শিরোনাম

বোয়ালমারীতে খাল খননের আড়ালে শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
বোয়ালমারীতে খাল খননের আড়ালে শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে খাল খননের আড়ালে সামাজিক বনায়নের শতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এসব গাছ খালের দুই পাড়ে সবুজ বেষ্টনি তৈরি করেছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

জানা গেছে, উপজেলার গুনবাহা ইউনিয়নের নদীয়ারচাঁদ এলাকার মধুমতি নদী থেকে কামারগ্রাম স্লুইসগেট পর্যন্ত খালের দুই কিলিমিটার অংশে খনন কাজ চলমান রয়েছে। প্রায় ১৫ বছর আগে খালোর দুই পাড়ে ১০ হাজার কড়ই, মেহগনি ও শিশু গাছ রোপণ করে বন বিভাগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের দক্ষিণ পাড় থেকে অন্তত শতাধিক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার কোনো বিধান নেই।

এ ঘটনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে আহ্বায়ক করে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী শনিবারের (২৩ মে) মধ্যে কমিটির তদন্ত কাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। তদন্তকালে কতগুলো গাছ কাটা হয়েছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। তবে সিরাজুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, খাল খনন প্রকল্পের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত থাকলেও গাছ কাটার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

ওই পোস্টে তিনি আরও লিখেন 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

উপজেলা বন কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, খালপাড়ের গাছ পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খননের সুবিধার্থে গাছ অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে, তবে নিয়মের বাইরে কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, গাছ কাটার জন্য বন বিভাগ থেকে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রাকিবুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে গাছ কাটা হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি গাছ কেউ ব্যক্তিগতভাবে কেটে নিতে পারবে না। নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

ফরিদপুর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া কোনো গাছ কাটার সুযোগ নেই। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এসআর/