
সিটিজেন ডেস্ক

ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠলে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থানরত যাত্রীদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
দেশটির চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য ইসরায়েলের আকাশে ধেয়ে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলাকালে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা সকল যাত্রীকে নিরাপত্তার স্বার্থে নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
অন্যদিকে, ‘হারেৎজ’ পত্রিকা জানিয়েছে, নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রটিতে ক্লাস্টার ধরনের যুদ্ধাস্ত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এছাড়া পৃথক আরেকটি ঘটনায়, ‘ইসরায়েল হায়োম’ দৈনিক জানিয়েছে যে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আশকেলনে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি ভবনের ক্ষতি হয়েছে।
একই সঙ্গে দক্ষিণ ইসরায়েলের ইয়াদ মোরদেচাই এলাকাতেও ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু টুকরো পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং উল্লেখযোগ্য সম্পদ ক্ষতির তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এ ধরনের হামলার ফলাফল মারাত্মক এবং অপূরণীয় হতে পারে।
পেসকভের ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো যে কোনো পরিস্থিতিতেই অত্যন্ত বিপজ্জনক। এ কারণে রাশিয়া শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল অবস্থান নিয়ে আসছে এবং ধারাবাহিকভাবে তাদের উদ্বেগ জানিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতকে সামরিক পথে না নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগিয়ে নেওয়াই ছিল যুক্তিসঙ্গত পথ। তার মতে, বর্তমান যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা প্রশমনের জন্য কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে কেবল সংলাপ ও কূটনীতিই ভূমিকা রাখতে পারে।
এর আগে ১৭ মার্চ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানায়, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে, চালু বিদ্যুৎ ইউনিটের খুব কাছাকাছি একটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ভবনের পাশের এলাকায় হামলা চালানো হয়েছিল। এই ঘটনাই পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

চলমান সংঘাতের তিন সপ্তাহ পার হতে না হতেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। বিভিন্ন দেশে অন্তত ৪০টিরও বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। এর মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষ থেকেই আরও হামলার হুমকি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল জানিয়েছেন, অঞ্চলটির অন্তত নয়টি দেশে ছড়িয়ে থাকা এসব স্থাপনা ‘গুরুতর বা অত্যন্ত গুরুতর’ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তার মতে, এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি যদি এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে কোনো দেশই রক্ষা পাবে না। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ, মূল্য এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
ফাতিহ বিরোল আরও উল্লেখ করেন, এই সংকটের সম্মিলিত প্রভাব ইতোমধ্যেই অতীতের বড় বড় জ্বালানি সংকটগুলোর তুলনায় বেশি তীব্র হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট এবং সাম্প্রতিক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় গ্যাসবাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়েও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে চীন। বেইজিং সতর্ক করে বলেছে, এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে ব্যাপক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।
ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য প্রসঙ্গে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, যুদ্ধ যদি আরও বিস্তৃত হয় এবং পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যই এক ধরনের অনিয়ন্ত্রিত বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত হতে পারে।
চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই চীন দুই পক্ষকেই সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তারা বারবার বলেছে, উত্তেজনা না বাড়িয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসাই একমাত্র কার্যকর পথ, যাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং সংঘাতের বিস্তার রোধ করা যায়।
এর আগে জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছিল বেইজিং। তখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর চীন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চীনের উদ্বেগ বিশেষভাবে বাড়ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চীনের প্রায় অর্ধেক তেল আমদানি হয়। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল ৯০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে বলে জানা গেছে।
যদিও চীনের কাছে তিন থেকে চার মাসের অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে, তবুও যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ না থাকায় বেইজিং দীর্ঘমেয়াদে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে তীব্র ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন। তিনি ট্রাম্পের পরিচিত বাক্যধারাই ব্যবহার করে বলেন, ‘আপনাকে বরখাস্ত করা হলো।’
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একীভূত কমান্ড কাঠামোর অংশ খাতাম-আল আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান থেকে পরিচিত বিদায়ী বাক্যটি ব্যবহার করে তিনি তাকে বিদ্রূপ করেন।
তার বক্তব্যে জুলফাগরি বলেন, ‘এই ট্রাম্প, আপনাকে বরখাস্ত করা হলো! এই বাক্যটির সঙ্গে আপনি নিশ্চয়ই পরিচিত। বিষয়টি আপনার নজরে আনার জন্য ধন্যবাদ।’
এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক কটাক্ষ হিসেবেই দেখা হচ্ছে, যা বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের কথার লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাজ্যকে লক্ষ্যবস্তু করছে—এমন কোনো তথ্য বা ইঙ্গিত বর্তমানে নেই।
এর আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছিল, ইরানের কাছে এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সক্ষমতা থাকলে লন্ডন, প্যারিস কিংবা বার্লিনের মতো ইউরোপীয় শহরগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।
ডিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার চেষ্টা চালানোর খবর প্রকাশের পরই আইডিএফ এই মন্তব্য করে। ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত এই ঘাঁটিটি ইরান থেকে প্রায় ৩ হাজার ৮ শত কিলোমিটার দূরে এবং এটি মার্কিন দূরপাল্লার বোমারু বিমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত।
এ প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্য নিয়মিতভাবে নিজেদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে থাকে এবং এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যে দেশটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন ও দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা তার প্রধান দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি উত্তেজনা প্রশমনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা জরুরি।
স্টারমার উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের অংশ। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যুক্তরাজ্য তার স্বার্থ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে না—এই নীতিতেই তারা অটল রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠছে। ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, দেশের উপকূল বা দ্বীপাঞ্চলে কোনো ধরনের হামলার চেষ্টা হলে পারস্য উপসাগরের সব গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সামুদ্রিক মাইন বসানো হবে।
এদিকে, ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের সংকট ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাপরিচালক মজিদ ফারশি জানিয়েছেন, তাবরিজ শহরে সংঘটিত দুটি পৃথক হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
লেবাননের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের টায়ার শহরের শাহাবিয়া এলাকায় চালানো এক বিমান হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। চীন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা একটি “দুষ্টচক্রে” পরিণত হতে পারে। তাই তারা সামরিক অভিযান বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। টানা নবম লেনদেন সেশনে পতনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সোনার দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,২১৪ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে এসেছে।

দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে রাতভর একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী খিয়াম ও নাবাতিয়া এলাকা থেকে শুরু করে উপকূলীয় শহর টায়ারের কাছের শেহাবিয়েহ পৌরসভা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এসব হামলা হয়।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এসব আক্রমণে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এই হামলাগুলো মূলত একটি চলমান স্থল অভিযানের সহায়ক হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে, যা ইসরায়েল সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামকে ঘিরে কেন্দ্রীভূত। বিশেষ করে খিয়াম শহরে ইসরায়েলি বাহিনী ভেতরে প্রবেশ করে অভিযান চালালেও এখনো পুরো এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
এদিকে, হিজবুল্লাহও পাল্টা প্রতিরোধ জোরদার করেছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা খিয়াম এলাকার আশেপাশে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক রকেট হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, তারা মোট ৬৩টি অভিযান পরিচালনা করেছে, যার বেশিরভাগই রকেট হামলা। এর পাশাপাশি ড্রোন এবং কামানের গোলাও ব্যবহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংঘাতের বিস্তৃত প্রভাব পড়েছে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপরও। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। উপকূলীয় মহাসড়কের প্রধান একটি সেতু গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া আজ ভোরে আরেকটি সেতুর ছবি প্রকাশিত হয়েছে, যা আগেও হামলার শিকার হলেও তখন পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।

নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল সরকার। এ সিদ্ধান্তের পর দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থা এল আল জানিয়েছে, তারা নিজেদের কার্যক্রম নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে পর্যালোচনা করছে।
ইরান–ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এল আল মূলত বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগর তীরবর্তী শহর এইলাতের কাছাকাছি অবস্থিত রামোন বিমানবন্দর চালুর আহ্বান জানিয়েছে।
রবিবার গভীর রাতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণের সংখ্যা কমানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তার মতে, ইতোমধ্যে এক লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ দেশে ফিরে আসার পর নতুন নিয়মে প্রতিদিন একটি আগমনী ফ্লাইট সীমাহীন যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পারবে। অন্যদিকে, বহির্গামী ফ্লাইটে প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫০ জন যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, তেল আবিব থেকে চার ঘণ্টারও বেশি দূরত্বে অবস্থিত রামোন বিমানবন্দরটি এইলাত শহরের কাছে। এই অঞ্চলটি জর্ডানের আকাবা এবং মিশরের তাব্বা সীমান্তের নিকটে অবস্থিত, যেখানে ইতোমধ্যে কয়েকটি ইসরায়েলি এয়ারলাইন সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা পরিষদ জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলা হলে তার কঠোর জবাব দেবে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগরজুড়ে সামুদ্রিক মাইন পেতে রাখার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দেশটি।
মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপ দখল বা অবরোধের সম্ভাব্য পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। এই দ্বীপটি ইরানের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল এখান থেকে রপ্তানি হয়।
এ প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিরক্ষা পরিষদ এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, ইরানের উপকূল বা দ্বীপাঞ্চলে যেকোনো হামলার চেষ্টা হলে উপসাগরের সব প্রবেশপথে বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাইন পেতে রাখা হবে। এর মধ্যে উপকূল থেকে নিক্ষেপযোগ্য ভাসমান মাইনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে পুরো পারস্য উপসাগর কার্যত দীর্ঘ সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালীর মতো অচল অবস্থায় পড়ে যেতে পারে। ১৯৮০-এর দশকে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাতা মাইন অপসারণে শতাধিক মাইনসুইপার ব্যবহার করেও সফল না হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয় ইরান।
তবে প্রতিরক্ষা পরিষদ জানিয়েছে, যেসব দেশ এই সংঘাতে সরাসরি জড়িত নয়, তারা চাইলে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে যাতায়াত চালিয়ে যেতে পারবে।