শিরোনাম

সেতু ভেঙে ৫ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

জামালপুর সংবাদদাতা
সেতু ভেঙে ৫ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসমান সেতু ভেঙে ৫ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (২৩ মার্চ) সিটিজেন জার্নালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী।

জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর স্থাপিত ড্রাম ব্রিজ একটি জয়প্রিয় বিনোদন কেন্দ্র। পাশাপাশি নদের দুই পারের লোকজনের যাতায়াতের একটি অস্থায়ী পথও এটি। প্লাস্টিকের ড্রাম, কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি এ সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ গজ। নদীর উপর পানিতে ভাসমান থাকার কারণে বিনোদনপ্রেমীদের জন্য সেতুটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়।

প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ সেতুটি একনজর দেখার জন্য ভিড় করেন। ভিড়কে পুঁজি করে সেতুর দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ফাস্ট ফুডের দোকান। দর্শনার্থীরা ভাসমান সেতুতে উঠে ভিডিও ধারণ, ছবি ও সেলফি তুলে থাকেন। সাধারণ দিবস ছাড়াও বছরের বিশেষ কিছু দিবস যেমন বিজয় দিবস, ঈদ, স্বাধীনতা দিবস, পূজা ও সরকারি ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের ঢল নামে সেতুসহ আশপাশের এলাকায়।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সম্প্রতি ভাসমান সেতুটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। সেতুটি সংস্কারের জন্য জনসাধারণের কাছ থেকে বারবার দাবি উঠলেও সংস্কার হয়নি।

সবশেষ ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক মানুষ ব্রহ্মপুত্র নদের পারে ঘুরতে আসে। এ সময় শতাধিক মানুষ ভাসমান ড্রাম ব্রিজে ওঠে। হঠাৎ অতিরিক্ত চাপে ব্রিজটি ভেঙে যায়। এতে শিশুসহ সবাই পানিতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ তল্লাশির পর একে একে ৫ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা শিশুরা হলো– দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের জয়নাল মিয়ার মেয়ে মায়ামনি (১০) ও ছেলে মোহাম্মদ মিহাদ (১২), ঝালচর গ্রামের শের আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬) ও মেয়ে খাদিজা (১২) এবং বেলতলি বাজারের হাবিবুল্লাহর ছেলে আবির হোসেন (১৪)।

রবিবার (২২ মার্চ) সকালে শিশুদের লাশ নিজ নিজ পরিবারের তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়েছে। জানাজার নামাজে জামালপুর-১ আসনের সাংসদ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ছাড়াও প্রশাসনের লোকজন ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, মর্মান্তিক এ ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদকে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুমি আক্তারকে।

জানতে চাইলে কমিটির প্রধান একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ জানান, আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে ৭ কর্মদিবস। আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানার জন্য ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। কমিটির মতামত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এফসি/