চাঁদা না দেওয়ায় কারখানায় হামলা, কোটি টাকার মালামাল লুট

চাঁদা না দেওয়ায় কারখানায় হামলা, কোটি টাকার মালামাল লুট
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় বিএলও ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, সন্ত্রাসীরা নগদ অর্থসহ প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
কারখানাটিতে জিআই তার উৎপাদন হয়। এই তার সুইজারল্যান্ড, জার্মানিসহ ১২টি দেশে রপ্তানি হয়।
কারখানার ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কারখানাটিতে কর্মীদের মারধর, ভাঙচুর এবং ট্রাক এনে মালামাল লুট করা হয়েছে। হামলার পর দুই দিন উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে শিল্প পুলিশের পাহারায় সীমিত পরিসরে উৎপাদন শুরু হয়।
স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে এই ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় বিএনপির কিছু লোক রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের পরিচয় ব্যবহার করে কোম্পানির মালিক মনোয়ার হোসেনের কাছে এককালীন ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। এছাড়া তারা মাসে ১ লাখ টাকা করে দেওয়ারও দাবি জানায়। চাঁদা না দেওয়ায় তারা প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালিয়েছে।
গত শুক্রবার কারখানার মালিক মনোয়ার হোসেন জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে কারখানায় লুটপাট শুরু হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। অভিযোগ করে তিনি বলেন, কারখানা থেকে রূপগঞ্জ থানা ১৫-২০ মিনিটের পথ। তবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর। এর আগেই হামলাকারীরা সরে পড়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার তিন শ্রমিক ও স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, হামলাকারীরা শাবল দিয়ে প্রধান ফটক ও সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢোকে। বাধা দিতে গেলে ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ খানকে মারধর করে। তাকে রক্ষা করতে এলে কর্মচারী জুলহাস উদ্দিনও হামলার শিকার হন। পরে তাদের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এসময় তারা আসবাবপত্র নষ্ট করে এবং ট্রাক এনে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কারখানার মালিক মনোয়ার হোসেন ওরফে অপু বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এজাহার অনুযায়ী, স্থানীয় বেলায়েত আকন্দ, সজল হোসেন ও কাজল মিয়ার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল কারখানায় হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এর আগে তারা মালিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল।
মামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বেলায়েত আকনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই কাজল আকন, তার ভাতিজা নিশাত আকন, বিএনপি কর্মী মো. সজল হোসেন, সাদিকুল, মো. ফাহিম, আজিজ মৌলভি ও বোরহানউদ্দিন। অধিকাংশ আসামির বাড়ি জিন্দা গ্রামে।
এজাহারে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা নগদ অর্থসহ প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। মনোয়ার হোসেন বলেন, বেলায়েত আকন ও নিশাত আকন সভাপতি মাহফুজুর রহমানের নাম ব্যবহার করে একাধিকবার চাঁদা দাবি করেছেন। তিনি বিষয়টি অন্তত চারবার মাহফুজুর রহমানকে জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন। তবে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো চাঁদা দাবিকারীদের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে তার অভিযোগ।
মনোয়ার হোসেনের আরও দাবি, ঘটনার সময় মাহফুজুর রহমান উপস্থিত না থাকলেও তার নির্দেশেই হামলা ও লুটপাট হয়েছে। তিনি এজাহারে মাহফুজুর রহমানকে ‘হুকুমের আসামি’ হিসেবে উল্লেখ করতে চাইলেও থানার ওসি নাম বাদ দিতে বলেন বলে অভিযোগ করেন। পরে বাধ্য হয়ে তার নাম ছাড়া মামলা দায়ের করেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কাউকে নাম বাদ দিতে বলেননি; কেবল সত্য ঘটনা উল্লেখ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, কারখানা মালিকের সঙ্গে তার পরিচয় নেই। আর চাঁদা দাবির বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছিল এ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। জানালে তিনি ব্যবস্থা নিতেন। ঘটনার দিন থানা থেকে ফোন পেয়ে খোঁজ নিতে তিনজনকে পাঠিয়েছিলেন বলেও জানান মাহফুজুর। পরে শুনেছি ওই তিনজনের নামেই মামলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কারখানায় পরিবেশ দূষণকারী ব্যাটারি উৎপাদন করা হয় বলে শুনেছি। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
এ বিষয়ে মনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি সরাসরি নয়, লোক মারফত বিষয়টি জানিয়েছিলেন। আর তার কারখানায় কেবল রপ্তানিমুখী জিআই তার উৎপাদন হয়; ব্যাটারি তৈরির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
মনোয়ার হোসেন দাবি করেন, মামলা তুলে নিতে মাহফুজুর রহমানের নাম ব্যবহার করে তাকে দুই দফা হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য রূপগঞ্জ থানার ওসি মো. সবজেল হোসেনকে নির্দেশ দেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। পরে স্থানীয় জিন্দাপার্কের ভেতর থেকে প্রধান আসামি বেলায়েত আকনকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। কিন্তু কিছুক্ষণ পর পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বেলায়েত আকনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ সুপার বলেন, তিনি বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
ওসি মো. সবজেল হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে আসামিকে ধরার চেষ্টা চলছে এবং মামলাটি অন্য সংস্থায় দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
আসামি ধরে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সেখানে অনেক লোকজন ছিল। প্রধান আসামিকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। আসামির কৌশলে সরে যাওয়ার ঘটনা হতে পারে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, চাঁদার চাপ আগেও ছিল। তবে এভাবে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় আতঙ্ক বেড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মামুন মাহমুদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য হলে এটি ফৌজদারি অপরাধ। এতে জড়িতরা যত বড় নেতাই হোক, দল তাদের অপরাধী হিসেবেই দেখবে। দলীয় পরিচয়ে কেউ ছাড় পাবে না। তিনি জানান, যেহেতু মামলা হয়েছে, বিষয়টি আইনগতভাবে দেখা উচিত এবং দলীয়ভাবেও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় বিএলও ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, সন্ত্রাসীরা নগদ অর্থসহ প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
কারখানাটিতে জিআই তার উৎপাদন হয়। এই তার সুইজারল্যান্ড, জার্মানিসহ ১২টি দেশে রপ্তানি হয়।
কারখানার ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কারখানাটিতে কর্মীদের মারধর, ভাঙচুর এবং ট্রাক এনে মালামাল লুট করা হয়েছে। হামলার পর দুই দিন উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে শিল্প পুলিশের পাহারায় সীমিত পরিসরে উৎপাদন শুরু হয়।
স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে এই ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় বিএনপির কিছু লোক রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের পরিচয় ব্যবহার করে কোম্পানির মালিক মনোয়ার হোসেনের কাছে এককালীন ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। এছাড়া তারা মাসে ১ লাখ টাকা করে দেওয়ারও দাবি জানায়। চাঁদা না দেওয়ায় তারা প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালিয়েছে।
গত শুক্রবার কারখানার মালিক মনোয়ার হোসেন জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে কারখানায় লুটপাট শুরু হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। অভিযোগ করে তিনি বলেন, কারখানা থেকে রূপগঞ্জ থানা ১৫-২০ মিনিটের পথ। তবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর। এর আগেই হামলাকারীরা সরে পড়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার তিন শ্রমিক ও স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, হামলাকারীরা শাবল দিয়ে প্রধান ফটক ও সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢোকে। বাধা দিতে গেলে ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ খানকে মারধর করে। তাকে রক্ষা করতে এলে কর্মচারী জুলহাস উদ্দিনও হামলার শিকার হন। পরে তাদের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এসময় তারা আসবাবপত্র নষ্ট করে এবং ট্রাক এনে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কারখানার মালিক মনোয়ার হোসেন ওরফে অপু বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এজাহার অনুযায়ী, স্থানীয় বেলায়েত আকন্দ, সজল হোসেন ও কাজল মিয়ার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল কারখানায় হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এর আগে তারা মালিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল।
মামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বেলায়েত আকনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই কাজল আকন, তার ভাতিজা নিশাত আকন, বিএনপি কর্মী মো. সজল হোসেন, সাদিকুল, মো. ফাহিম, আজিজ মৌলভি ও বোরহানউদ্দিন। অধিকাংশ আসামির বাড়ি জিন্দা গ্রামে।
এজাহারে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা নগদ অর্থসহ প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। মনোয়ার হোসেন বলেন, বেলায়েত আকন ও নিশাত আকন সভাপতি মাহফুজুর রহমানের নাম ব্যবহার করে একাধিকবার চাঁদা দাবি করেছেন। তিনি বিষয়টি অন্তত চারবার মাহফুজুর রহমানকে জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন। তবে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো চাঁদা দাবিকারীদের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে তার অভিযোগ।
মনোয়ার হোসেনের আরও দাবি, ঘটনার সময় মাহফুজুর রহমান উপস্থিত না থাকলেও তার নির্দেশেই হামলা ও লুটপাট হয়েছে। তিনি এজাহারে মাহফুজুর রহমানকে ‘হুকুমের আসামি’ হিসেবে উল্লেখ করতে চাইলেও থানার ওসি নাম বাদ দিতে বলেন বলে অভিযোগ করেন। পরে বাধ্য হয়ে তার নাম ছাড়া মামলা দায়ের করেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কাউকে নাম বাদ দিতে বলেননি; কেবল সত্য ঘটনা উল্লেখ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, কারখানা মালিকের সঙ্গে তার পরিচয় নেই। আর চাঁদা দাবির বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছিল এ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। জানালে তিনি ব্যবস্থা নিতেন। ঘটনার দিন থানা থেকে ফোন পেয়ে খোঁজ নিতে তিনজনকে পাঠিয়েছিলেন বলেও জানান মাহফুজুর। পরে শুনেছি ওই তিনজনের নামেই মামলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কারখানায় পরিবেশ দূষণকারী ব্যাটারি উৎপাদন করা হয় বলে শুনেছি। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
এ বিষয়ে মনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি সরাসরি নয়, লোক মারফত বিষয়টি জানিয়েছিলেন। আর তার কারখানায় কেবল রপ্তানিমুখী জিআই তার উৎপাদন হয়; ব্যাটারি তৈরির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
মনোয়ার হোসেন দাবি করেন, মামলা তুলে নিতে মাহফুজুর রহমানের নাম ব্যবহার করে তাকে দুই দফা হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য রূপগঞ্জ থানার ওসি মো. সবজেল হোসেনকে নির্দেশ দেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। পরে স্থানীয় জিন্দাপার্কের ভেতর থেকে প্রধান আসামি বেলায়েত আকনকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। কিন্তু কিছুক্ষণ পর পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বেলায়েত আকনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ সুপার বলেন, তিনি বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
ওসি মো. সবজেল হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে আসামিকে ধরার চেষ্টা চলছে এবং মামলাটি অন্য সংস্থায় দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
আসামি ধরে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সেখানে অনেক লোকজন ছিল। প্রধান আসামিকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। আসামির কৌশলে সরে যাওয়ার ঘটনা হতে পারে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, চাঁদার চাপ আগেও ছিল। তবে এভাবে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় আতঙ্ক বেড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মামুন মাহমুদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য হলে এটি ফৌজদারি অপরাধ। এতে জড়িতরা যত বড় নেতাই হোক, দল তাদের অপরাধী হিসেবেই দেখবে। দলীয় পরিচয়ে কেউ ছাড় পাবে না। তিনি জানান, যেহেতু মামলা হয়েছে, বিষয়টি আইনগতভাবে দেখা উচিত এবং দলীয়ভাবেও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদা না দেওয়ায় কারখানায় হামলা, কোটি টাকার মালামাল লুট
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় বিএলও ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, সন্ত্রাসীরা নগদ অর্থসহ প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
কারখানাটিতে জিআই তার উৎপাদন হয়। এই তার সুইজারল্যান্ড, জার্মানিসহ ১২টি দেশে রপ্তানি হয়।
কারখানার ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কারখানাটিতে কর্মীদের মারধর, ভাঙচুর এবং ট্রাক এনে মালামাল লুট করা হয়েছে। হামলার পর দুই দিন উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে শিল্প পুলিশের পাহারায় সীমিত পরিসরে উৎপাদন শুরু হয়।
স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে এই ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় বিএনপির কিছু লোক রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের পরিচয় ব্যবহার করে কোম্পানির মালিক মনোয়ার হোসেনের কাছে এককালীন ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। এছাড়া তারা মাসে ১ লাখ টাকা করে দেওয়ারও দাবি জানায়। চাঁদা না দেওয়ায় তারা প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালিয়েছে।
গত শুক্রবার কারখানার মালিক মনোয়ার হোসেন জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে কারখানায় লুটপাট শুরু হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। অভিযোগ করে তিনি বলেন, কারখানা থেকে রূপগঞ্জ থানা ১৫-২০ মিনিটের পথ। তবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর। এর আগেই হামলাকারীরা সরে পড়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার তিন শ্রমিক ও স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, হামলাকারীরা শাবল দিয়ে প্রধান ফটক ও সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢোকে। বাধা দিতে গেলে ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ খানকে মারধর করে। তাকে রক্ষা করতে এলে কর্মচারী জুলহাস উদ্দিনও হামলার শিকার হন। পরে তাদের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এসময় তারা আসবাবপত্র নষ্ট করে এবং ট্রাক এনে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কারখানার মালিক মনোয়ার হোসেন ওরফে অপু বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এজাহার অনুযায়ী, স্থানীয় বেলায়েত আকন্দ, সজল হোসেন ও কাজল মিয়ার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল কারখানায় হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এর আগে তারা মালিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল।
মামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বেলায়েত আকনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই কাজল আকন, তার ভাতিজা নিশাত আকন, বিএনপি কর্মী মো. সজল হোসেন, সাদিকুল, মো. ফাহিম, আজিজ মৌলভি ও বোরহানউদ্দিন। অধিকাংশ আসামির বাড়ি জিন্দা গ্রামে।
এজাহারে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা নগদ অর্থসহ প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। মনোয়ার হোসেন বলেন, বেলায়েত আকন ও নিশাত আকন সভাপতি মাহফুজুর রহমানের নাম ব্যবহার করে একাধিকবার চাঁদা দাবি করেছেন। তিনি বিষয়টি অন্তত চারবার মাহফুজুর রহমানকে জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন। তবে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো চাঁদা দাবিকারীদের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে তার অভিযোগ।
মনোয়ার হোসেনের আরও দাবি, ঘটনার সময় মাহফুজুর রহমান উপস্থিত না থাকলেও তার নির্দেশেই হামলা ও লুটপাট হয়েছে। তিনি এজাহারে মাহফুজুর রহমানকে ‘হুকুমের আসামি’ হিসেবে উল্লেখ করতে চাইলেও থানার ওসি নাম বাদ দিতে বলেন বলে অভিযোগ করেন। পরে বাধ্য হয়ে তার নাম ছাড়া মামলা দায়ের করেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কাউকে নাম বাদ দিতে বলেননি; কেবল সত্য ঘটনা উল্লেখ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, কারখানা মালিকের সঙ্গে তার পরিচয় নেই। আর চাঁদা দাবির বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছিল এ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। জানালে তিনি ব্যবস্থা নিতেন। ঘটনার দিন থানা থেকে ফোন পেয়ে খোঁজ নিতে তিনজনকে পাঠিয়েছিলেন বলেও জানান মাহফুজুর। পরে শুনেছি ওই তিনজনের নামেই মামলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কারখানায় পরিবেশ দূষণকারী ব্যাটারি উৎপাদন করা হয় বলে শুনেছি। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
এ বিষয়ে মনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি সরাসরি নয়, লোক মারফত বিষয়টি জানিয়েছিলেন। আর তার কারখানায় কেবল রপ্তানিমুখী জিআই তার উৎপাদন হয়; ব্যাটারি তৈরির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
মনোয়ার হোসেন দাবি করেন, মামলা তুলে নিতে মাহফুজুর রহমানের নাম ব্যবহার করে তাকে দুই দফা হুমকি দেওয়া হয়েছে।
মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য রূপগঞ্জ থানার ওসি মো. সবজেল হোসেনকে নির্দেশ দেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। পরে স্থানীয় জিন্দাপার্কের ভেতর থেকে প্রধান আসামি বেলায়েত আকনকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। কিন্তু কিছুক্ষণ পর পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বেলায়েত আকনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ সুপার বলেন, তিনি বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
ওসি মো. সবজেল হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে আসামিকে ধরার চেষ্টা চলছে এবং মামলাটি অন্য সংস্থায় দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
আসামি ধরে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সেখানে অনেক লোকজন ছিল। প্রধান আসামিকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। আসামির কৌশলে সরে যাওয়ার ঘটনা হতে পারে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, চাঁদার চাপ আগেও ছিল। তবে এভাবে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় আতঙ্ক বেড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মামুন মাহমুদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য হলে এটি ফৌজদারি অপরাধ। এতে জড়িতরা যত বড় নেতাই হোক, দল তাদের অপরাধী হিসেবেই দেখবে। দলীয় পরিচয়ে কেউ ছাড় পাবে না। তিনি জানান, যেহেতু মামলা হয়েছে, বিষয়টি আইনগতভাবে দেখা উচিত এবং দলীয়ভাবেও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




