শিরোনাম

এমপির মধ্যস্থতায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাদের ক্ষমা করলেন অধ্যক্ষ

নোয়াখালী সংবাদদাতা
এমপির মধ্যস্থতায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাদের ক্ষমা করলেন অধ্যক্ষ
সংসদ সদস্য মো. শাহজাহানের মধ্যস্থতায় অধ্যক্ষের কক্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। ছবি: সংগৃহীত

হামলা ও শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ছানা উল্যা। নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহানের মধ্যস্থতায় শনিবার (৩ মে) বিকেলে অধ্যক্ষের কক্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে এ সমঝোতা হয়।

জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল দুপুরে শিক্ষকদের মধ্যাহ্নভোজ চলাকালে কলেজে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এসময় এক শিক্ষক আহত হন এবং অন্যদের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনার পরপরই শিক্ষকদের এক সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারসহ ৮ দফা দাবি পেশ করা হয়।

এসব ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কলেজ শাখা ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে, কলেজ শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত এবং সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল শনিবার নোয়াখালী সরকারি কলেজে যান সংসদ সদস্য শাহজাহান। তিনি কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ছাত্রদের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন।

এ সময় সংসদ সদস্য শাহজাহান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যে কাজটি করেছিল তা মোটেও কাম্য নয়। আমি বলবো, ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয়। ছাত্রদের পরিচয় তারা কেবলই ছাত্র, আর শিক্ষকরা সবার পরম শ্রদ্ধেয়।’

আলোচনার একপর্যায়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করে অধ্যক্ষের কাছে দুঃখ প্রকাশ অভিযুক্ত ছাত্ররা। এতে তাদের বুকে টেনে নেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ছানা উল্যা।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমপি স্যার কলেজে এসেছিলেন। ছাত্ররা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। তারা তো আমার ছাত্র, আমি কিছু মনে রাখিনি।’

/এফআর/