গুম তদন্তে বাহিনীকেই ক্ষমতা দেওয়ার বিল সংশোধনের দাবি

গুম তদন্তে বাহিনীকেই ক্ষমতা দেওয়ার বিল সংশোধনের দাবি
সিজেডএন ডেস্ক

মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত প্রস্তাবিত দুইটি বিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর হাতেই রাখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও গুমবিষয়ক সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্যরা। তাদের মতে, স্বাধীন তদন্তের সুযোগ নিশ্চিত না করে বিল দুটি পাস করা হলে গুমের ঘটনায় বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
আগামীকাল ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। এ উপলক্ষে আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এ সভার আয়োজন করে। এতে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্য, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত দুই আইনেই স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। তদন্তের বর্তমান কাঠামো পরিবর্তন করা না হলে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ কার্যত মানুষকে বিভ্রান্ত করবে।
তিনি বলেন, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত নিজেই করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, দুটি আইনই প্রয়োজন, তবে সেগুলোতে তদন্তের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
সারা হোসেন আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর কোথাও এ ধরনের ব্যবস্থা নেই। এখন দেখার বিষয়, সংসদের স্থায়ী কমিটি বিল দুটি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।
গুমের ঘটনায় আদালতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই আইনজীবী। তার ভাষ্য, অতীতে গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আদালতের দ্বারস্থ হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা কার্যকর প্রতিকার পাননি। এখন সরকার ও আদালতের সামনে বড় সুযোগ হলো—আগের নীরবতার ধারাবাহিকতা বজায় না রেখে জবাবদিহির পথ তৈরি করা।
স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা চাইলেন সাবেক কমিশনার
গুমসংক্রান্ত সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গুমের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা না থাকলে এ ধরনের আইন করে কোনো লাভ হবে না।
তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ কিংবা তাদের মাধ্যমে অনুসন্ধানের ওপর নির্ভরশীল করে রাখা হলে স্বাধীন তদন্ত সম্ভব নয়। প্রস্তাবিত আইনে কমিশনকে নিজস্ব ক্ষমতায় তদন্ত পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে।
নূর খান বলেন, কমিশনকে কার্যকর ক্ষমতা না দিয়ে শুধু প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার মতে, গুমের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই স্বাধীন হতে হবে।
‘এমন আইন গুমের পথ সহজ করবে’
ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার মীর আহমাদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) বলেন, বর্তমান সংসদে অনেকেই বিভিন্ন সময় নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাদের হাত দিয়ে এমন কোনো আইন পাস হওয়া উচিত নয়, যা ভবিষ্যতে গুমের পথ আরও সহজ করে দিতে পারে।
আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সুবিধার কথা বিবেচনা করে আইন প্রণয়নের যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। অথচ নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে খুশি করা সরকারের দায়িত্ব নয়। জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং বাহিনীগুলোকে জবাবদিহির মধ্যে রাখাই জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব।
‘গুম না করলে দরজা খোলা রাখছেন কেন’
সাবেক গুম কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, সরকার বারবার বলছে তারা গুম করবে না। তাহলে গুমের সুযোগ তৈরি করে এমন বিধান রাখার প্রয়োজন কী?
তিনি বলেন, ‘যদি গুম না–ই করবেন, তাহলে দরজাটা খোলা রাখছেন কেন? যদি দরজা খোলা থাকে, কেউ না কেউ সে দরজা দিয়ে একসময় ঢুকবে।’
আলোচনা সভায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের সন্ধান এবং গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান।
সম্প্রতি মোংলায় কোস্টগার্ডের পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর নিখোঁজ মিরাজ শেখের সন্ধানও দাবি করেন তার বোন লিজা ইসলাম।
এইচআরএসএসের সাত দাবি
আলোচনা সভায় এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম সংগঠনটির পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মোংলায় সম্ভাব্য গুমের শিকার মিরাজ শেখসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধান করা, গুমের প্রতিটি ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করা, সাবেক গুম কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং অতীতের গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচার করা।
এ ছাড়া গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আইন সংশোধন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকর ক্ষমতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন এইচআরএসএসের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। আরও বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী এবং এইচসিএইচআরের বাংলাদেশ কার্যালয়ের সহকারী মানবাধিকার কর্মকর্তা সাবরিন আহমেদ।

মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত প্রস্তাবিত দুইটি বিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর হাতেই রাখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও গুমবিষয়ক সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্যরা। তাদের মতে, স্বাধীন তদন্তের সুযোগ নিশ্চিত না করে বিল দুটি পাস করা হলে গুমের ঘটনায় বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
আগামীকাল ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। এ উপলক্ষে আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এ সভার আয়োজন করে। এতে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্য, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত দুই আইনেই স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। তদন্তের বর্তমান কাঠামো পরিবর্তন করা না হলে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ কার্যত মানুষকে বিভ্রান্ত করবে।
তিনি বলেন, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত নিজেই করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, দুটি আইনই প্রয়োজন, তবে সেগুলোতে তদন্তের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
সারা হোসেন আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর কোথাও এ ধরনের ব্যবস্থা নেই। এখন দেখার বিষয়, সংসদের স্থায়ী কমিটি বিল দুটি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।
গুমের ঘটনায় আদালতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই আইনজীবী। তার ভাষ্য, অতীতে গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আদালতের দ্বারস্থ হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা কার্যকর প্রতিকার পাননি। এখন সরকার ও আদালতের সামনে বড় সুযোগ হলো—আগের নীরবতার ধারাবাহিকতা বজায় না রেখে জবাবদিহির পথ তৈরি করা।
স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা চাইলেন সাবেক কমিশনার
গুমসংক্রান্ত সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গুমের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা না থাকলে এ ধরনের আইন করে কোনো লাভ হবে না।
তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ কিংবা তাদের মাধ্যমে অনুসন্ধানের ওপর নির্ভরশীল করে রাখা হলে স্বাধীন তদন্ত সম্ভব নয়। প্রস্তাবিত আইনে কমিশনকে নিজস্ব ক্ষমতায় তদন্ত পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে।
নূর খান বলেন, কমিশনকে কার্যকর ক্ষমতা না দিয়ে শুধু প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার মতে, গুমের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই স্বাধীন হতে হবে।
‘এমন আইন গুমের পথ সহজ করবে’
ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার মীর আহমাদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) বলেন, বর্তমান সংসদে অনেকেই বিভিন্ন সময় নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাদের হাত দিয়ে এমন কোনো আইন পাস হওয়া উচিত নয়, যা ভবিষ্যতে গুমের পথ আরও সহজ করে দিতে পারে।
আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সুবিধার কথা বিবেচনা করে আইন প্রণয়নের যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। অথচ নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে খুশি করা সরকারের দায়িত্ব নয়। জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং বাহিনীগুলোকে জবাবদিহির মধ্যে রাখাই জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব।
‘গুম না করলে দরজা খোলা রাখছেন কেন’
সাবেক গুম কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, সরকার বারবার বলছে তারা গুম করবে না। তাহলে গুমের সুযোগ তৈরি করে এমন বিধান রাখার প্রয়োজন কী?
তিনি বলেন, ‘যদি গুম না–ই করবেন, তাহলে দরজাটা খোলা রাখছেন কেন? যদি দরজা খোলা থাকে, কেউ না কেউ সে দরজা দিয়ে একসময় ঢুকবে।’
আলোচনা সভায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের সন্ধান এবং গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান।
সম্প্রতি মোংলায় কোস্টগার্ডের পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর নিখোঁজ মিরাজ শেখের সন্ধানও দাবি করেন তার বোন লিজা ইসলাম।
এইচআরএসএসের সাত দাবি
আলোচনা সভায় এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম সংগঠনটির পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মোংলায় সম্ভাব্য গুমের শিকার মিরাজ শেখসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধান করা, গুমের প্রতিটি ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করা, সাবেক গুম কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং অতীতের গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচার করা।
এ ছাড়া গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আইন সংশোধন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকর ক্ষমতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন এইচআরএসএসের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। আরও বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী এবং এইচসিএইচআরের বাংলাদেশ কার্যালয়ের সহকারী মানবাধিকার কর্মকর্তা সাবরিন আহমেদ।

গুম তদন্তে বাহিনীকেই ক্ষমতা দেওয়ার বিল সংশোধনের দাবি
সিজেডএন ডেস্ক

মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত প্রস্তাবিত দুইটি বিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর হাতেই রাখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও গুমবিষয়ক সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্যরা। তাদের মতে, স্বাধীন তদন্তের সুযোগ নিশ্চিত না করে বিল দুটি পাস করা হলে গুমের ঘটনায় বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
আগামীকাল ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। এ উপলক্ষে আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এ সভার আয়োজন করে। এতে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্য, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত দুই আইনেই স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। তদন্তের বর্তমান কাঠামো পরিবর্তন করা না হলে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ কার্যত মানুষকে বিভ্রান্ত করবে।
তিনি বলেন, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত নিজেই করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, দুটি আইনই প্রয়োজন, তবে সেগুলোতে তদন্তের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
সারা হোসেন আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর কোথাও এ ধরনের ব্যবস্থা নেই। এখন দেখার বিষয়, সংসদের স্থায়ী কমিটি বিল দুটি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।
গুমের ঘটনায় আদালতের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই আইনজীবী। তার ভাষ্য, অতীতে গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আদালতের দ্বারস্থ হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা কার্যকর প্রতিকার পাননি। এখন সরকার ও আদালতের সামনে বড় সুযোগ হলো—আগের নীরবতার ধারাবাহিকতা বজায় না রেখে জবাবদিহির পথ তৈরি করা।
স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা চাইলেন সাবেক কমিশনার
গুমসংক্রান্ত সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গুমের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা না থাকলে এ ধরনের আইন করে কোনো লাভ হবে না।
তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ কিংবা তাদের মাধ্যমে অনুসন্ধানের ওপর নির্ভরশীল করে রাখা হলে স্বাধীন তদন্ত সম্ভব নয়। প্রস্তাবিত আইনে কমিশনকে নিজস্ব ক্ষমতায় তদন্ত পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে।
নূর খান বলেন, কমিশনকে কার্যকর ক্ষমতা না দিয়ে শুধু প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার মতে, গুমের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই স্বাধীন হতে হবে।
‘এমন আইন গুমের পথ সহজ করবে’
ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার মীর আহমাদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) বলেন, বর্তমান সংসদে অনেকেই বিভিন্ন সময় নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাদের হাত দিয়ে এমন কোনো আইন পাস হওয়া উচিত নয়, যা ভবিষ্যতে গুমের পথ আরও সহজ করে দিতে পারে।
আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সুবিধার কথা বিবেচনা করে আইন প্রণয়নের যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। অথচ নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে খুশি করা সরকারের দায়িত্ব নয়। জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং বাহিনীগুলোকে জবাবদিহির মধ্যে রাখাই জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব।
‘গুম না করলে দরজা খোলা রাখছেন কেন’
সাবেক গুম কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, সরকার বারবার বলছে তারা গুম করবে না। তাহলে গুমের সুযোগ তৈরি করে এমন বিধান রাখার প্রয়োজন কী?
তিনি বলেন, ‘যদি গুম না–ই করবেন, তাহলে দরজাটা খোলা রাখছেন কেন? যদি দরজা খোলা থাকে, কেউ না কেউ সে দরজা দিয়ে একসময় ঢুকবে।’
আলোচনা সভায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের সন্ধান এবং গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান।
সম্প্রতি মোংলায় কোস্টগার্ডের পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর নিখোঁজ মিরাজ শেখের সন্ধানও দাবি করেন তার বোন লিজা ইসলাম।
এইচআরএসএসের সাত দাবি
আলোচনা সভায় এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম সংগঠনটির পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মোংলায় সম্ভাব্য গুমের শিকার মিরাজ শেখসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধান করা, গুমের প্রতিটি ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করা, সাবেক গুম কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং অতীতের গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচার করা।
এ ছাড়া গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আইন সংশোধন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকর ক্ষমতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন এইচআরএসএসের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। আরও বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী এবং এইচসিএইচআরের বাংলাদেশ কার্যালয়ের সহকারী মানবাধিকার কর্মকর্তা সাবরিন আহমেদ।








