শিরোনাম

বাড়তি ফলনের আশা, রাজশাহীর আম বাগানে চলছে ফ্রুট ব্যাগিং

রাজশাহী সংবাদদাতা
বাড়তি ফলনের আশা, রাজশাহীর আম বাগানে চলছে ফ্রুট ব্যাগিং
একটি বাগানে আম গাছে ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী অঞ্চলের সুস্বাদু আম উৎপাদনে চাষীদের মধ্যে বেড়েছে সচেতনতা। দাগহীন ও পোকামাকড়ের হাত থেকে আম রক্ষা করতে বালাইনাশকের ব্যবহার কমিয়ে তারা ব্যবহার করছেন ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ প্রযুক্তি। এতে আমের গুণগত মান যেমন বাড়ছে তেমনি বিদেশে রপ্তানিও সহজ হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি মূলত আমের গায়ে বিশেষ ব্যাগ পরিয়ে দিয়ে চাষ করা হয়, যা ফলকে কীটপতঙ্গ, রোগ এবং অতিবৃষ্টির ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এতে আমের রং সুন্দর হয় এবং ফলন বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি বলতে ফল গাছে থাকা অবস্থায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে বা বয়সে বিশেষ ধরনের ব্যাগ দ্বারা ফলকে আবৃত করাকে বুঝায়। ব্যাগিং করার পর থেকে ফল সংগ্রহ করা পর্যন্ত ব্যাগটি গাছেই ফলের সঙ্গে লাগানো থাকে। তবে এই ব্যাগ বিভিন্ন ফলের জন্য বিভিন্ন রং এবং আকারের হয়ে থাকে। আমের জন্য দুই ধরনের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। রঙিন আমের জন্য সাদা ব্যাগ আর অন্যান্য জাতের জন্য বাদামি রঙের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। এই ব্যাগিং পদ্ধতিতে বালাইনাশকের ব্যবহার জাত ভেদে প্রায় ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে আসে।

আসন্ন মৌসুম ঘিরে বর্তমানে রাজশাহীর অধিকাংশ আম বাগানে চলছে ‘ফ্রুট ব্যাগিং’-এর কাজ। রবিবার (৩ মে) জেলার বেশ কয়েকটি বাগান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গোদাগাড়ী উপজেলার কাকন রোড ঝামেলা বাথাল বাড়ির একটি বাগানে বাদামি রংয়ের ব্যাগ দিয়ে ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ করছেন এক আম চাষী। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, প্রতি মৌসুমেই ব্যাগিংয়ের মাধ্যমে তিনি আম চাষ করেন। এতে ফল সুন্দর, দাগহীন ও পোকামাকড়ের হাত থেকে অনেকটাই মুক্তি মিলে। ফলে ফলন বেশি হয়। জেলার কয়েকশ চাষী একই প্রক্রিয়া আম চাষ করেন বলেও জানান তিনি।

কৃষিবিদরা জানান, ব্যাগযুক্ত আমের গুণগত মান সাধারণ আমের তুলনায় অনেক বেশি ভালো। ব্যাগিং পদ্ধতি ফল ও গাছের সুরক্ষার জন্য খুবই কার্যকর।

/এফআর/