে দিন কাটছে জেলে-বাওয়ালিদের
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে যাওয়ার অনুমতি মিলছে জেলে-বাওয়ালিদের। এ উপলক্ষে সাতক্ষীরা উপকূলের বনজীবী, জেলে-বাওয়ালি ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা বনে যেতে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে সবার মধ্যেই বিরাজ করছে বনদস্যু বাহিনীর আতঙ্ক।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালির বাসিন্দা ছবেদ আলী গাজী নৌকা মেরামতে ব্যস্ত। তাকে সহযোগিতা তার স্ত্রী। কাছে গিয়ে কুশল বিনিময় করতেই বলেন, কেমন আর থাকবো বাবা! ভালো নেই। সুন্দরবনে যাওয়া বন্ধ থাকায় গত তিন মাস ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছি। এখন সুন্দরবনে যাবার আগেই আতঙ্কে আছি। বনে যাওয়ার পর কখন না জানি বনদস্যুদের কবলে পড়তে হয়। তার পাশেই নৌকায় জলুই পেটাচ্ছেন গাবুরার আশেম আলী। কাছে গিয়ে সুন্দরবনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আগে ছিল বাঘের ভয় আর এখন বনদস্যুর ভয়। বনে ঢুকে মাছ কাকড়া ধরবো না তাদের ভয়ে থাকবো!
এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ সুন্দরবনে যেতেই রাজি হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে বলেন, শান্ত সুন্দরবন অশান্ত হয়ে গেছে ৫ আগস্টের পর। বন বিভাগের থেকে পাস (অনুমতি) নিয়ে সুন্দরবনে গিয়ে যত টাকা আয় করি তার থেকে বেশি টাকা দস্যু বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয়। মাসিক চাঁদা না দিলে তারা জিম্মি করে নির্যাতন করেন।
জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস পর্যন্ত সুন্দরবন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ।

মুন্সিগঞ্জের পর্যটকবাহী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ওই সময় কোনো আয় করতে পারিনি। লোনা পানিতে নৌকা থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে। বনের দুয়ার খুলবে তাই নৌকা সংস্কার শুরু করেছি।
তিনি আরও বলেন, সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে কাঠ ও আলকাতরা কিনেছি। সব মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। পাস ছাড়ার পর যে টাকা আয় করব তা সমিতিতে দিবো নাকি সংসারের খরচ চালাবো চিন্তায় আছি।
জেলেরা জানায়, নিষেধাজ্ঞাকালীন অসাধু জেলেরা অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ করে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করে। এ সময় ফাঁদ পেতে হরিণও শিকার করে। কারণ, অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ও হরিণ শিকার করতে অসাধুচক্রের সুবিধা হয়।
মুন্সিগঞ্জে ইউনিয়নের কলবাড়ি এলাকার সোহাগ বলেন, তিন মাস সংসার চালাতে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঋণ হয়েছি। কিন্তু বনদস্যুদের চাঁদা দিতে গেলে ঋণ শোধ হবে না।
স্থানীয় একাধিক জেলে জানান, তিন মাস আগে যখন বন খোলা ছিল, তখনও বনদস্যুদের চাঁদা দিয়ে বনে প্রবেশ করতে হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বনদস্যু নির্মূলে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই জেলে-বাওয়ালিদের শঙ্কা কাটছে না।
বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ইরফান হোসেন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, সুন্দরবনে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ৩১ আগস্ট। সেপ্টেম্বর ১ তারিখ থেকে দেওয়া হবে পাস। তা নিয়েই বাওয়ালি ও পর্যটকবাহী ট্রলার সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, থানা পুলিশের পাশাপাশি সুন্দরবন নৌপুলিশ, কোষ্টগার্ড, বন বিভাগ সবার নজরদারিতে আছে।
বনদস্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের কাছে গত তিন মাসে কোনো অভিযোগ আসেনি। পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে জেলে বাওয়ালিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে যাওয়ার অনুমতি মিলছে জেলে-বাওয়ালিদের। এ উপলক্ষে সাতক্ষীরা উপকূলের বনজীবী, জেলে-বাওয়ালি ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা বনে যেতে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে সবার মধ্যেই বিরাজ করছে বনদস্যু বাহিনীর আতঙ্ক।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালির বাসিন্দা ছবেদ আলী গাজী নৌকা মেরামতে ব্যস্ত। তাকে সহযোগিতা তার স্ত্রী। কাছে গিয়ে কুশল বিনিময় করতেই বলেন, কেমন আর থাকবো বাবা! ভালো নেই। সুন্দরবনে যাওয়া বন্ধ থাকায় গত তিন মাস ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছি। এখন সুন্দরবনে যাবার আগেই আতঙ্কে আছি। বনে যাওয়ার পর কখন না জানি বনদস্যুদের কবলে পড়তে হয়। তার পাশেই নৌকায় জলুই পেটাচ্ছেন গাবুরার আশেম আলী। কাছে গিয়ে সুন্দরবনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আগে ছিল বাঘের ভয় আর এখন বনদস্যুর ভয়। বনে ঢুকে মাছ কাকড়া ধরবো না তাদের ভয়ে থাকবো!
এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ সুন্দরবনে যেতেই রাজি হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে বলেন, শান্ত সুন্দরবন অশান্ত হয়ে গেছে ৫ আগস্টের পর। বন বিভাগের থেকে পাস (অনুমতি) নিয়ে সুন্দরবনে গিয়ে যত টাকা আয় করি তার থেকে বেশি টাকা দস্যু বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয়। মাসিক চাঁদা না দিলে তারা জিম্মি করে নির্যাতন করেন।
জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস পর্যন্ত সুন্দরবন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ।

মুন্সিগঞ্জের পর্যটকবাহী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ওই সময় কোনো আয় করতে পারিনি। লোনা পানিতে নৌকা থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে। বনের দুয়ার খুলবে তাই নৌকা সংস্কার শুরু করেছি।
তিনি আরও বলেন, সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে কাঠ ও আলকাতরা কিনেছি। সব মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। পাস ছাড়ার পর যে টাকা আয় করব তা সমিতিতে দিবো নাকি সংসারের খরচ চালাবো চিন্তায় আছি।
জেলেরা জানায়, নিষেধাজ্ঞাকালীন অসাধু জেলেরা অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ করে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করে। এ সময় ফাঁদ পেতে হরিণও শিকার করে। কারণ, অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ও হরিণ শিকার করতে অসাধুচক্রের সুবিধা হয়।
মুন্সিগঞ্জে ইউনিয়নের কলবাড়ি এলাকার সোহাগ বলেন, তিন মাস সংসার চালাতে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঋণ হয়েছি। কিন্তু বনদস্যুদের চাঁদা দিতে গেলে ঋণ শোধ হবে না।
স্থানীয় একাধিক জেলে জানান, তিন মাস আগে যখন বন খোলা ছিল, তখনও বনদস্যুদের চাঁদা দিয়ে বনে প্রবেশ করতে হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বনদস্যু নির্মূলে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই জেলে-বাওয়ালিদের শঙ্কা কাটছে না।
বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ইরফান হোসেন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, সুন্দরবনে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ৩১ আগস্ট। সেপ্টেম্বর ১ তারিখ থেকে দেওয়া হবে পাস। তা নিয়েই বাওয়ালি ও পর্যটকবাহী ট্রলার সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, থানা পুলিশের পাশাপাশি সুন্দরবন নৌপুলিশ, কোষ্টগার্ড, বন বিভাগ সবার নজরদারিতে আছে।
বনদস্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের কাছে গত তিন মাসে কোনো অভিযোগ আসেনি। পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে জেলে বাওয়ালিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

বনদস্যুর আতঙ্কে দিন কাটছে জেলে-বাওয়ালিদের
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে যাওয়ার অনুমতি মিলছে জেলে-বাওয়ালিদের। এ উপলক্ষে সাতক্ষীরা উপকূলের বনজীবী, জেলে-বাওয়ালি ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা বনে যেতে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে সবার মধ্যেই বিরাজ করছে বনদস্যু বাহিনীর আতঙ্ক।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালির বাসিন্দা ছবেদ আলী গাজী নৌকা মেরামতে ব্যস্ত। তাকে সহযোগিতা তার স্ত্রী। কাছে গিয়ে কুশল বিনিময় করতেই বলেন, কেমন আর থাকবো বাবা! ভালো নেই। সুন্দরবনে যাওয়া বন্ধ থাকায় গত তিন মাস ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছি। এখন সুন্দরবনে যাবার আগেই আতঙ্কে আছি। বনে যাওয়ার পর কখন না জানি বনদস্যুদের কবলে পড়তে হয়। তার পাশেই নৌকায় জলুই পেটাচ্ছেন গাবুরার আশেম আলী। কাছে গিয়ে সুন্দরবনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আগে ছিল বাঘের ভয় আর এখন বনদস্যুর ভয়। বনে ঢুকে মাছ কাকড়া ধরবো না তাদের ভয়ে থাকবো!
এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ সুন্দরবনে যেতেই রাজি হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে বলেন, শান্ত সুন্দরবন অশান্ত হয়ে গেছে ৫ আগস্টের পর। বন বিভাগের থেকে পাস (অনুমতি) নিয়ে সুন্দরবনে গিয়ে যত টাকা আয় করি তার থেকে বেশি টাকা দস্যু বাহিনীকে চাঁদা দিতে হয়। মাসিক চাঁদা না দিলে তারা জিম্মি করে নির্যাতন করেন।
জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস পর্যন্ত সুন্দরবন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ।

মুন্সিগঞ্জের পর্যটকবাহী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ওই সময় কোনো আয় করতে পারিনি। লোনা পানিতে নৌকা থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে। বনের দুয়ার খুলবে তাই নৌকা সংস্কার শুরু করেছি।
তিনি আরও বলেন, সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে কাঠ ও আলকাতরা কিনেছি। সব মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। পাস ছাড়ার পর যে টাকা আয় করব তা সমিতিতে দিবো নাকি সংসারের খরচ চালাবো চিন্তায় আছি।
জেলেরা জানায়, নিষেধাজ্ঞাকালীন অসাধু জেলেরা অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ করে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করে। এ সময় ফাঁদ পেতে হরিণও শিকার করে। কারণ, অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ও হরিণ শিকার করতে অসাধুচক্রের সুবিধা হয়।
মুন্সিগঞ্জে ইউনিয়নের কলবাড়ি এলাকার সোহাগ বলেন, তিন মাস সংসার চালাতে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঋণ হয়েছি। কিন্তু বনদস্যুদের চাঁদা দিতে গেলে ঋণ শোধ হবে না।
স্থানীয় একাধিক জেলে জানান, তিন মাস আগে যখন বন খোলা ছিল, তখনও বনদস্যুদের চাঁদা দিয়ে বনে প্রবেশ করতে হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বনদস্যু নির্মূলে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই জেলে-বাওয়ালিদের শঙ্কা কাটছে না।
বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ইরফান হোসেন সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, সুন্দরবনে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে ৩১ আগস্ট। সেপ্টেম্বর ১ তারিখ থেকে দেওয়া হবে পাস। তা নিয়েই বাওয়ালি ও পর্যটকবাহী ট্রলার সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, থানা পুলিশের পাশাপাশি সুন্দরবন নৌপুলিশ, কোষ্টগার্ড, বন বিভাগ সবার নজরদারিতে আছে।
বনদস্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের কাছে গত তিন মাসে কোনো অভিযোগ আসেনি। পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে জেলে বাওয়ালিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।









