শিরোনাম

সাউন্ড বক্সে গান বাজানো নিয়ে মুসল্লিদের কড়াকড়ি

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা
সাউন্ড বক্সে গান বাজানো নিয়ে মুসল্লিদের কড়াকড়ি
প্রতীকী ছবি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের একটি গ্রামে সাউন্ড বক্স ও মাইক বাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে গ্রামটির মসজিদ কমিটি।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিনব্যাপী প্রচার মাইকের মাধ্যমে এলাকায় এ ঘোষণা দেয় বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদ কমিটি।

জানা গেছে, মসজিদ থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে জমারত আলী ও রুপা খাতুন দম্পতির বাড়ি। তাদের এতিম নাতি আলিফের (৭) শখ মেটাতে তার খতনা অনুষ্ঠানে ঈদের পরের বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বাড়িতে সাউন্ড বক্স বাজানো হচ্ছিল। এতে মুসল্লিরা অস্বস্তি বোধ করলে সাউন্ড বক্স বাজানো বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটলে পরদিন শুক্রবার (২৭ মার্চ) আলোচনা সাপেক্ষে গ্রামে মাইক ও সাউন্ড বক্স বাজানো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় মসজিদ কমিটি।

অভিযোগের বিষয়ে রুপা খাতুন বলেন, ‘নাতির শখ পূরণ করতে খতনা অনুষ্ঠানে মাত্র এক দিন বক্স বাজানো হয়েছে। তবে নামাজ ও আজানের সময় বন্ধ ছিল। সব সময় সাউন্ডও কম থাকত। তবু শত্রুতা করে মসজিদ কমিটির কিছু লোক প্রভাব দেখিয়ে গ্রামে ঝৈঝামেলা করতেছে।’

বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী বলেন, শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে মসজিদ কমিটির সদস্যরা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেন যে বড় মাজগ্রাম মহল্লার অধীনে কোনো বাড়িতে সাউন্ড বক্স ও মাইক সেট বাজানো হলে ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থানের সব কার্যকলাপ থেকে তাদের বহিষ্কার করা হবে। মসজিদের উন্নয়নে তাদের থেকে কোনো সহায়তা নেওয়া হবে না। কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এককথায় সামাজিকভাবে তাদের বর্জন করা হবে।

তিনি বলেন, কোরআনে গানবাজনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবু সম্প্রতি কিছু বিয়ে, সুন্নতে খতনা উপলক্ষে বাড়িতে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজানো হয়েছে। এতে অসুস্থ মানুষসহ সবার স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট স্থানে প্যান্ডেল করে অনুষ্ঠান করতে কোনো বাধা নেই।

বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদের সভাপতি আমির হোসেন বলেন, সব ধরনের গানবাজনা বন্ধ বিষয়টি ঠিক ও রকম নয়। উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স ও মাইক বাজানো বন্ধের বিষয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মাইকিংয়ে কী প্রচারিত হয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেছেন।

কুমারখালীর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস বলেন, ‘প্রত্যেকটা মানুষ স্বাধীন। আমরা কারও ওপর কিছু চাপায় দিতে পারি না। এটা বন্ধ করার আইন-এখতিয়ার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই। প্রত্যেকটা ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি নিজস্ব চেতনা আছে। এটা সৃষ্টির শুরু থেকেই আছে। সুতরাং বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

/এসবি/