এ বছর বাংলাদেশে কাজ হারাবে ৬ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক

এ বছর বাংলাদেশে কাজ হারাবে ৬ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক
সিজেডএন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশে দারিদ্র্য পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, চলতি বছর প্রায় ৬ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাতে পারেন। একই সঙ্গে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার প্রত্যাশিত সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে এ বছর সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ আরও ১২ লাখ মানুষের দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা নষ্ট হতে পারে।
কোভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী অনিশ্চয়তার প্রভাবেও দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি ইতিমধ্যে চাপের মধ্যে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের পর জ্বালানি তেল, সারসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যয় মেটাতে বাংলাদেশ সরকার বিশ্বব্যাংকের কাছে বাজেট সহায়তা চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন সংস্থাটি একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। পরে ২৬ জুন বাংলাদেশকে ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বাজেট সহায়তা অনুমোদন করে বিশ্বব্যাংক।
দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর ভাষ্য, বিশ্বব্যাংক এই সহায়তায় সম্মত হলেও শর্ত দিয়েছে—বিভিন্ন প্রকল্পে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা অর্থ একত্র করে তা বাজেট সহায়তার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
দারিদ্র্য কমার গতি কমেছে
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সীমিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে দারিদ্র্য কমানোর গতি মন্থর হয়েছে। শুধু ২০২৫ সালেই দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ বেড়েছে।
চলতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসবে বলে আগে পূর্বাভাস দেওয়া হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সেই অর্জনের বড় অংশই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালে দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রায় ১০ শতাংশের পেছনে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ভূমিকা রাখবে।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়া উদ্বেগজনক। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। নতুন রাজনৈতিক সরকারের সময়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে বলে প্রত্যাশা থাকলেও সেই গতি এখনো দেখা যাচ্ছে না।
তাঁর মতে, বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন নতুন সরকারের জন্য অস্বস্তিকর বার্তা দিচ্ছে। অর্থনীতি স্থবিরতার একটি পর্যায়ে আটকে আছে—এমন ইঙ্গিতও এতে রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন জনপ্রিয় উদ্যোগের পাশাপাশি অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ কমে যাওয়ায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো আরও কার্যকরভাবে দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। রাজনৈতিক বিবেচনা বাদ দিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নিরপেক্ষভাবে চিহ্নিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
জ্বালানি আমদানির চাপ
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করছে।
সংস্থাটির হিসাবে, বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। দেশের অপরিশোধিত তেলের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির মধ্যে পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সময়ে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ থেকে ২৮ ডলারে উঠেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
বিশ্বব্যাংকের অনুমান, ২০২৬ সালে জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের ভর্তুকির মোট বোঝা ২৫০ কোটি থেকে ৪৮০ কোটি ডলারে উঠতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ খাতে ভর্তুকি ছিল ১৫০ কোটি থেকে ২৫০ কোটি ডলারের মধ্যে। ভর্তুকির ব্যয় বাড়লে সামাজিক সুরক্ষা ও জরুরি খাতে সরকারের ব্যয়ের সক্ষমতা আরও কমবে।
সারের দামেও চাপ
ইউরিয়া, ডায়ামোনিয়াম ফসফেট, ট্রিপল সুপার ফসফেট ও মিউরিয়েট অব পটাশের মতো সারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর। আবার দেশে ইউরিয়া উৎপাদনের জন্যও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এ ব্যবস্থায় ইতিমধ্যে ব্যাঘাত ঘটেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ইউরিয়ার দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে দাম দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সংকট
বাংলাদেশের বেসরকারি খাত ও শ্রমবাজারও কাঠামোগত দুর্বলতার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
সংস্থাটির হিসাবে, দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মাসে গড়ে ২৬ বার বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের মুখে পড়ে। এতে বছরে বিক্রির প্রায় ৯ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি হয়। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন বিধিবিধানের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের সম্ভাবনা প্রায় ১৯ শতাংশ কমে যায়।
শ্রমবাজারের ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তৈরি হওয়া নতুন কর্মসংস্থানের প্রতি ১০টির মধ্যে সাতটিই হয়েছে তুলনামূলক কম উৎপাদনশীল কৃষি খাতে।
বহুমুখী সংকটে অর্থনীতি
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং তীব্র ভূরাজনৈতিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অভিঘাতের মুখোমুখি হচ্ছে।
দেশের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা বড় ধরনের সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতাকে সীমিত করছে। ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবার ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমেছে। টানা তিন বছর মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ শ্রমিক অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন।
এদিকে জ্বালানি ভর্তুকি ও ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণে ব্যয় বাড়ায় রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
সংস্থাটির মতে, এসব চাপের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
বাজেট সহায়তার অর্থ যেভাবে ব্যয় হবে
বিশ্বব্যাংকের দেওয়া বাজেট সহায়তার অর্থ মূলত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করা জ্বালানি পণ্যের মূল্য পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে নগদ ও জীবিকা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মাধ্যমে সংকটের সময় মানুষের আয় স্থিতিশীল রাখা এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে। সূত্রগুলোর দাবি, ইতিমধ্যে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সারসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের অনুকূলে বরাদ্দ করা এই অর্থ ব্যবহার শুরু হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশে দারিদ্র্য পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, চলতি বছর প্রায় ৬ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাতে পারেন। একই সঙ্গে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার প্রত্যাশিত সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে এ বছর সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ আরও ১২ লাখ মানুষের দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা নষ্ট হতে পারে।
কোভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী অনিশ্চয়তার প্রভাবেও দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি ইতিমধ্যে চাপের মধ্যে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের পর জ্বালানি তেল, সারসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যয় মেটাতে বাংলাদেশ সরকার বিশ্বব্যাংকের কাছে বাজেট সহায়তা চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন সংস্থাটি একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। পরে ২৬ জুন বাংলাদেশকে ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বাজেট সহায়তা অনুমোদন করে বিশ্বব্যাংক।
দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর ভাষ্য, বিশ্বব্যাংক এই সহায়তায় সম্মত হলেও শর্ত দিয়েছে—বিভিন্ন প্রকল্পে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা অর্থ একত্র করে তা বাজেট সহায়তার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
দারিদ্র্য কমার গতি কমেছে
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সীমিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে দারিদ্র্য কমানোর গতি মন্থর হয়েছে। শুধু ২০২৫ সালেই দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ বেড়েছে।
চলতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসবে বলে আগে পূর্বাভাস দেওয়া হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সেই অর্জনের বড় অংশই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালে দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রায় ১০ শতাংশের পেছনে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ভূমিকা রাখবে।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়া উদ্বেগজনক। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। নতুন রাজনৈতিক সরকারের সময়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে বলে প্রত্যাশা থাকলেও সেই গতি এখনো দেখা যাচ্ছে না।
তাঁর মতে, বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন নতুন সরকারের জন্য অস্বস্তিকর বার্তা দিচ্ছে। অর্থনীতি স্থবিরতার একটি পর্যায়ে আটকে আছে—এমন ইঙ্গিতও এতে রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন জনপ্রিয় উদ্যোগের পাশাপাশি অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ কমে যাওয়ায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো আরও কার্যকরভাবে দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। রাজনৈতিক বিবেচনা বাদ দিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নিরপেক্ষভাবে চিহ্নিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
জ্বালানি আমদানির চাপ
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করছে।
সংস্থাটির হিসাবে, বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। দেশের অপরিশোধিত তেলের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির মধ্যে পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সময়ে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ থেকে ২৮ ডলারে উঠেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
বিশ্বব্যাংকের অনুমান, ২০২৬ সালে জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের ভর্তুকির মোট বোঝা ২৫০ কোটি থেকে ৪৮০ কোটি ডলারে উঠতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ খাতে ভর্তুকি ছিল ১৫০ কোটি থেকে ২৫০ কোটি ডলারের মধ্যে। ভর্তুকির ব্যয় বাড়লে সামাজিক সুরক্ষা ও জরুরি খাতে সরকারের ব্যয়ের সক্ষমতা আরও কমবে।
সারের দামেও চাপ
ইউরিয়া, ডায়ামোনিয়াম ফসফেট, ট্রিপল সুপার ফসফেট ও মিউরিয়েট অব পটাশের মতো সারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর। আবার দেশে ইউরিয়া উৎপাদনের জন্যও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এ ব্যবস্থায় ইতিমধ্যে ব্যাঘাত ঘটেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ইউরিয়ার দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে দাম দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সংকট
বাংলাদেশের বেসরকারি খাত ও শ্রমবাজারও কাঠামোগত দুর্বলতার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
সংস্থাটির হিসাবে, দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মাসে গড়ে ২৬ বার বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের মুখে পড়ে। এতে বছরে বিক্রির প্রায় ৯ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি হয়। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন বিধিবিধানের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের সম্ভাবনা প্রায় ১৯ শতাংশ কমে যায়।
শ্রমবাজারের ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তৈরি হওয়া নতুন কর্মসংস্থানের প্রতি ১০টির মধ্যে সাতটিই হয়েছে তুলনামূলক কম উৎপাদনশীল কৃষি খাতে।
বহুমুখী সংকটে অর্থনীতি
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং তীব্র ভূরাজনৈতিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অভিঘাতের মুখোমুখি হচ্ছে।
দেশের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা বড় ধরনের সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতাকে সীমিত করছে। ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবার ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমেছে। টানা তিন বছর মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ শ্রমিক অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন।
এদিকে জ্বালানি ভর্তুকি ও ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণে ব্যয় বাড়ায় রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
সংস্থাটির মতে, এসব চাপের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
বাজেট সহায়তার অর্থ যেভাবে ব্যয় হবে
বিশ্বব্যাংকের দেওয়া বাজেট সহায়তার অর্থ মূলত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করা জ্বালানি পণ্যের মূল্য পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে নগদ ও জীবিকা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মাধ্যমে সংকটের সময় মানুষের আয় স্থিতিশীল রাখা এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে। সূত্রগুলোর দাবি, ইতিমধ্যে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সারসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের অনুকূলে বরাদ্দ করা এই অর্থ ব্যবহার শুরু হয়েছে।

এ বছর বাংলাদেশে কাজ হারাবে ৬ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক
সিজেডএন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশে দারিদ্র্য পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, চলতি বছর প্রায় ৬ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাতে পারেন। একই সঙ্গে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার প্রত্যাশিত সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে এ বছর সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ আরও ১২ লাখ মানুষের দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা নষ্ট হতে পারে।
কোভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী অনিশ্চয়তার প্রভাবেও দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি ইতিমধ্যে চাপের মধ্যে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের পর জ্বালানি তেল, সারসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যয় মেটাতে বাংলাদেশ সরকার বিশ্বব্যাংকের কাছে বাজেট সহায়তা চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন সংস্থাটি একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। পরে ২৬ জুন বাংলাদেশকে ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বাজেট সহায়তা অনুমোদন করে বিশ্বব্যাংক।
দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর ভাষ্য, বিশ্বব্যাংক এই সহায়তায় সম্মত হলেও শর্ত দিয়েছে—বিভিন্ন প্রকল্পে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা অর্থ একত্র করে তা বাজেট সহায়তার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
দারিদ্র্য কমার গতি কমেছে
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সীমিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে দারিদ্র্য কমানোর গতি মন্থর হয়েছে। শুধু ২০২৫ সালেই দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ বেড়েছে।
চলতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসবে বলে আগে পূর্বাভাস দেওয়া হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সেই অর্জনের বড় অংশই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালে দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রায় ১০ শতাংশের পেছনে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ভূমিকা রাখবে।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়া উদ্বেগজনক। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। নতুন রাজনৈতিক সরকারের সময়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে বলে প্রত্যাশা থাকলেও সেই গতি এখনো দেখা যাচ্ছে না।
তাঁর মতে, বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন নতুন সরকারের জন্য অস্বস্তিকর বার্তা দিচ্ছে। অর্থনীতি স্থবিরতার একটি পর্যায়ে আটকে আছে—এমন ইঙ্গিতও এতে রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন জনপ্রিয় উদ্যোগের পাশাপাশি অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ কমে যাওয়ায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো আরও কার্যকরভাবে দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। রাজনৈতিক বিবেচনা বাদ দিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নিরপেক্ষভাবে চিহ্নিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
জ্বালানি আমদানির চাপ
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করছে।
সংস্থাটির হিসাবে, বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। দেশের অপরিশোধিত তেলের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির মধ্যে পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সময়ে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ থেকে ২৮ ডলারে উঠেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
বিশ্বব্যাংকের অনুমান, ২০২৬ সালে জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের ভর্তুকির মোট বোঝা ২৫০ কোটি থেকে ৪৮০ কোটি ডলারে উঠতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ খাতে ভর্তুকি ছিল ১৫০ কোটি থেকে ২৫০ কোটি ডলারের মধ্যে। ভর্তুকির ব্যয় বাড়লে সামাজিক সুরক্ষা ও জরুরি খাতে সরকারের ব্যয়ের সক্ষমতা আরও কমবে।
সারের দামেও চাপ
ইউরিয়া, ডায়ামোনিয়াম ফসফেট, ট্রিপল সুপার ফসফেট ও মিউরিয়েট অব পটাশের মতো সারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর। আবার দেশে ইউরিয়া উৎপাদনের জন্যও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এ ব্যবস্থায় ইতিমধ্যে ব্যাঘাত ঘটেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ইউরিয়ার দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে দাম দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সংকট
বাংলাদেশের বেসরকারি খাত ও শ্রমবাজারও কাঠামোগত দুর্বলতার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
সংস্থাটির হিসাবে, দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মাসে গড়ে ২৬ বার বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের মুখে পড়ে। এতে বছরে বিক্রির প্রায় ৯ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি হয়। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন বিধিবিধানের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের সম্ভাবনা প্রায় ১৯ শতাংশ কমে যায়।
শ্রমবাজারের ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তৈরি হওয়া নতুন কর্মসংস্থানের প্রতি ১০টির মধ্যে সাতটিই হয়েছে তুলনামূলক কম উৎপাদনশীল কৃষি খাতে।
বহুমুখী সংকটে অর্থনীতি
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং তীব্র ভূরাজনৈতিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অভিঘাতের মুখোমুখি হচ্ছে।
দেশের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা বড় ধরনের সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতাকে সীমিত করছে। ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবার ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমেছে। টানা তিন বছর মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ শ্রমিক অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন।
এদিকে জ্বালানি ভর্তুকি ও ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণে ব্যয় বাড়ায় রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
সংস্থাটির মতে, এসব চাপের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
বাজেট সহায়তার অর্থ যেভাবে ব্যয় হবে
বিশ্বব্যাংকের দেওয়া বাজেট সহায়তার অর্থ মূলত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করা জ্বালানি পণ্যের মূল্য পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে নগদ ও জীবিকা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মাধ্যমে সংকটের সময় মানুষের আয় স্থিতিশীল রাখা এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে। সূত্রগুলোর দাবি, ইতিমধ্যে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সারসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের অনুকূলে বরাদ্দ করা এই অর্থ ব্যবহার শুরু হয়েছে।







