শিরোনাম

বিলবোর্ড-ব্যানারের পেরেকে ক্ষতবিক্ষত গাছ, নীরব প্রশাসন

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
বিলবোর্ড-ব্যানারের পেরেকে ক্ষতবিক্ষত গাছ, নীরব প্রশাসন
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ এলাকায় গাছে পেরেক মেরে টানানো হয়েছে ব্যানার। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক নেতার পোস্টার, হাসপাতাল ক্লিনিকের বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন কোচিং সেন্টার ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পণ্যের ব্যানার ও সাইনবোর্ডে ছেয়ে গেছে গাছগাছালি। ফলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এছাড়া, নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

সাতক্ষীরা শহরের রাজ্জাক পার্ক, পোস্ট অফিস মোড়, ফুড অফিস মোড়, সরকারি কলেজ মোড়, কলেজের ক্যাম্পাস, সরকারি মহিলা কলেজ মোড়, সদর উপজেলা চত্বর ঘুরে দেখা যায়, সড়কের পাশে গাছে গাছে ঝুলছে ব্যানার ও পোস্টার। যার ফলে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল জানান, গাছের ক্ষতি করে প্রচারণা চালানোটা অন্যায়। গাছ রক্ষায় আমাদের সচেতনতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তারিক ইসলাম বলেন, গাছ আমাদের বন্ধু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়। ফলে ব্যানার-পোস্টার লাগানোর জন্য ‎গাছে পেরেক মারা অন্যায়।

সামাজিক সংগঠন ‘আমরা বন্ধু’র নির্বাহী পরিচালক এস.এম নাহিদ হাসান বলেন, গাছের শরীরে পেরেক মেরে বিলবোর্ড বা ব্যানার টানানো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। পেরেকের কারণে গাছের কাণ্ডের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রোগজীবাণু প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়। প্রচারের জন্য গাছকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে নির্ধারিত স্থানে বিজ্ঞাপন বিলবোর্স্থা পন করা উচিত। গাছ আমাদের পরিবেশ ও জীবনের জন্য অপরিহার্য। তাই গাছ রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

শহরের মুনজিতপুর এলাকার গাছে ঝুলছে ঐশি মেকওভারের বিজ্ঞাপন
শহরের মুনজিতপুর এলাকার গাছে ঝুলছে ঐশি মেকওভারের বিজ্ঞাপন

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. নাসরিন আক্তার মুঠোফোনে বলেন, মানুষের মতো গাছের ও জীবন অনূভূতি আছে। হয়তো আমরা ওগুলো দেখতে পায় না। যখন গাছের শরীরে লোহার তার বা পেরেক দিয়ে তাদের ক্ষত বিক্ষত করা হয় তখন ক্ষত দিয়ে তার কোষ গুলো নষ্ট হয়ে যায়। সেই গাছের গায়ে যে ছিদ্র হয় তা দিয়ে পানি ও বাতাসের এর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অণুজীব ঢোকে। এতে গাছের ওই জায়গায় পচন ধরে। ফলে গাছের খাদ্য ও পানিশোষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এক সময় গাছটি মারা যায়।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সামাজিক বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা প্রিয়াংকা হালদার মুঠোফোনে বলেন,নতুন সরকারের আমলে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শিগগিরই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরা জেলা নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) তাজুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আমাদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে গাছ থেকে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া আছে। প্রতিনিয়ত এগুলো অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে।

/এসআর/