রূপগঞ্জে পোশাক শ্রমিকদের অবরোধ, মহাসড়কে যানজট

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
রূপগঞ্জে পোশাক শ্রমিকদের অবরোধ, মহাসড়কে যানজট

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বকেয়া বেতন-ভাতার দাবি এবং শ্রমিক ছাটাই ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিকরা। অবরোধের কারণে মহাসড়কে ১৮ কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী সাধারণ। আটকা পড়ে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স।

শনিবার ( ২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন বি ব্রাদার্স কোম্পানি লিমিটেডের শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মাঝে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। উত্তেজিত শ্রমিকরা সড়কে আটকা পড়া বাস-ট্রাক-সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর করে। এ সময় টিয়ারশেলের ধোঁয়া এবং ইট-পাটকেলের আঘাতে শ্রমিক, পুলিশ, পথচারী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন হয়েছেন।

ভুক্তভোগী শ্রমিক আয়েশা আক্তার, ফোরকান হোসেন, রহমত আলী, বিলকিস বেগম বলেন, মইকুলি এলাকার বি ব্রাদার্স কোম্পানিতে আমরা ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন আমরা পাওনা। আমাদের সহকর্মীদের আটকে রেখে নির্যাতন চালায় মালিকপক্ষ। এ নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরেই বিরোধ চলছে।

শনিবার সকালে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে কাজে যোগদান না করে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে কিছু শ্রমিক কারখানার সামনে অবস্থান নেন। বাকি শ্রমিকদের কারখানার ভেতরেই আটকে রাখে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে কারখানার ভেতর ও বাইরের শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, কারখানার ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং সেকশনের শ্রমিক সজীব মিয়া প্রতিবাদ করায় তাকে বেধড়ক পেটায় মালিকপক্ষের লোকজন। এছাড়া যারা প্রতিবাদ করতেন তাদেরকে ছাঁটাই করা হয়েছে। বকেয়া বেতন না পেয়ে রমজানে তারা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। মুদি দোকানি ও বাড়িওয়ালারা টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছেন।

শ্রমিকদের একটি সূত্র জানায়, কারখানার মালিক নুরুল হক মোহন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমানে কারখানার জিএম শরীফ আহমেদ ও এজিএম নুর ইসলাম হাদী শ্রমিকদের নির্যাতন ও গালমন্দ করে নানা ধরনের হয়রানি করছেন। শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

শ্রমিকরা অবরোধ করায় মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী সাধারণ। ক্ষুব্ধ হয়ে বাসচালক কেরামত মিয়া ও বকুল আহম্মেদ বলেন, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছি। তাদের প্রশ্ন, বেতনের বিষয় নিয়ে শ্রমিকরা মালিকপক্ষের সঙ্গে বসবে। সড়কে কেন?

এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তারা রাজি হননি। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

/এসআর/